
নয়া দিল্লি: ভারতে ফলের রাজা আম (Mangoes Banned)। কিন্তু সেই আমই এবার ব্যানড করে দেওয়া হল। ভাবছেন কীভাবে সম্ভব? খবরটা কিন্তু সত্য়ি। তবে, একটা টুইস্ট রয়েছে। ভারতে কোনও অ্যাম ব্যানড হয়নি। ঘটনা ঘটেছে জাপানে(Japan) । সম্প্রতি, ভারতের আম নিজেদের দেশে ব্যানড করেছে জাপান। কিন্তু, গোটা বিশ্ব যখন ভারতের আমে মুগ্ধ, তখন কেন জাপান এই ধরনের পদক্ষেপ করল? জাপান তো নিজেই প্রচুর আম ভারত থেকে আমদানি (India Japan Mango Export) করত, তাহলে হঠাৎ কেন এই সিদ্ধান্ত? আর জাপানের এই সিদ্ধান্তের ফলে ভারতের রফতানি ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।
জাপানের তরফে দাবি করা হয়েছে, ভারতে উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে অনিয়ম খুঁজে পেয়েছেন সেদেশের বিশেষজ্ঞরা। তারপরই আম আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতি বছর ভারত থেকে রফতানির আগে জাপান থেকে একটি দল ভারতে আসে ভেপার হিট ট্রিটমেন্ট (ভিএইচটি) পরীক্ষা করতে। এটি একটি নন কেমিক্যাল প্রক্রিয়া, যা গরমে আমকে কীটপতঙ্গ থেকে দূরে রাখে।
জানা গিয়েছে, জাপানের এই বিশেষজ্ঞ দল উত্তর প্রদেশের রেহমানপুরের কারখানাটি পরিদর্শন করেন সম্প্রতি। অভিযোগ, সেখানে জীবাণুনাশ এবং জীবাণুমুক্তকরণ ব্যবস্থায় ঘাটতি দেখতে পান তাঁরা। এর ফলে জাপান আম আমদানি বন্ধ করে দেয়। বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়ে দেওয়া হয়, ২০২৬ সালের ২৫শ মার্চ বা তার পরে ভারত থেকে রফতানি করা আম গ্রহণ করা হবে না। সেক্ষেত্রে, জাপানের বাজারে পাওয়া যাবে না কেশর, আলফনসো , ল্যাংড়া এবং বাণগনপল্লীর মতো আম।
এই বিষয়ে পুনের রপ্তানিকারক সংস্থার এক সদস্য জানিয়েছে, “ভারতের আমের ওপর জাপানের নিষেধাজ্ঞার সঠিক কারণ আমার জানা নেই। তবে আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি যে, আমরা এ বছর জাপানে আম রফতানি করছি না।”
ভারত থেকে জাপানের আম আমদানি বন্ধ করায় বড় ক্ষতি মুখে পড়তে পারে রফতানিকারক সংস্থা।তাঁদের অভিযোগ, চলমান পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের কারণে তারা ইতিমধ্যেই ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন এবং রফতানিতে ২০ থেকে ৩০ শতাংশের পতন ঘটেছে।
জাপানে আম বন্ধ হয়ে যাওয়া, সেই আমগুলি সিঙ্গাপুরের বাজারে ভরে গিয়েছে। সিঙ্গাপুরের ভারতীয় হাইকমিশন এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে জানিয়েছে, সিঙ্গাপুরবাসীরা ভারতীয় আমের প্রতি এতটাই মুগ্ধ যে, দোকানে আম আসার কয়েক মিনিটের মধ্যেই সুপারমার্কেট খালি হয়ে যাচ্ছে।
পিআইবি-র দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ সালের মধ্যে ভারতে ২২৮.৩৭ লক্ষ মেট্রিক টন আম উৎপাদিত হয়েছে বলে অনুমান। সংখ্যাটি বিশ্বে সর্বোচ্চ। আলফনসো, কেশর, তোতাপুরি, নীলম, সিন্ধুড়া এবং মল্লিকার মতো আম বিদেশের বাজারে সমাদৃত। উত্তর প্রদেশ, অন্ধ্র প্রদেশ, বিহার, কর্নাটক, গুজরাট এবং মধ্যপ্রদেশের মতো রাজ্যগুলিতে এই ধরনের আম উৎপাদন করা হয়। শুধু রফতানির বাজারই নয়, ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারেও ভালো ব্যবসা রয়েছে এই আমগুলোর।