
নয়া দিল্লি: ভারতে এয়ার কন্ডিশনার বা এসি এখন আর শুধু কোনA বিলাসিতা নয়। গরমের দিনে এটি লক্ষ লক্ষ পরিবারের জন্য একটি জরুরি প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এসি কেনা এবং তা চালানোর মাঝে একটি দুশ্চিন্তা সবসময়ই থেকেই যায়। কতটা বিদ্যুতের বিল বেড়ে যাবে? আর এই কারণেই এসি প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলো এখন এমন প্রযুক্তির ওপর জোর দিচ্ছে, যার মাধ্যমে কম বিদ্যুৎ খরচ করেও ঘর ঠান্ডা রাখা সম্ভব।
সেপ্টেম্বর মাসেও দেশে বিদ্যুতের চাহিদা রেকর্ড স্তরের কাছাকাছি বজায় ছিল। ব্যুরো অফ এনার্জি এফিশিয়েন্সি (BEE) এবং CLASP-এর ২০২৪ সালের একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে, ঘরোয়া বিদ্যুৎ খরচে কুলিং বা ঠান্ডা রাখার যন্ত্রগুলোর ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। ২০টি রাজ্যের ৪,৩২১টি পরিবারের ওপর চালিত এই সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, পাখা, এসি এবং কুলার—সবমিলিয়ে মোট বিদ্যুৎ খরচের ৪০% ব্যবহার করে। এর মধ্যে শুধু এসি-র জন্য ব্যবহার হয় ১১ শতাংশ।
সমীক্ষা অনুযায়ী, এসি রয়েছে এমন পরিবারের সংখ্যা ২০২২ সালের ১০% থেকে বেড়ে ১৩.৩% হয়েছে। শহর অঞ্চলে এই হার ছিল ১৭%। এহেন পরিস্থিতিতে কোম্পানিগুলোর সামনে কেবল বেশি এসি বিক্রি করাই প্রধান চ্যালেঞ্জ নয়, বরং এমন মডেল বাজারে আনাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ, যা কম বিদ্যুৎ খরচ করে।
এলজি বলছে, এখন গ্রাহকরা শুধু এসি-র দামই দেখছেন না, বরং দীর্ঘমেয়াদে সেটি চালাতে কত খরচ হবে, সেদিকেও নজর দিচ্ছেন। এলজির বিক্রি হওয়া এসি-র অর্ধেকেরও বেশি এখন ৫-স্টার। গত বছর এই হার ছিল ৪৫%-এর বেশি। কোম্পানিটি এআই (AI) ভিত্তিক কুলিং, বিদ্যুতের খরচ নিয়ন্ত্রণকারী ফিচার এবং কানেক্টেড ডিভাইসের ওপর জোর দিচ্ছে।
ভোল্টাস (Voltas)-ও তাদের এসি-তে শক্তি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি এবং স্মার্ট ফিচারের ওপর নজর দিয়েছে। তাদের এআই-চালিত ভার্টিস স্প্লিট এসি সিরিজে এআই অ্যাডাপ্টিভ কুলিং, এআই জিও ফেন্সিং এবং এআই এনার্জি ম্যানেজারের মতো ফিচার দেওয়া হয়েছে।
ডাইকিন (Daikin)-এর মডেলগুলো থেকেও স্পষ্ট বোঝা যায় যে স্টার রেটিং-এর সঙ্গে বিদ্যুৎ খরচ কত হচ্ছে তা দেখা কেন জরুরি। কোম্পানির ১.৫-টন ৫-স্টার এসি-র আইএসইইআর (ISEER) রেটিং ৫.৭০ এবং বার্ষিক বিদ্যুৎ খরচ ৭১৬.৯৭ কিলোওয়াট-ঘণ্টা (kWh)। অন্যদিকে, ৩-স্টার মডেলের রেটিং ৪.৪০ এবং বিদ্যুৎ খরচ ৮৮০.১ কিলোওয়াট-ঘণ্টা। স্যামসাং (Samsung)-ও তাদের নতুন এসিগুলোতে এআই ভিত্তিক কুলিং এবং এনার্জি ম্যানেজমেন্টের ফিচার দিচ্ছে।