
ওয়াশিংটন: যেমন কথা, তেমন কাজ। কর নিয়ে কড়াকড়ি ডোনাল্ড ট্রাম্পের। আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, এবার সত্যিই কানাডা ও মেক্সিকোর উপরে আমদানি শুল্ক বসালেন। তাও আবার ২৫ শতাংশ। ইতিমধ্যেই বিরুপ প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করেছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে।
চিন থেকে আমদানি করা পণ্যের উপরে ১০ শতাংশ শুল্ক আগেই বসিয়েছিলেন আমেরিকার নতুন প্রেসিডেন্ট। এবার সেই তালিকায় জুড়ল কানাডা ও মেক্সিকোও। তাদের উপরে ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপিয়ে দিলেন। এর যুক্তি হিসাবে ট্রাম্প বলেছেন, “আমেরিকানদের রক্ষা করতে হবে। প্রেসিডেন্ট হিসাবে আমার দায়িত্ব সকলের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। আমি নির্বাচনী প্রচারের সময়ই বলেছিলাম যে সীমান্ত থেকে অনুপ্রবেশকারীদের আটকাতে ও মাদক আমদানি রুখব। আমেরিকানরা তার সমর্থনেই আমায় ভোট দিয়েছে।”
ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ার অ্যাক্ট কার্যকর করে বিভিন্ন দেশের উপরে শুল্ক চাপাচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের তরফেও বলা হয়েছে, অনুপ্রবেশ ও মাদক নিয়ে যে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তাতে জাতীয় ইমার্জেন্সি জারি করা হয়েছে।
ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী , কানাডা ও মেক্সিকো আমেরিকায় কোনও পণ্য রফতানি করলে, তাদের ২৫ শতাংশ কর বা শুল্ক দিতে হবে। তবে কানাডা থেকে যে শক্তি আমদানি করা হত, তাতে আপাতত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। মঙ্গলবার থেকেই এই শুল্ক চালু হবে।
নতুন প্রেসিডেন্টের এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ কানাডা। প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেন, “আমরা এটা চাইনি, কিন্তু কানাডাও প্রস্তুত”। এরপরই ট্রুডো ঘোষণা করেন যে মার্কিন পণ্যেও ২৫ শতাংশ শুল্ক বসানো হচ্ছে।
ওদিকে, মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শেনবাম পারডো মার্কিন প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্ত শুনে বলেন, “শুল্ক বসিয়ে কোনও সমস্যার সমাধান হবে না। কথাবার্তা ও আলোচনার প্রয়োজন। আমি ইকোনমি সেক্রেটারিকে প্ল্যান-বি কার্যকর করতে বলেছি যেখানে শুল্ক নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
চিনের উপরেও ১০ শতাংশ শুল্ক বসিয়েছে আমেরিকা। চিন এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ করেছে। তারাও পাল্টা শুল্ক বসানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
ট্রাম্প শুধু চিন, কানাডা, মেক্সিকোতেই সীমাবদ্ধ থাকছেন না। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নেও ভবিষ্যতে শুল্ক বসানোর কথা বলেছেন। ব্রিকস সদস্য দেশগুলি, যার মধ্য়ে ভারতও রয়েছে, তাদের হুঁশিয়ারি দিয়েছে।