
নয়া দিল্লি: চাকরিজীবীদের ভবিষ্যতের ভরসা প্রভিডেন্ট ফান্ড। অবসরের পর বাকি জীবনটুকু সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যে কাটানোর জন্য চাকরিরত অবস্থাতেই প্রতি মাসে বেতনের একটা অংশ ইপিএফ অ্যাকাউন্টে জমা পড়ে। তবে ইপিএফ (EPF) গ্রাহকরা অনেকেই জানেন না যে প্রভিডেন্ট ফান্ডে লাইফ ইন্সুরেন্স (Life Insurance) বা জীবনবিমার সুবিধাও পাওয়া যায়। এর জন্য অতিরিক্ত কোনও টাকাও লাগে না।
এমপ্লয়িজ ডিপোজিট লিঙ্কড ইন্সুরেন্সের (Employees Deposit Linked Insurance) অধীনে ইপিএফ কর্মীদের জীবনবিমার সুবিধা দেয়। যদি কর্মরত বা চাকরিরত অবস্থায় কোনও কর্মীর মৃত্যু হয়, তাহলে তাঁর পরিবার বা নমিনিকে আর্থিক সাহায্য করা হয়।
যাদের ইপিএফ অ্যাকাউন্ট থাকে, তারা আপনা-আপনিই এই ইডিএলআই (EDLI) স্কিমে জীবনবিমার সুবিধা পান। এর জন্য আলাদাভাবে রেজিস্ট্রেশন বা অ্যাপ্লিকেশনের কোনও প্রয়োজন নেই।
যদি কোনও ইপিএফ গ্রাহকের কর্মরত অবস্থায় মৃত্যু হয়, তাহলে তাঁর অ্যাকাউন্টের নমিনি বা বৈধ উত্তরাধিকারী আড়াই লাখ টাকা থেকে সাত লাখ টাকা পর্যন্ত কভারেজ পাওয়া যায়।
ইপিএফও-র জীবনবিমার সবথেকে সুবিধা হল এতে কোনও প্রিমিয়াম দিতে হয় না। ইন্সুরেন্স কভারেজের জন্য কোনও অতিরিক্ত চার্জও দিতে হয় না। যে সংস্থা কাজ করেন, সেই সংস্থাই এর সম্পূর্ণ টাকা দেয়। কর্মীর বেসিক স্যালারি ও ডিএ-র ০.৫ শতাংশ বিনিয়োগ করে সংস্থা।
যদি কোনও ইপিএফ গ্রাহক চাকরির এক বছর বা তার কম সময়ও চাকরি করেন এবং চাকরিরত অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়, তবে তার পরিবারের সদস্যরা ৫০ হাজার টাকার ন্যূনতম ইন্সুরেন্স বেনেফিট পাবেন।
যদি কারোর একটি চাকরি ছেড়ে পরবর্তী চাকরিতে যোগ দেওয়ার মাঝে কয়েক মাসের ব্যবধান থাকে, তাহলেও এই ইন্সুরেন্স কভারেজ বন্ধ হয় না। তবে এই ইন্সুরেন্সের সুবিধা পাওয়ার জন্য ইপিএফও মেম্বার পোর্টালে নমিনি ডিটেইল আপডেট থাকতে হবে। সাধারণত ক্লেম করার এক মাসের মধ্যেই নমিনি ইন্সুরেন্সের টাকা পেয়ে যান।