
নয়া দিল্লি: পেট্রোল-ডিজ়েল বিক্রিতে (Petrol-Diesel Purchase) এবার কড়াকড়ি কেন্দ্রীয় সরকারের। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, শিল্প-বাণিজ্যিক গ্রাহকরা আর সাধারণ পেট্রোল পাম্প (Petrol Pump) থেকে জ্বালানি কিনতে পারবেন না। তাঁদের প্রয়োজনীয় জ্বালানি সংগ্রহ করতে হবে নির্দিষ্ট বাল্ক সেল পয়েন্ট বা নিজস্ব কনজিউমার পাম্পের (Consumer Pump) মাধ্যমে। প্রাথমিকভাবে এই বিধিনিষেধ ৯০ দিন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
কেন্দ্রের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু এলাকায় ডিজেলের চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গিয়েছে। বেশ কয়েকদিন ধরেই অভিযোগ উঠছে, বাল্ক ডিজ়েলের ক্রেতারা তুলনায় কম দামে সাধারণ পাম্প থেকে বেশি করে তেল কিনছেন। দামের পার্থক্যের কারণে সুযোগ নিয়ে সাধারণ পেট্রোল পাম্প থেকেই জ্বালানি কিনছিলেন বলে অভিযোগ। বর্তমানে দিল্লিতে সাধারণ পেট্রোল পাম্পে ডিজ়েলের দাম লিটার প্রতি ৯৫.২০ টাকা হলেও, বাল্ক ক্রেতাদের জন্য সেই দাম প্রায় ১৩৪.৫০ টাকা।
মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ গ্রাহকদের স্বস্তি দিতে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি খুচরো বিক্রির দাম নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। কিন্তু শিল্প ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে বাজারদর অনুযায়ী মূল্য নেওয়া হচ্ছে। ফলে এই দুই দামের মধ্যে বড় ফারাক তৈরি হয়েছে।
গত ১১ জুন পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক ‘মোটর স্পিরিট অ্যান্ড হাই স্পিড ডিজেল অর্ডার, ২০২৬’ জারি করে। সেখানে তেল বিপণন সংস্থা ও জ্বালানি বিক্রেতাদের একটি নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে। ওই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, সাধারণ পেট্রোল পাম্প থেকে যেন জ্বালানি না বিক্রি করা হয় বাল্ক ক্রেতাদের। আবার ডিজ়েল বিক্রির পাত্র নিয়েও নয়া নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, ডিজ়েল বিক্রি শুধুমাত্র যানবাহনের ফুয়েল ট্যাঙ্ক অথবা পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড এক্সপ্লোসিভস সেফটি অর্গানাইজেশন (PESO) অনুমোদিত পাত্রে করা যাবে। এছাড়া, একজন গ্রাহক বা একটি গাড়িকে দিনে সর্বাধিক ২০০ লিটার ডিজেল বিক্রি করা যাবে। এই জ্বালানি পুনরায় বিক্রি করা যাবে না বলেও স্পষ্ট জানানো হয়েছে।
কেন্দ্রের মতে, সাধারণ পেট্রোল পাম্পের মাধ্যমে বাল্ক ক্রেতাদের জ্বালানি ক্রয় বাড়তে থাকলে সাধারণ মানুষের জন্য নির্ধারিত জ্বালানি সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিতে পারে এবং জরুরি পরিষেবাও ব্যাহত হতে পারে। নতুন নির্দেশিকা কার্যকর করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থা এবং অন্যান্য অনুমোদিত জ্বালানি বিক্রেতাদের। পাশাপাশি রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে মজুতদারি, কালোবাজারি এবং জ্বালানি সরবরাহের অপব্যবহার রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।