
কলকাতা শহরটা তাঁর কাছে বেশ লাকিই বলতে হয়। তিনি কলকাতায় এলেন। ২ হাজার মানুষকে চিকিত্সা দেওয়ার মতো হাসপাতালের ঘোষণা করলেন। সঙ্গে আগামী ৮ বছরে লক্ষ কোটি লগ্নির আশ্বাস। গৌতম আদানি কলকাতায় থাকার সময়ই খবর এল, গতবারের মত এবারও তিনি এক নম্বরে। দেশে ধনীদের মধ্যে একনম্বরে তো বটেই। সম্পদ তৈরি করা এবং সেই সম্পদের ব্যবহারেও তিনিই সেরা। হুরুন ইন্ডিয়া রিচ লিস্টে গৌতম আদানির সম্পতির পরিমাণ ৯ লক্ষ ২৩ হাজার কোটি টাকা। দু-নম্বরে রিলায়েন্স চেয়ারম্যান মুকেশ অম্বানী। সম্পদ ৮ লক্ষ ৬৩ হাজার কোটি টাকা। গত বছরের তুলনায় গৌতম আদানির সম্পত্তি বেড়েছে ১৩ শতাংশ। মুকেশ অম্বানীর সম্পত্তি কমেছে ৯. ৬৫ শতাংশ।
হুরুন ইন্ডিয়ার তালিকায় ১ হাজার ৮১০ জন ভারতীয়ের নাম। এদের সবার সম্পত্তি এক হাজার কোটির বেশি। ১ হাজার কোটির ক্লাবে যাঁরা রয়েছেন, গত এক বছরে তাঁদের সম্পত্তি বেড়েছে কমবেশি ১৩ শতাংশ।
এই সুপার রিচ লোকজন কোথায় থাকেন? এই সুপার রিচদের বড় অংশই মুম্বইয়ের বাসিন্দা। তারপর বেঙ্গালুরু, দিল্লি, পুণে।
ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বই। স্বপ্ন ভাঙা গড়ার শহর। এই শহরে অ্যান্টিলিয়া আছে। এই শহরে ধারাভিও আছে। এ শহরে ফুটপাতে রাত কাটানো মানুষ আর অট্টালিকাবাসী। দুয়ের সংখ্যাই অনেক। দেশের তাবড় ধনীদের ঠিকানা মুম্বই। মুকেশ অম্বানী। কুমারমঙ্গলম বিড়লা। শিব নাদার। দিলীপ সাংভি। নাম বলে শেষ করা যাবে না। সঙ্গে বিত্তবান ফিল্মস্টাররা তো আছেনই।
হুরুন রিপোর্ট বলছে, ১০০ কোটি ডলারের বেশি সম্পত্তি। এমন লোকেরা এশিয়ার মধ্যে মুম্বইয়ে সবচেয়ে বেশি থাকেন। এই লিস্টে বেজিংকে পিছনে ফেলে দিয়েছে মুম্বই। সবার উপরে নিউইয়র্ক। সেখানে ১১৯ জন শতকোটিপতির বাস। ২ নম্বরে লন্ডন। সংখ্যাটা ৯৭। ৩ নম্বরেই রয়েছে মুম্বই। এশিয়ার মধ্যে ১ নম্বরে। মুম্বইয়ের বাসিন্দা ৯২ জনের মোট সম্পত্তি ১০০ কোটি ডলারের বেশি। এরপর চারে আছে বেজিং। পাঁচে সাংহাই। বেজিংয়ে শতকোটিপতির সংখ্যা ৯১। মুম্বইয়ে বিলিয়নেয়ারের সংখ্যা বেড়েছে ২৬ জন। আর এ শহরে সব বিলিয়নেয়ারের সম্পত্তি গড়ে ৪৭ শতাংশ বেড়েছে। বেজিংয়ে তা ২৮ শতাংশ কমে গেছে। ফলে বেজিংকে পিছনে ফেলে দিয়েছে মুম্বই। মুম্বই হয়ে উঠেছে billionaire capital of Asia।
মুম্বই ও বেজিং। ২ শহরের জনসংখ্যা মোটামুটি সমান। ২ কোটি ২০ লাখের মত। তবে মুম্বইয়ের আয়তন ৬০০ বর্গ কিলোমিটার। বেজিংয়ের আয়তন সাড়ে ৪ হাজার বর্গ কিলোমিটার। তাই বলতে পারেন সকালে বাজার করতে বেরিয়ে একজন বিলিয়নেয়ারের দেখা পাওয়ার সম্ভাবনা বেজিংবাসীর চেয়ে মুম্বইবাসীর বেশি। হুরুন লিস্ট বলছে, ভারতের সবচেয়ে বেশি ২৫ শতাংশ বিলিয়নেয়ার মুম্বইয়ে থাকেন। এরপর আছে দিল্লি। তারপর হায়দরাবাদ। গতবছর চিনে বিলিওনিয়ারের সংখ্যা ২৫ শতাংশ কমেছে। সেখানে ভারতে শতকোটিপতির সংখ্যা বেড়েছে ২৯ শতাংশ। ১০০ কোটি ডলারের বেশি সম্পত্তি, ভারতে এখন এমন লোকের সংখ্যা ৩৩৪। শুনলে হয়ত অবাক হবেন, এঁদের সম্মিলিত সম্পত্তির পরিমাণ ১৬০ লক্ষ কোটি টাকা। যা কিনা সৌদি আরব ও সুইত্জারল্যান্ডের সম্মিলিত জিডিপি-র চেয়ে বেশি। গত ১ বছরে গোটা দেশে শতকোটিপতির সংখ্যা বেড়েছে ৭৫ জন। যার মানে ভারতে এখন প্রতি ৫ দিন অন্তর ১ জন করে নতুন বিলিয়নেয়ারের জন্ম হচ্ছে।