
তেহরান ও ওয়াশিংটন: খাতায়-কলমে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি (US-Iran Ceasefire)। ঘটা করে চুক্তি সইও হয়েছিল। কিন্তু, যুদ্ধে আর বিরতি দিল না আমেরিকা ও ইরান। ফের মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে ঘনীভূত যুদ্ধের কালো মেঘ। সম্প্রতি, ইরানের উপর হামলা চালিয়েছে আমেরিকা (US Strikes on Iran)। পাল্টা জবাবও দিয়েছে তেহরান। ইরানের রেভলিউশনারি গার্ডের (IRGC) তরফে দাবি করা হয়েছে, কুয়েত (Kuwait) ও বাহরিনের (Bahrain) মার্কিন ঘাঁটিগুলিতে অভিযান চালিয়েছেন তাঁরা। শুধু তাই নয়, আমেরিকার সেনাবাহিনীকে চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, পরবর্তীতে হামলা চালালে ছেড়ে কথা বলবে না তাঁরা। ইরানের চরম হুঁশিয়ারি, নরকের অভিজ্ঞতা হবে আমেরিকার।
ইরান-আমেরিকার মধ্যে যুদ্ধবিরতির পরেও নতুন করে পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। দুই দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে। হরমুজ প্রণালীতে একটি জাহাজের উপর ড্রোন হামলার পর থেকেই নতুন করে পরিস্থিতি জটিল হতে শুরু করে। আমেরিকার অভিযোগ, হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়ার সময় পানামার পতাকাবাহী তেলবাহী জাহাজ’কিকু’-তে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। হোয়াইট হাউজ় সূত্রে খবর, সেই ঘটনার জবাব দিতেই শনিবার রাতে নতুন করে হামলা চালায় মার্কিন সেনাবাহিনী।
মার্কিন বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে, তাদের সর্বশেষ অভিযানে ইরানের মোট ১০টি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে। হামলার একটি ৩৮ সেকেন্ডের ভিডিওও প্রকাশ করেছে সেন্টিকম। দাবি, শুক্রবারের পাল্টা হামলার পর ইরানকে যুদ্ধবিরতি মেনে চলার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শনিবার সকালে ‘কিকু’ জাহাজে ড্রোন হামলা চালিয়ে তেহরান সেই চুক্তি লঙ্ঘন করেছে।
এর আগের দিনও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণ কেন্দ্র এবং উপকূলীয় রাডার ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছিল আমেরিকা। অভিযোগ ছিল, হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়া একটি মালবাহী জাহাজে হামলা করেছিল ইরান। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলেও সেন্টিকম জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল এখনও স্বাভাবিক রয়েছে। তবে মার্কিন বাহিনী সতর্ক রয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানকে। স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, প্রয়োজনে আমেরিকা আবার পূর্ণমাত্রায় সামরিক অভিযান শুরু করবে। ট্রাম্পের দাবি, ইরান বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে। যদি এরপরেও তারা না থামে, তাহলে এমন পরিস্থিতি আসতে পারে যখন আমেরিকা আবার পুরোদমে সামরিক অভিযান চালাবে। ইরানের আর কোনও অস্তিত্বই থাকবে না।
ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর তরফেও পাল্টা হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে নারকীয় পরিস্থিতির মুখোমুখি হবে।
মার্কিন হামলার পাল্টা জবাবে কুয়েত ও বাহরিনে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে ইরান। আইআরজিসি-র দাবি, কুয়েতের আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটি এবং বাহরিনের পোর্ট সলমনে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি-সহ মোট আটটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক জায়গায় হামলা চালানো হয়েছে। এদিকে কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করছে। দেশজুড়ে সাইরেন বাজানো হয়েছে এবং সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।