Car Parcel in Train: ট্রেনের সওয়ারি হতে পারে আপনার চারচাকাও, কীভাবে? কত খরচ, জেনে নিন
Railway Car Parcel Charges: ভারতীয় রেল পার্সেল পরিষেবা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে যানবাহন পরিবহন করে। গাড়িটি যে স্টেশন থেকে যাত্রা শুরু করবে, সেই স্টেশনের পার্সেল অফিসে বুক করতে হবে। বুকিংয়ের কী কী প্রক্রিয়া রয়েছে, কী কী তথ্য লাগবে, খরচ কত, জেনে নিন খুঁটিনাটি।

নয়া দিল্লি: চাকরির (Job Change) প্রয়োজনে অনেককেই স্থান পরিবর্তন করতে হয়। শুধু চাকরি নয়, পড়াশোনার জন্যও এক রাজ্য থেকে আরেক রাজ্য বা এক শহর থেকে অন্য শহরে যেতে হয়। আর কোনও শহর বা রাজ্যে যাওয়া, সেখানে গিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য থাকা মানে তো গোটা সংসার উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া। জীবনযাপন করার জন্য যে সামান্য জিনিসের প্রয়োজন হয়, তা তো নিয়ে যেতেই হয়। অনেকেই বিভিন্ন পার্সেল কোম্পানির মাধ্যমে জিনিসপত্র পার্সেল (Parcel Rules) করেন। তবে, দেখা গিয়েছে অনেকেই চারচাকা নিয়ে সমস্যায় পড়েন। অবশ্য অনেকে এরকমও আছেন যাঁরা নিজেরাই গাড়ি চালিয়ে গন্তব্য স্থানে পৌঁছতে স্বচ্ছন্দবোধ করেন। তবে, জানেন কি, চারচাকাও পার্সেল (Car Parcel) করার ব্যবস্থা রয়েছে? আর সেই সুবিধা দেয় রেল। অর্থাৎ ট্রেনেই (Car Parcel in Train) আপনি আপনার গাড়ি পার্সেল করতে পারবেন। কীভাবে? জেনে নিন
ট্রেনে গাড়ি পার্সেল
- ভারতীয় রেল পার্সেল পরিষেবা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে যানবাহন পরিবহন করে। গাড়িটি যে স্টেশন থেকে যাত্রা শুরু করবে, সেই স্টেশনের পার্সেল অফিসে বুক করতে হবে।
- গাড়ি সাধারণত একটি নির্দিষ্ট যানবাহন বহনকারী ওয়াগনে আলাদাভাবে পরিবহন করা হয়। সেক্ষেত্রে, গাড়ির মালিকদের ওই একই ট্রেনে যাওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই।
- দূরপাল্লার যাত্রার জন্য এই বিশেষ পরিষেবা দেওয়া হয়। বিশেষত ১,৪০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বের রুটের জন্য এই বিশেষ ব্যবস্থার সুবিধা পাওয়া যায়।
- গাড়ি নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছতে কতদিন সময় লাগবে? এটা সম্পূর্ণ রুট ও ট্রেনের উপর নির্ভর করবে। সেক্ষেত্রে কমপক্ষে সাধারণত পাঁচ থেকে দশ দিন সময় লাগবে।
গাড়ি পার্সেলের জন্য কী কী তথ্য লাগবে?
- পার্সেল বুকিংয়ের আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিতে হবে।
- প্রয়োজনীয় কাগজপত্রগুলি হল, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট (আরসি), বৈধ বিমা সার্টিফিকেট, দূষণ নিয়ন্ত্রণ (পিইউসি) সার্টিফিকেট, সরকার-প্রদত্ত পরিচয়পত্র যেমন আধার, প্যান কার্ড বা ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং ঠিকানার প্রমাণপত্র ।
- আবেদনকারীকে রেলওয়ে পার্সেল অফিসে একটি ফর্মও পূরণ করতে হবে।
- কিছু ক্ষেত্রে, বিমা-সংক্রান্ত অতিরিক্ত নথিপত্র চাওয়া হতে পারে।
ধাপে ধাপে বুকিং প্রক্রিয়া
- গাড়ির মালিকদের পার্সেল অফিসে গিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে।
- রেল কর্মকর্তারা আপনার গাড়ি ভালো করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন। ওজন, আকার, দূরত্ব ও পথের মতো বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে ভাড়া নির্ধারণ করবেন।
- সব কাজ সম্পূর্ণ হয়ে গেলে গাড়িটিকে একটি ওয়াগনে তোলা হবে। পরিবহনের সময় সুরক্ষার জন্য শিকল ও তালা দেওয়া হবে।
- বুকিংয়ের সময় ইস্যু করা রেলের রসিদ দেখিয়ে গাড়িটি সংগ্রহ করতে পারবেন মালিকরা।
কত খরচ?
চারচাকা পার্সেলে কত খরচ হতে পারে জেনে নিন
দিল্লি ও মুম্বইয়ের মধ্যে একটি গাড়ি পার্সেলের ক্ষেত্রে ৮ হাজার থেকে ১৩ হাজার টাকা খরচ হতে পারে। বেঙ্গালুরু থেকে দিল্লির মতো দীর্ঘ রুটে এই খরচ ১৩ হাজার থেকে ১৯ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। চেন্নাই থেকে বেঙ্গালুরুর মতো কম দূরত্বের ক্ষেত্রে খরচ হতে পারে ৫ হাজার ৫০০ থেকে ৯ হাজার টাকার মধ্যে। বুকিং করার সময় রেলওয়ে পার্সেল অফিস থেকেই জেনে নিন সঠিক চার্জ।
ট্রেনের গাড়ি পার্সেল কি লাভজনক?
ট্রেনে গাড়ি পার্সেল করলে জ্বালানি খরচ বাঁচে। সাশ্রয় হয়। যদিও ডেলিভারিতে বেশ কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। বুকিংয়ের বিবরণ ও ভাড়ার তথ্যের জন্য গাড়ির মালিকরা নিকটতম রেলওয়ে পার্সেল অফিসে যেতে পারেন অথবা ভারতীয় রেলের অফিসিয়াল পার্সেল পরিষেবা পোর্টালটি দেখতে পারেন।
