
নয়া দিল্লি: হাতে কনফার্ম টিকিট, তাও ট্রেনের পুরো সফরটাই করতে হল দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে। এমন ভয়ঙ্কর সফরের অভিজ্ঞতা হতেই অভিযোগ জানানো হয়েছিল রেলের বিরুদ্ধে। আর তাতেই হল কাজ। মোটা অঙ্কের জরিমানা করা হল।
লোকমান্য তিলক টার্মিনাস থেকে পটনা এক্সপ্রেসে উঠেছিলেন চারজন যাত্রী। তারা বিন্ধ্যাচল থেকে আরা যাচ্ছিলেন। ট্রেনটি এমনিতেই প্রায় এক ঘণ্টা দেরিতে চলছিল। যাত্রীরা যখন তাঁদের নির্দিষ্ট কোচ ‘B4’-এ পৌঁছান, তখন দেখেন, তাঁদের বার্থগুলিতে অন্য কেউ দখল করে রেখেছে। সিটে বসে থাকা ব্যক্তিরা নিজেদের রেলের কর্মচারী হিসেবে পরিচয় দেন এবং সেখান থেকে উঠতে অস্বীকার করেন।
ভুক্তভোগী যাত্রীরা ট্রেনে উপস্থিত রেল কর্মীদের কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন, কিন্তু কোনও লাভ হয়নি। বাধ্য হয়ে পুরো পথ দাঁড়িয়েই যেতে হয় ওই যাত্রীদের। ট্রেন থেকে নামার পর তাঁরা ‘রেল পরিষেবা’ (Railway Seva) এবং রেল মন্ত্রকের (Rail Ministry) কাছেও অভিযোগ জানান, কিন্তু সেখান থেকেও কোনও ইতিবাচক সাড়া মেলেনি।
এরপরে বাধ্য হয়ে তারা উপভোক্তা আদালতের দ্বারস্থ হন। কনজিউমার কোর্ট এই ঘটনাটিকে একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে রায় দেয়। রেলওয়েকে মোটা অঙ্কের জরিমানা করার নির্দেশ দেয়। ভোজপুর জেলা উপভোক্তা বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন (Bhojpur District Consumer Disputes Redressal Commission) ভারতীয় রেলওয়েকে ওই যাত্রীদের ২০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
উত্তর মধ্য রেল (North Central Railway) এবং রেল মন্ত্রক এই মামলার বিরোধিতা করে দাবি করেছিল যে, এটি আইনশৃঙ্খলার বিষয়, যা সরকারি রেল পুলিশের (GRP) এক্তিয়ারে পড়ে, রেল কর্তৃপক্ষের নয়। তারা আরও দাবি করে যে পরিষেবায় কোনও খামতি ছিল না এবং অভিযোগের ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। তবে কমিশন রেলের এই যুক্তিতে একেবারেই সন্তুষ্ট হয়নি। সমস্ত প্রমাণ খতিয়ে দেখার পর কমিশন স্পষ্ট জানায়, টিকিট কনফার্ম হওয়ার পরেও, পরিষেবা দিতে না পারায় যাত্রীরা চরম হেনস্থার শিকার হয়েছেন।
কমিশন তাদের রায়ে বলে, “অভিযোগকারী একাধিকভাবে রেল দফতরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তিনি ও তাঁর তিন সঙ্গী ১৩২০২ এলটিটি পাটনা এক্সপ্রেসের B4 কোচে তাঁদের আসন পাননি। এটি স্পষ্ট যে অভিযোগকারী ও তাঁর বন্ধুরা মানসিক, শারীরিক এবং আর্থিক হেনস্থার শিকার হয়েছেন, যা উত্তর মধ্য রেল এবং রেল মন্ত্রকের পরিষেবার গাফিলতিকেই প্রমাণ করে।”
কনজিউমার কমিশন উত্তর মধ্য রেল এবং রেল মন্ত্রককে যৌথভাবে নিম্নলিখিত নির্দেশগুলি দিয়েছে যে টিকিট বুকিংয়ের ১,৮৭৬.৮০ টাকা বার্ষিক ৮ শতাংশ সুদ সহ ফেরত দিতে হবে। এছাড়া মানসিক ও শারীরিক হেনস্থার ক্ষতিপূরণ হিসেবে ২০,০০০ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। আইনি লড়াইয়ের খরচ বাবদ আরও ১৫,০০০ টাকা দিতে হবে। এই ক্ষতিপূরণ ৬০ দিনের মধ্যে দিতে হবে। যদি ৬০ দিনের মধ্যে এই টাকা না দেওয়া হয়, তবে বকেয়া অর্থের ওপর বার্ষিক ১০ শতাংশ হারে সুদ প্রযোজ্য হবে।