
নয়া দিল্লি: নিরাপদে বিনিয়োগের জন্য অনেকেই ব্যাঙ্ককেই ভরসা করে। তবে, স্বল্প বিনিয়োগে যদি ভাল রিটার্ন পেতে চান, তাহলে সবথেকে ভাল বিকল্প হতে পারে মিউচুয়াল ফান্ড (Mutual Fund)। বিশেষ করে এসআইপিতে বিনিয়োগে ভাল রিটার্ন (SIP Return) পাওয়া যায়। তবে, ঝুঁকি বেশি। সেক্ষেত্রে, এলআইসি (LIC Scheme) কিন্তু দুর্দান্ত বিনিয়োগ বিকল্প। এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এলআইসি-র বিভিন্ন স্কিমে স্বল্প বিনিয়োগে ভাল রিটার্ন (LIC Scheme Return) পাওয়া যায়। জানেন ৪৫ টাকা বিনিয়োগ করলে আপনি রিটার্ন পেতে পারেন ২৫ লক্ষ টাকা। কোন কোন প্রকল্পে এই সুবিধা পাওয়া যাবে, দেখে নেওয়া যাক
আপনি যদি কম বিনিয়োগে একটি বড় অঙ্কের রিটার্ন পেতে চান, তাহলে এলআইসি-র ‘জীবন আনন্দ’ (Jeevan Anand) আপনার জন্য একটি আদর্শ পলিসি হতে পারে। আপনি দিনে মাত্র ৪৫ টাকা অর্থাৎ প্রতি মাসে ১,৩৫৮ টাকা প্রিমিয়াম দিয়ে এই পলিসি শুরু করতে পারেন। ভবিষ্যতে এই সামান্য অর্থ ভবিষ্যতের জন্য ২৫ লক্ষ টাকা দিতে পারে। এই পলিসির ন্যূনতম মেয়াদ ১৫ বছর এবং মেয়াদপূর্তিতে আপনি বোনাস সহ এককালীন একটি বড় অঙ্কের অর্থ পাবেন।
আপনি যদি আপনার সঞ্চয় সুরক্ষিত রেখে নিশ্চিত রিটার্ন পেতে চান, তবে এই পলিসিটি আপনার জন্য সেরা হতে পারে। স্বল্প-ঝুঁকিপূর্ণ প্ল্যান হিসেবে, এটি আপনাকে জীবন বিমার সঙ্গে নির্দিষ্ট রিটার্ন এবং বোনাসের মতো দু’টি সুবিধা প্রদান করা হয়।
আপনার কাছে বিনিয়োগের জন্য যথেষ্ট পরিমাণ অর্থ থাকলে, এই পলিসিটি আপনার জন্য ভালো বিকল্প হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কোনও ৩০ বছর বয়সী ব্যক্তি যদি ২০ বছরের জন্য এই পলিসি কেনেন, তাহলে তাঁকে মাত্র ৪ বছরের জন্য বছরে প্রায় ৭.৫৯ লক্ষ টাকা প্রিমিয়াম দিতে হবে। কিন্তু পলিসির সুবিধা তিনি পুরো ২০ বছর ধরেই পাবেন।
আপনি যদি অবসর নেওয়ার পরেও জীবনে আর্থিক সুরক্ষা ও স্বচ্ছলতা বজায় রাখতে চান, তাহলে LIC-এর জীবন উমঙ্গ (Jeevan Umang) আপনার জন্য দুর্দান্ত বিকল্প হতে পারে। এই প্ল্যানে প্রিমিয়াম দেওয়ার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকেই প্রতি বছর নিশ্চিতভাবে ৮ শতাংশ মানি-ব্যাকের সুবিধা পাওয়া যায়। এই আয় আজীবন থাকবে। এছাড়াও, কোনও অপ্রত্যাশিত দুর্ঘটনা বা মৃত্যুর ক্ষেত্রে পরিবারের জন্য সম্পূর্ণ বিমা সুরক্ষাও দেওয়া হয়।
আপনার সন্তানের উচ্চশিক্ষা ও ভবিষ্যতে বিয়ের খরচ নিয়ে যদি চিন্তা থাকে, তাহলে জীবন তরুণ (Jeevan Tarun) হতে পারে নিরাপদ ও ভাল একটি স্কিম। এই প্ল্যানটি বিশেষভাবে শিশুদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। এই পরিকল্পনায় সন্তানের ২৫ বছর বয়স পর্যন্ত বিনিয়োগ করা হয়। ২০ থেকে ২৫ বছর বয়সের মধ্যে প্রতি বছর নির্দিষ্ট অঙ্কের মানি-ব্যাক সুবিধা পাওয়া যায়, যা পড়াশোনা বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খরচে সাহায্য করে। এরপর পলিসির মেয়াদ পূর্ণ হলে বোনাস-সহ একটি বড় অঙ্কের টাকা একসঙ্গে পাওয়া যায়, যা সন্তানের কেরিয়ার শুরুর সময় অত্যন্ত কাজে আসে।