
জেনেভা: মুম্বই হামলার অন্যতম চক্রী হাফিজ সইদ (Hafiz Saeed)। বহু বছর ধরে তাঁকে তন্ন তন্ন করে খুঁজছে ভারতের গোয়েন্দারা, কিন্তু কোথাও তাঁর টিকি পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে জানা যায়, পড়শি দেশ পাকিস্তানে গা ঢাকা দিয়ে রয়েছে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হাফিজ সইদ। ভারতের তরফে তাঁকে প্রত্যার্পণের জন্য পাকিস্তানের কাছে আবেদনও জানানো হয়, কিন্তু সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিল পাকিস্তান (Paskistan)। এতদিন বাদে জানা গেল, দীর্ঘ এত বছর ধরে পাকিস্তানে কী করছেন মুম্বই হামলার অন্যতম চক্রী। রাষ্ট্রপুঞ্জের তরফে জানানো হয়েছে, পাকিস্তানের জেলে সাজা কাটছেন হাফিজ সইদ। ৭৮ বছরের সাজা দেওয়া হয়েছে তাঁকে। ৭টি সন্ত্রাসমূলক হামলায় আর্থিক মদত দেওয়ার অভিযোগেই তাঁকে এই সাজা দেওয়া হয়েছে।
২০০৮ সালেই হাফিজ সইদকে ‘আন্তর্জাতিক জঙ্গি’ হিসাবে ঘোষণা করে রাষ্ট্রপুঞ্জ। তাঁকে গ্রেফতারের জন্য শুধু ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাই নয়, ইন্টারপোলও বহু চেষ্টা করেছে, কিন্তু কিছুতেই নাগাল পাওয়া যায়নি সইদের। মঙ্গলবার রাষ্ট্রপুঞ্জের তরফে জানানো হয়, ২০২০ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে পাকিস্তানে সাজা কাটছে হাফিজ সইদ। সন্ত্রাসমূলক ৭টি মামলায় আর্থিক মদত দেওয়ার অভিযোগেই ৭৮ বছরের সাজা দেওয়া হয়েছে তাঁকে। সংবাদসংস্থা পিটিআই সূত্রে জানা গিয়েছে এই তথ্য।
রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা কাউন্সিল কমিটির তরফে লস্কর-ই-তৈবার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা হাফিজ আব্দুল সালাম ভুট্টাভির মৃত্যুও নিশ্চিত করা হয়েছে। এই ভুট্টাভি-ই ২০০৮ সালে মুম্বইয়ে জঙ্গি হামলায় অভিযুক্তদের প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন। গত বছরের মে মাসে পাকিস্তানের পঞ্জাব প্রদেশের একটি জেলে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ডিসেম্বর মাসেই ভারত পাকিস্তানের কাছে হাফিজ সইদকে প্রত্যার্পণের জন্য আবেদন জানিয়েছিল। সেই দাবি খারিজ করে দিয়েছিল ইসলামাবাদ। তাদের দাবি ছিল, হাফিজ সইদকে ফেরানোর ক্ষেত্রে আইনি প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। তাছাড়া ভারতের সঙ্গে বন্দি প্রত্যার্পণের কোনও চুক্তিও করা হয়নি।
অন্যদিকে, পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম দ্য ডন সূত্রেই জানা গিয়েছিল, চলতি বছরের পাকিস্তান সাধারণ নির্বাচনে দাঁড়াতে পারেন জঙ্গি নেতা হাফিজ সইদ ও তাঁর ছেলে। পাকিস্তান মার্কাজি মুসলিম লিগ নামক একটি নতুন রাজনৈতিক দল তৈরি হয়েছে। এর পিছনে সরাসরি সমর্থন রয়েছে হাফিজ সইদের।