
নয়া দিল্লি: আর কিছুদিন পরই লাগতে পারে জোর ধাক্কা। দাম বাড়তে পারে পেট্রোল-ডিজেলের (Petrol-Diesel Price Hike)! প্রচণ্ড আর্থিক চাপের মধ্যে রয়েছে দেশের অয়েল মার্কেটিং সংস্থাগুলি (Oil Marketing Companies)। সেই চাপ কিছুটা কমাতে আগামী ১৫ মে-র আগেই পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়তে পারে।
ইরান-আমেরিকা নতুন করে সরাসরি সংঘাতে না জড়ালেও, তাদের মধ্যে টানাপোড়েন থামছে না। হরমুজ প্রণালী নিয়ে জটিলতাও কাটেনি। ফলে তেল ও জ্বালানি সরবরাহ বারবার ব্যাহত হচ্ছে। এর মধ্যেই খবর, দেশের অয়েল মার্কেটিং সংস্থাগুলি প্রতি মাসে আনুমানিক প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। সেই ক্ষতি সামাল দিতেই পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়ার সম্ভাবনা।
ইন্ডিয়া টুডে-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংস্থাগুলির ইনপুট কস্ট এবং রিটেল জ্বালানির দামের মধ্যে পার্থক্য ক্রমেই চওড়া হচ্ছে। মধ্য প্রাচ্যের যুদ্ধের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রুড তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৭০ ডলার থেকে বেড়ে ১২৬ ডলারে পৌঁছেছে।
বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়লেও, ভারতে পেট্রোল-ডিজেলের দাম অনেকাংশে অপরিবর্তিতই রাখা হয়েছে। প্রিমিয়াম পেট্রোল-ডিজেলের দাম সামান্য বাড়লেও, সাধারণ পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়েনি। বর্তমানে পেট্রোলের লিটার পিছু ২৪ টাকা করে খরচ বহন করতে হচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার ও অয়েল মার্কেটিং সংস্থাগুলিকে। তবে এই ভার আর বহন সম্ভব হচ্ছে না। ক্রমাগত চাপ বেড়ে চলায়, এবার সামান্য দাম বাড়তে পারে পেট্রোল-ডিজেল থেকে শুরু করে এলপিজি সিলিন্ডারের।
যদি সরকার সম্মতি দেয়, তাহলে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম লিটার প্রতি ৪-৫ টাকা বাড়তে পারে। পাশাপাশি গৃহস্থের বাড়িতে ব্যবহৃত এলপিজি সিলিন্ডার অর্থাৎ ১৪.২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৪০ থেকে ৫০ টাকা বাড়তে পারে। যদি দাম বাড়ে, তাহলে ২০২২ সালের পর এই প্রথম পেট্রোল-ডিজেলের দাম একধাক্কায় অনেকটা বাড়তে চলেছে।
জ্বালানি সঙ্কট সামাল দিতে রেশন ব্যবস্থা চালু করেছে বাংলাদেশ। পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা কর্মদিবস কমিয়ে দিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়াতেও জ্বালানির দাম বেঁধে দেওয়া হয়েছে।