
ওয়াশিংটন ও তেহরান: অবশেষে যুদ্ধের মেঘ কাটল। দীর্ঘ ১৫ সপ্তাহের যুদ্ধে অবসান ঘটাল আমেরিকা ও ইরান (Iran-US Peace Deal)। দুই দেশের মধ্যে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হল অবশেষে। চুক্তি আগেই চূড়ান্ত হয়েছিল। বাকি ছিল সই-সাবুদের কাজ। আগে জানা গিয়েছিল, চলতি সপ্তাহে শুক্রবার সুইজ্যারল্যান্ডের জেনেভায় আনুষ্ঠানিক শান্তিচুক্তিতে সই করবে আমেরিকা ও ইরান। তবে, তার দুইদিন আগেই অর্থাৎ বুধবার সমঝোতাপত্রে সাক্ষর করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেস্কিয়ান (Masoud Pezeshkian)। দুই রাষ্ট্রনেতাই ডিজিট্যাল সই করেছেন বলে জানা গিয়েছে।
আমেরিকা-ইরানের চুক্তিপত্রে আগেও একবার সই-সাবুদ হয়েছে। রবিবারই চুক্তির একটি খসড়াপত্রে সই করেছিলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরান পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাকের কালিবাফ। স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গেই চুক্তি কার্যকর হয়। এবার আনুষ্ঠানিক সই সাবুদ করে যুদ্ধে ইতি টানলেন দুই দেশের প্রেসিডেন্ট। হোয়াইট হাউজ় জানিয়েছে, বুধবার জি৭ সম্মেলনের পর ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে নৈশভোজের সময়ই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সমঝোতাপত্রে স্বাক্ষর করেছেন। সই-সাবুদের ভিডিয়োও প্রকাশ করা হয়েছে। অন্যদিকে, ইরানের তরফেও চুক্তিপত্রে স্বাক্ষরের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, প্রায় চার মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসান ঘটানো এবং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী পুনরায় সচল করাই এই চুক্তির মূল লক্ষ্য। সেক্ষেত্রে এই চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পরই হরমুজ় প্রণালী সম্পূর্ণ খুলে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের হালও ফিরতে শুরু করবে। চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার ঘোষণার পরই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলে দাম কমতে শুরু করেছে। শেয়ারবাজারও ধীরে ধীরে চাঙ্গা হচ্ছে।
তবে, জেনেভায় যে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার কথা ছিল, তা না হলেও, দুই দেশের মধ্যে বৈঠক হতে পারে। জানা গিয়েছে, দুই দেশের আলোচক দল এখনও জেনেভায় বৈঠকে বসার পরিকল্পনা বজায় রেখেছে। ইরান জানিয়েছে শুক্রবারের বৈঠক চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য নয়। তবে, বৈঠক আদৌ হবে কি না, সেই সিদ্ধান্তও শীঘ্রই নেওয়া হবে বলে খবর।