
পুরনো শ্রম আইন আর নেই। তার বদলে কেন্দ্রীয় সরকার চারটি নতুন শ্রম বিধি চালু করেছে। আর তার পরই নতুন এই শ্রম কোডকে দারুণ ভাবে স্বাগত জানিয়েছে দেশের বস্ত্র বয়ন শিল্প। রাতের শিফটে মেয়েদের কাজ করতে অনুমতি দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তার দারুণ প্রশংসা করেছে এই শিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা বিশেষজ্ঞ মহল। তাঁদের মতে এর ফলে কারকাহার দক্ষতা বাড়বে ও সামগ্রিক উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।
যাঁরা পোশাক রফতানি করেন, তাঁরা বলছেন এই বদল প্রভাব ফেলবে উৎপাদন ক্ষমতার উপরও। আর এর ফলে, ভারতীয় পোশাক বিশ্বের বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে। ১৯৪৮ সালের কলকারখানা আইন অনুযায়ী মহিলাদের রাতে কারখানায় কাজ করার নযে নিষেধাজ্ঞা ছিল, তা এখন আর রইল না।
অ্যাপিয়ারেল এক্সপোর্ট প্রোমোশন কাউন্সিলের সেক্রেটারি জেনারেল মিথিলেশ্বর ঠাকুর এই বদলকে শ্রম আইন সরলীকরণের পথে ‘বিরাট পদক্ষেপ’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, ‘এই সংস্কারগুলো ভারতীয় শিল্পক্ষেত্রকে তার প্রকৃত সম্ভাবনা উপলব্ধি করতে সাহায্য করবে।’
নতুন বিধিতে ‘সহজে ব্যবসা’ করার জন্য বেশ কিছু সুবিধা দেওয়া হয়েছে। যেমন, নিয়োগকর্তাদের জন্য একক নিবন্ধন, একক লাইসেন্স এবং একক রিটার্ন ব্যবস্থা চালু হয়েছে। কঠোর আইনের বদলে এখন পরিদর্শক-সহায়ক মডেল আনা হয়েছে।
তবে উদ্বেগও রয়েছে। বস্ত্রবয়ন শিল্পের বিশেষজ্ঞ অমিত থাপার মনে করছেন, এক বছর কাজ করার পরই গ্র্যাচুইটি পাওয়ার নতুন নিয়ম, আগে যা ছিল ৫ বছর, কর্মীদের মধ্যে অ্যাট্রিশন বা দ্রুত কাজ ছাড়ার প্রবণতা বাড়াতে পারে।