
শমিতা সাহা, সেবি শংসায়িত বিশেষজ্ঞ
বিনিয়োগ করার জন্য আপনি কি তৈরি? শুরু করুন আর্থিক পরিকল্পনা। সেই আর্থিক পরিকল্পনার (Financial Planning) অনেকগুলো দিক আছে। পরিকল্পনা সঠিকভাবে না হলে টাকা জমানো খুব কঠিন। বিশেষ করে অবসরের পর যাতে আর্থিক দিকটা ঠিক থাকে, তার জন্য বেশ কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হবে।
‘ফিনান্সিয়াল গোল’ সেট করতে হবে, ব্যক্তিগত বাজেট তৈরি করতে হবে, কোথায়- কীভাবে এবং কোন সম্পদ শ্রেণিতে বিনিয়োগ করবেন, সেটা স্থির করচে হবে। পাশাপাশি রিটায়ারমেন্ট প্ল্যানিং, ট্যাক্স এবং ইন্সুরেন্স প্ল্যানিং আর উত্তরাধিকার সংক্রান্ত পরিকল্পনাও করতে হবে। সঠিক আর্থিক পরিকল্পনা করতে পারলে আপনার সঞ্চয় থেকেই সম্পদ বৃদ্ধি (wealth creation) সম্ভব।
সর্বপ্রথম নিজের আর্থিক পরিস্থিতি বুঝতে হবে। তারপর ফিনান্সিয়াল গোল নির্ধারণ করতে হবে। মাসিক আয় ও খরচের হিসেব রাখুন, পার্সোনাল বাজেট তৈরি করুন। অপ্রয়োজনীয় খরচ কমিয়ে বাড়তি টাকা সঠিক জায়গায় বিনিয়োগ করুন। ঋণের বোঝা বাড়তে দেবেন না। তাহলে তা সম্পদ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
যে বিনিয়োগে সুদের হার (রিটার্ন) বেশি, সেখানে ঝুঁকি বেশি। সবার ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা বা পরিস্থিতি সমান নয়। তাই আর্থিক ক্ষেত্রে কোনওরকমের ঝুঁকি নেওয়ার আগে নিজের বয়স, পরিবারের নির্ভরশীলতা, নিজের ভবিষ্যৎ উপার্জন ক্ষমতার কথা মনে রেখে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
সব পুঁজি যে কোনও এক ধরণের সম্পদ শ্রেণি (asset class)-তে বিনিয়োগ না করে আলাদা আলাদা শ্রেণিতে বিনিয়োগ করুন। চাকরি জীবনের গোড়া থেকেই রিটায়ারমেন্ট প্ল্যানিং করুন। অবসরের জন্য় রাখা পুঁজি থেকে হঠাৎ করে কোনও টাকা উইথড্র করবেন না। একটা ইমার্জেন্সি ফান্ড তৈরি করুন, হঠাৎ প্রয়োজনে খরচ করার জন্য। ট্যাক্স প্ল্যানিং এবং ট্যাক্স ফাইলিং দুটি আলাদা বিষয়, বছরের শুরুতেই ট্যাক্স প্ল্যান করুন। প্রয়োজনমতো ইন্স্যুরেন্স নিন। লং টার্ম বা দীর্ঘ সময়ের জন্য চিন্তা করুন। আপনি না থাকলে আপনার সম্পত্তি কীভাবে ভাগ হবে, সেটা লিখিতভাবে প্রমাণ রাখুন। সব ফিনান্সিয়াল অ্যাকাউন্টে নমিনি নির্দিষ্ট করে আপডেটেড রাখুন।
আপনার ফিনান্সিয়াল প্ল্যানিং আপনার মতোই বাকি সবার থেকে আলাদা, তাই অন্যকে অনুকরণ করবেন না। বিনিয়োগকারী হিসেবে নিজের অধিকারগুলো জেনে নিন। যে কোনও ফিনান্সিয়াল পরিষেবা নিলে তার অভিযোগ নিষ্পত্তি (grievance redressal) কীভাবে করা যায়, সে সম্পর্কে জেনে নিন।
শারীরিক সমস্যা হলে যেমন ডাক্তারের পরামর্শ নেন, তেমনই আর্থিক পরিকল্পনার এবং বিনিয়োগের জন্যও পরামর্শ নিতে পারেন রেজিস্টার্ড ইনভেস্টমেন্ট অ্যাডভাইসরের। SEBI ওয়েবসাইট থেকে (www.sebi.gov.in) এই সম্পর্কিত তথ্য পাবেন। আর্থিক সচেতনতা বাড়ান, বই পড়ুন, ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিন এবং বিনিয়োগ করুন।