
নয়া দিল্লি: ১ অগস্ট থেকে আসছে বড় বদল। রেলের তৎকাল টিকিট বুকিংয়ের (Tatkal Ticket Booking) নিয়মে আসছে পরিবর্তন। এবার থেকে টোকেন ভিত্তিক সিস্টেম (Token System) চালু হচ্ছে। গ্রাহকদের টিকিট বুকিংয়ের ক্ষেত্রে কী পরিবর্তন হবে? জেনে নিন-
ওয়েস্ট সেন্ট্রাল রেলওয়ে তাদের রিজার্ভেশন কাউন্টার থেকে তৎকাল টিকিট বুকিংয়ের নিয়মে বদল করছে। এবার থেকে চালু হচ্ছে টোকেন ভিত্তিক সিস্টেম। তৎকাল টিকিট বুকিং ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতেই এই উদ্যোগ। দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য কমানো এবং প্রকৃত যাত্রীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি টোকেন দেওয়ার সময়ও বদল করা হয়েছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, রিজার্ভেশন কাউন্টার থেকে তৎকাল টিকিট কাটতে গেলে প্রথমে টোকেন সংগ্রহ করতে হবে। টোকেন ছাড়া আর তৎকাল টিকিট বুক করা যাবে না।
প্রতিটি কাউন্টার থেকে এসি (AC) শ্রেণির জন্য সর্বোচ্চ ১০টি এবং নন-এসি বা স্লিপার শ্রেণির জন্য ১৫টি টোকেন দেওয়া হবে। তবে স্থানীয় চাহিদা অনুযায়ী এই সংখ্যা বাড়ানো বা কমানো হতে পারে।
নতুন নিয়মে টোকেন সংগ্রহের সময়ও পরিবর্তন করা হয়েছে।
এসি টিকিটের জন্য: সকাল ৮টা ৩০ মিনিট থেকে ৯টা পর্যন্ত টোকেন দেওয়া হবে। আগে এই সময় ছিল সকাল ৯টা থেকে ৯টা ২৫ মিনিট।
নন-এসি বা স্লিপার টিকিটের জন্য: সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত টোকেন দেওয়া হবে। আগে সময় ছিল সকাল ৯টা ৩০ মিনিট থেকে ৯টা ৫৫ মিনিট।
রেলের তরফে জানানো হয়েছে, যারা নিজের জন্য বা পরিবারের সদস্যদের জন্য তৎকাল টিকিট বুক করবেন, তাদের টোকেন দেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এর জন্য যাত্রীকে অবশ্যই বৈধ ফটো পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে হবে। পরিবারের সদস্যের জন্য টিকিট কাটতে গেলে সম্পর্কের প্রমাণপত্রও দেখাতে হবে।
রেল জানিয়েছে, টোকেন অন্য কাউকে দেওয়া বা হস্তান্তর করা যাবে না। যে ব্যক্তির নামে টোকেন ইস্যু হবে, টিকিটও শুধুমাত্র তাঁর নামেই বুক করা হবে। এছাড়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিজার্ভেশন কেন্দ্রে পৌঁছনো এবং প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে বুকিংয়ের সময় কোনও সমস্যা না হয়।
টোকেন ব্যবস্থায় পরিবর্তন এলেও তৎকাল টিকিট বুকিংয়ের সময়ে কোনও বদল হয়নি।
এসি বুকিং: সকাল ১০টা
নন-এসি বা স্লিপার কোচে তৎকাল বুকিং: সকাল ১১টা
দুই ক্ষেত্রেই যাত্রার নির্ধারিত দিনের এক দিন আগে বুকিং শুরু হয়।
রেলের দাবি, নতুন এই ব্যবস্থা চালু হলে রিজার্ভেশন কাউন্টারে দীর্ঘ লাইন কমবে, দালালদের দৌরাত্ম্য রোখা যাবে এবং টাটকাল টিকিট বুকিং আরও স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও যাত্রী-বান্ধব হবে।