
কলকাতা : বাংলায় তৃণমূলের (TMC) ১৫ বছরের শাসনের অবসান। ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে বিজেপি(BJP)। এখনও পর্যন্ত যা খবর, ২০৭ আসনে জিতেছে বিজেপি। একটি আসন নিয়ে সংশয় ছিল। শেষ পর্যন্ত জানা গিয়েছে, একটি আসনে বাকি থাকা গণনাও সম্পন্ন হয়েছে। সেখানেও বিজেপিই জিতেছে। সেক্ষেত্রে বিজেপির আসন সংখ্যা বেড়েছে। তৃণমূলের ঝুলিতে শেষপর্যন্ত ৮০টি আসন। নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান ৯ মে বলে জানা গিয়েছে। এখন বিজেপির মুখ্য়মন্ত্রী কে হবেন, সেই নিয়ে জোর চর্চা চলছে। উঠে আসছে একাধিক নাম। এই বিষয়টি ছাড়া আরও একটা আলোচনা চলছে। বিজেপি সরকার গঠনের পর কোন কোন প্রকল্পের (Central Schemes) সুবিধা আবারও পেতে পারেন রাজ্যবাসী?
সরকারে থাকাকালীন তৃণমূল বারবার কেন্দ্রের বকেয়া টাকা নিয়ে অভিযোগ তুলেছে। অন্যদিকে, দিল্লি নেতৃত্বের অভিযোগ ছিল, তৃণমূলের জন্য কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা পায় না রাজ্যবাসী। একাধিক প্রকল্প আটকে রয়েছে। সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বাঙালি। তাহলে বাংলায় বিজেপি সরকার গঠন করলে কি সেই প্রকল্পগুলির সুবিধা পাবেন বঙ্গবাসী? তা তো সময়ই বলবে। তবে তার আগে দেখে নেওয়া যাক বিজেপি বাংলায় এলে কোন প্রকল্পগুলির সুবিধা পাওয়া যেতে পারে?
কেন্দ্রের প্রকল্প যেগুলো আবারও ফিরতে পারে রাজ্যে
কেন্দ্রের স্বাস্থ্য বীমা প্রকল্প আয়ুষ্মান ভারত। প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা বাংলায় খুব শীঘ্রই চালু হতে চলেছে। এই প্রকল্পের অধীনে পরিবারগুলি প্রতি বছর ৫ লক্ষ টাকা সুরক্ষা পাবেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দিল্লিতে বিজেপির সদর দফতরে তাঁর বিজয় ভাষণে অবশেষে এই প্রকল্পটি বাংলায় আনার ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, “বাংলায় মহিলারা এখন একটি নিরাপদ পরিবেশ পাবেন এবং যুবকরা কর্মসংস্থান পাবেন। প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পকে সবুজ সংকেত দেওয়া হবে।”
যদিও পশ্চিমবঙ্গে এই প্রকল্পের প্রায় ৭৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং কেন্দ্রের ৪৫.৬ লক্ষ বাড়ির লক্ষ্যমাত্রা পূরণের কাছাকাছি পৌঁছেছে। তবুও প্রকল্পকে কেন্দ্র করে বারবার দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এই প্রকল্প গ্রামীণ ও শহুরে উভয় ক্ষেত্রেই প্রকল্প দ্রুতগতিতে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলার মৎস্যজীবীরা এই প্রকল্পের অনেক সুবিধা পাবে। আর এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে আর্থিক সহায়তা, বিমা এবং আধুনিক সরঞ্জাম সরবরাহ করা হবে মৎস্যজীবীদের।
পশ্চিমবঙ্গে জল জীবন মিশনের আওতায় আসবেন বহু মানুষ। ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত, গ্রামীণ পরিবারের ৫৬.৪৬ শতাংশ—অর্থাৎ ১.৭৫ কোটি পরিবারের মধ্যে প্রায় ৯৯.০৯ লক্ষ ট্যাপের জলের সংযোগের আওতায় এসেছেন। প্রস্তাব জমা দেওয়া এবং নথিপত্র তৈরিতে বিলম্বের কারণে রাজ্য ২০১৯-২০ ও ২০২৩-২৪ সালের মধ্যে কেন্দ্র কর্তৃক বরাদ্দ ২৪,৬৪৫ কোটি টাকার মাত্র প্রায় ৫৩ শতাংশ ব্যবহার করেছে। সংসদে এমনই তথ্য দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রের তরফে।
বাংলায় স্থগিত এই প্রকল্প কেন্দ্র সরকারের মডেল স্কুলগুলিতে চালু করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। শিক্ষাগত পরিকাঠামোর উন্নয়নের জন্য এই প্রকল্প বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
কারিগর ও শিল্পীদের সহায়তা করার লক্ষ্যে পিএম বিশ্বকর্মা যোজনা চালু হবে রাজ্যে। এই প্রকল্পের আওতায় থাকবেন দক্ষ শ্রমিকরা, যেমন তাঁতি, কুমোর এবং কামার, যারা আগে এই সুবিধার বাইরে ছিলেন। তাঁদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। আধুনিক সরঞ্জাম সরবরাহ করা হবে।