
আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা AI নিয়ে বিশ্বজুড়ে যে হাওয়া উঠেছিল, যাকে পোশাকি ভাষায় bubbles বলে, সেটা কি এবার চুপসে যাচ্ছে ক্রমশ? এশিয়া, ইউরোপ, আমেরিকা জুড়ে শীর্ষ AI কোম্পনিগুলোর বাজার হু হু করে পড়ে যাচ্ছে। গবেষণা খাতে বিনিয়োগ ও লাভের মধ্যে ফারাক প্রায় ট্রিলিয়ন ডলারের। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভবিষ্যতে মানবসভ্যতাকে ধ্বংস করার জল্পনা। ‘এখনই লাগাম না টানলে, ভবিষ্যতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে AI’, টেক জায়ান্টরা সতর্ক করার পরেই সিলিকন ভ্যালির স্টক নিম্নমুখী। বড় বড় AI সংস্থার কর্তারাই এবার AI নিয়ে গবেষণার গতি কমানোর পক্ষে। AI আরও উন্নত হলে, তাকে চালানোর জন্য মানুষ আদৌ বেঁচে থাকবে তো? বড় হয়ে দেখা দিচ্ছে এই প্রশ্নটা? সঙ্গে পরিবেশজনিত বিপদ তো রয়েছেই।
Anthropic, যারা বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ AI তৈরির সংস্থা, নিজেদের গবেষণার গতি কমাচ্ছে। সংস্থার CEO ড্যারিও আমোদেই সতর্ক করেছেন, বিশ্ব মানবতার জন্য ঝুঁকি কমানোর লক্ষ্যে, বেশি দেরি হওয়ার আগেই AI নিয়ে গবেষণাকে ধীরে করা হচ্ছে। এই সংস্থারই জেকব কক্সন নামের এক কর্মী পদত্যাগ করে সিলিকন ভ্যালিতে হৈচৈ ফেলে দিয়েছেন। পদত্যাগের কারণ হিসাবে নিজের এক্স হ্যান্ডেলে সকলকে সতর্ক করেছেন,
একটা পদত্যাগ ও বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি, আচমকাই বিশ্ব জুড়ে ফুলে ফেঁপে ওঠা AI bubbles -কে অনেকটা চুপসে দিয়েছে। Anthropic -এর CEO, ড্যারিও আমোদেই AI গবেষণার গতি কমানোর ঘোষণা করতেই তাঁর পদক্ষেপকে সমর্থন করেছেন আরেক AI, গ্রক -এর কর্তা ইলন মাস্ক-ও। সকলেই এক বাক্যে স্বীকার করছেন, এখন AI নিয়ে গবেষণাকে খানিকটা ‘স্লো ডাউন’ করার মাহেন্দ্রক্ষণ। তার কারণ, বিশ্ব জুড়ে AI – গবেষকদের আশঙ্কা,
আজ বিশ্বের প্রায় প্রতিটি বড় বড় সংস্থায় AI মডেল বানানোর প্রতিযোগিতায় নেমেছে। ওপেন AI ও Anthropic আধুনিক মডেল বানানোর শীর্ষ। এছাড়াও টেসলা কর্তা ইলন মাস্কের গ্রক, গুগলের জেমিনাই, ফেসবুকের মেটা AI — সকলে একে অপরকে টেক্কা দিতে নিজেদের মডেল-কে আরও উন্নত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। AI মার্কেটে বিনিয়োগকারীরা টাকাও ঢেলেছে দেদার। কিন্তু মানুষ মেরে ফেলতে পারে, এই আশঙ্কায় সংস্থাগুলি তাদের AI গবেষণা-র গতি কমাতেই এশিয়া, ইউরোপ ও ওয়াল স্ট্রিটে ধস নেমেছে।
বাস্তবে, AI পরিকাঠামো, ডেটা সেন্টার ও জিপিইউ-তে প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে, মাত্র কয়েক শতাংশই রিটার্ন পেয়েছে টেক জায়ান্টরা। MIT-র স্টাডি বলছে, AI-তে বিনিয়োগ করে ৯৫ শতাংশ সংস্থা লাভের মুখ দেখেনি এখনও। AI চাকরি খেয়ে নেবে হাওয়া উঠলেও, বাস্তবে ৯০ শতাংশ ফার্ম এখনও মানুষের বদলে AI-কে কাজ করিয়ে দিয়ে ‘শূন্য’ ফল পেয়েছেন। ফোর্ডের মতো নামকরা বড় সংস্থা AI -কে বিদায় জানিয়ে আবার মানুষকে কাজে ফেরাচ্ছে।
এই সব কিছুর সঙ্গে পরিবেশের লাগামহীন ক্ষতি তো রয়েছেই। একটা সহজ উদাহরণ দিই। AI ব্যবহার করে নিজের একটি ফটো এডিট করতে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ ডেটা সেন্টারে লাগে, তাতে আস্ত একটা স্মার্টফোন পুরো চার্জ হয়ে যেত। একটা AI জেনারেটেড ফটো তৈরিতে ডেটা সেন্টার যতটা গরম হয়, তাকে ঠান্ডা করতে ২ লিটার মিষ্টি জল লাগে। ফলে আর মাত্র পাঁচ বছরের মধ্যে AI মানুষকে মেরে ফেলবে নাকি AI-কে উন্নত করতে গিয়ে প্রকৃতিকে শেষ করে মানবসভ্যতা মুছে যাবে- এই নিয়ে এখন আড়াআড়ি দু’ভাগ সিলিকন ভ্যালি।