
নয়া দিল্লি: ইরান, আমেরিকা ও ইজরায়েলের সংঘাতের প্রায় ১৫ দিন কেটে গিয়েছে। অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের উপরে থাকলে মুদ্রাস্ফীতি হতে পারে আকাশছোঁয়া, এমনটাই আশঙ্কা। গ্যাসের দাম বেড়েছে ইতিমধ্যেই। জ্বালানি তেল বা সিএনজি গ্যাস নিয়েও বাড়ছে উদ্বেগ। তবে শুধু তেলের দাম নয়, ইরানের যুদ্ধের জেরে ভারতের ঘরে ঘরে চিন্তা বাড়ছে। প্রতিদিনের ব্যবহারের কোন কোন জিনিসের দাম বাড়তে পারে, জেনে নিন।
রঙ
দেওয়ালের রঙ তৈরিতে অপরিশোধিত তেল থেকে তৈরি রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হয়। প্রায় ৬০ শতাংশ খরচ তেল-সম্পর্কিত পণ্যের উপর নির্ভর করে। তাই দীর্ঘ সময় ধরে যদি অপরিশোধিত তেলের দাম বেশি থাকে, তাহলে এপ্রিল থেকে রঙের দাম ২ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।
ভোজ্য তেল
ভারতে প্রয়োজনীয় ভোজ্য তেলের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ আমদানি করা হয়। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে তেল সরবরাহে যেভাবে ব্যাঘাত আসছে, তার জেরে দাম বাড়তে পারে। লোহিত সাগর এবং সুয়েজ খালের মতো সমুদ্রপথে সমস্যা হলে তেল পৌঁছতে সমস্যা হবে, ফলে খরচ বৃদ্ধি পাবে।
কৃত্রিম টেক্সটাইল
কৃত্রিম কাপড় তৈরিতে ব্যবহৃত কাঁচামাল পেট্রোকেমিক্যাল থেকে তৈরি হয়, যা অপরিশোধিত তেল থেকে তৈরি। এই ক্ষেত্রে পোশাক তৈরির প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ খরচ তেলের দামের সঙ্গে যুক্ত। তেলের দাম বাড়লে, স্পোর্টস জার্সি, যোগা প্যান্ট, কার্পেট এবং শিল্পজাত কাপড়ের মতো জিনিসের দামও আরও বাড়বে।
প্যাকেটজাত খাবার
মার্চের শুরু থেকে পাম তেলের দাম ইতিমধ্যেই প্রায় ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এটি প্যাকেটজাত খাবেরের দামের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিস্কুট তৈরির খরচের প্রায় ৪৫ শতাংশ পাম তেলের উপর নির্ভর করে।
বিমানের ভাড়া
পশ্চিম এশিয়ার এই সঙ্কটের কারণে বিমান জ্বালানির (ATF) দাম তীব্রভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে, এয়ার ইন্ডিয়া, এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস এবং ইন্ডিগোর ডোমেস্টিক ও আন্তর্জাতিক বিমানে জ্বালানির সারচার্জ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সাবান, শ্যাম্পু
নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দামও বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সাবান, শ্যাম্পু, ডিটারজেন্টের মতো ব্যক্তিগত ব্যবহারের পণ্যগুলিও অপরিশোধিত তেল থেকে প্রাপ্ত রাসায়নিকের উপর নির্ভর করে। তাদের কাঁচামালের খরচের প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ তেলের উপর নির্ভরশীল। প্লাস্টিকও পেট্রোলিয়াম থেকে তৈরি হয়। ফলে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লে, তাদের দামও বেড়ে যায়।
অটোমোবাইল সেক্টর
টায়ার তৈরিতে ব্যবহৃত অনেক কাঁচামাল, যেমন সিন্থেটিক রাবার, কার্বন ব্ল্যাক এবং প্রক্রিয়াকরণ তেল, অপরিশোধিত তেল থেকে তৈরি হয়। টায়ার শিল্পের মোট কাঁচামাল খরচের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ তেলের জন্য দায়ী।