
ওয়াশিংটন ও তেহরান: আমেরিকা ও ইরানের (Iran-US) মধ্যে শান্তি চুক্তি নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে। কখনও ট্রাম্প (Donald Trump) বলছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি বা চুক্তি নিয়ে ভালো আলোচনা হচ্ছে। কখনও আবার ইরানকে তীব্র হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। যেমন সম্প্রতি, ভারতীয় নাবিকদের মৃত্যুর জন্য ঘুরিয়ে ইরানের উপরই দায় চাপাচ্ছেন ট্রাম্প। এই তপ্ত আবহে কীভাবে দুই দেশের মধ্যে শান্তি চুক্তি (Iran-US Peace Deal) সম্ভব, সেই নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে, হোয়াইট হাউজ় সূত্রে খবর, ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তি প্রায় চূড়ান্ত। এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা ৭৫ শতাংশ থেকে বেড়ে এখন ৮০-৮৫ শতাংশে পৌঁছেছে। কিন্তু, এখনও বেশ কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে দুই দেশের মধ্যে।
এক আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থাকে ওই মার্কিন কর্মকর্তা আরও জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানের সঙ্গে একটি সম্ভাব্য চুক্তিতে সই করতে পারে আমেরিকা। তবে, তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আলোচনা এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি। চুক্তি কোথায় বা কবে সই হবে, তা এখনও চূড়ান্ত নয়। ইরানের পরমাণু মজুত, হরমুজ প্রণালী সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এখনও দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য রয়ে গিয়েছে।
দুই দেশের মধ্যে শান্তি চুক্তির লক্ষ্য কী, তাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি। হোয়াইট হাউসের ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চুক্তির মূল লক্ষ্য অত্যন্ত স্পষ্ট। প্রথমত, হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া এবং অবরোধ তুলে নেওয়া। দ্বিতীয়ত, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণভাবে ভেঙে ফেলা। তৃতীয়ত, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামসহ পারমাণবিক উপাদান আমেরিকার হাতে তুলে দেওয়া। আমেরিকার প্রস্তাব অনুযায়ী, ওই উপাদান প্রথমে ধ্বংস করা হবে এবং পরে দেশ থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে।
যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে ইরান। সেক্ষেত্রে এমন জল্পনাও ছড়িয়েছে যে, ইরান চুক্তি সইয়ের সঙ্গে সঙ্গেই বিপুল আর্থিক সুবিধা পাবে। কিন্তু, জল্পনাকে উড়িয়ে দিয়েছে ওয়াশিংটন। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চুক্তির শর্ত পালন করলে ধাপে ধাপে অর্থনৈতিক সুবিধা পাবে তেহরান। ওয়াশিংটন এই চুক্তিকে বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছে।
তবে, ইরানের পক্ষ থেকে ভিন্ন ইঙ্গিত মিলেছে। বিভিন্ন রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, প্রস্তাবিত চুক্তিতে প্রথমে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে। এরপর ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আটকে থাকা সম্পদ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হবে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজ়তবা খামেনেইও এখনও সরাসরি অনুমোদন দেননি এই চুক্তিতে, এমনটাই জানা যাচ্ছে। তবে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এটা স্বীকার করে নিয়েছেন যে, চুক্তি নিয়ে আলোচনা আগের থেকে এখন অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে। তবে, পরমাণু নিয়ে আলোচনা দ্বিতীয় ধাপে হবে। তেহরানের তরফে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে, যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হবে, তা রক্ষা করতেই হবে। কোনও অজুহাত চলবে না। আসন্ন চুক্তির ক্ষেত্রে এটাই একমাত্র পথ। অন্যদিকে, মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ইরানের এই ধরনের মন্তব্য মূলত দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য করা হচ্ছে।