
নয়া দিল্লি: পূর্ব মেদিনীপুরের বাসিন্দা অনন্যা পাল। অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। খুবই মেধাবি। স্কুলের ফার্স্ট গার্ল। ভবিষ্যতে চিকিৎসক হতে চায় সে। কিন্তু, মেয়ের স্বপ্ন পূরণ কীভাবে হবে, চিন্তায় পড়ে গিয়েছেন তার বাবা-মা। আর্থিকভাবে সচ্ছ্বল পরিবার নয় তাঁদের। ডাক্তারি পড়ার খরচ কীভাবে চালাবেন? আবার বীরভূমের আরেক পরিবারের চিন্তা মেয়ের বিয়ের টাকা কীভাবে জোগার করবেন? সব সমস্যার মুশকিল আসান করতে পারে কেন্দ্রের একটি জনপ্রিয় প্রকল্প। সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা (Sukanya Samriddhi Yojana)। এই প্রকল্প থেকে ৭৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সাহায্য পেতে পারেন আপনি। তবে, দেখা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক প্রকল্পের (Central Governement Scheme) সঙ্গে এখনও অবগত নন বহু ভারতীয়। সেক্ষেত্রে, সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা কী, কারা ও কী কী সুবিধা পেতে পারেন, জেনে নিন
সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা সাধারণত মেয়েদের প্রকল্প। এই প্রকল্প যদি প্রথম থেকেই একটু একটু করে টাকা জমানো শুরু করেন, তাহলে দেখা যাবে একটা নির্দিষ্ট সময়ে ভাল রিটার্ন পাচ্ছেন। কেন্দ্র এই প্রকল্পে ভালো সুদ দেয়। এই প্রকল্পের জন্য সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনায় একটি সেভিংস অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে।
মেয়ের বয়স ১০ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই বাবা-মা বা আইনত অভিভাবক সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনার অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবেন। অ্যাকাউন্ট খোলার পর টানা ১৫ বছর পর্যন্ত টাকা জমা করা যায়। তবে অ্যাকাউন্টের মেয়াদ ২১ বছর। অর্থাৎ ১৫ বছর জমা দেওয়ার পরও বাকি সময় সুদ আপনার অ্যাকাউন্টে জমা হবে।
বর্তমানে এক অর্থবর্ষে সর্বাধিক ১.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করা যায়। যদি কোনও অভিভাবক টানা ১৫ বছরের মধ্যে প্রত্যেক বছরে ১.৫ লক্ষ টাকা করে জমা করেন এবং সুদের হার ৮.২ শতাংশ থাকে, তাহলে ২১ বছর শেষে প্রায় ৭২ থেকে ৭৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত রিটার্ন পেতে পারেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই ক্ষেত্রে সুদ থেকে পাওয়া অর্থ মূল বিনিয়োগের তুলনায় অনেক বেশি হতে পারে। সুদের হার অনুযায়ী রিটার্নের পরিমাণ পরিবর্তন হতে পারে। সুদের হার ৭.৭ শতাংশ, ৮.২ শতাংশ বা ৮.৫ শতাংশ হতে পারে।
মাসে প্রায় ১ হাজার ৮০০ টাকা জমালে ভবিষ্যতে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা পাওয়া যেতে পারে।
৪ হাজার ৫০০ টাকা জমালে রিটার্ন পেতে পারেন প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা।
আবার ৯ হাজার টাকা জমালে মেয়াদ শেষে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা রিটার্ন পেতে পারেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যত তাড়াতাড়ি বিনিয়োগ শুরু করবেন, আরও বেশি সুদের সুবিধা পেতে পারেন। সেক্ষেত্রে, মেয়ের জন্মের পরই যত দ্রুত সম্ভব সুকন্যা সমৃদ্ধি অ্যাকাউন্ট খোলা উচিত। কারণ শুরুতেই বিনিয়োগ করলে বেশি সুদ পাবেন। কয়েক বছর দেরি করলে সেই অতিরিক্ত সময়ের সুদের সুবিধা হারাতে হয় এবং মেয়াদ শেষে পাওয়া টাকার অঙ্কও কমে যায়।
মেয়ের উচ্চশিক্ষার জন্যে অর্থ ব্যবহার করতে পারেন। যদি আপনি চান তাহলে আগেও টাকা তুলতে পারবেন। তবে শর্ত অনুযায়ী মেয়েকে ক্লাস ১০ পাস করতেই হবে। এবং বয়স ১৮ বছরের বেশি হতে হবে। বিয়ের খরচের জন্যে ২১ বছরের আগে টাকা তুলতে পারবে। এক্ষেত্রেও শর্ত মেয়ের বয়স ১৮ বছর হতে হবে।