
নয়াদিল্লি: গত মাসেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশ্বজুড়ে চাপানো শুল্ককে ‘অবৈধ’ বলে ঘোষণা করেছে সেদেশের শীর্ষ আদালত। এককথায় এতদিন মনমর্জি ‘তোলা’ তুলছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাতেই এবার বাঁধ সেধেছে আদালত। মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, জাতীয় জরুরি অবস্থার জন্য ব্যবহৃত আইনকে বেপথে ব্যবহার করা হয়েছে। এমনকি, ট্রাম্পের ‘শুল্ক-সিদ্ধান্ত’ মার্কিন কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়াই নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করে আদালত। এই দমকা হাওয়ার দাপট সবে হয়তো সামলে উঠেছেন ট্রাম্প। সেই আবহেই আরও বড় নির্দেশ মার্কিন আদালতের।
ফিরিয়ে দিতে হবে ‘অবৈধ শুল্ক’ মাধ্য়মে হওয়া আয়, বুধবার মার্কিন কাস্টমসকে এমনই নির্দেশ দিয়েছে সেদেশের বাণিজ্য আদালত। সুপ্রিম-রায়কে উল্লেখ করেই ট্রাম্পের সরকারের অবৈধ পথে আয় হওয়া ১৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ম্যানহ্য়াটনের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালত। পাশাপাশি, দ্রুত আমেরিকায় প্রবেশের জন্য পণ্যবাহী জাহাজগুলিকে যে ফি দিতে হয়, সেটি থেকেও শুল্ক হটানোর নির্দেশ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারক রিচার্ড ইটন।
বলে রাখা প্রয়োজন, যে কোনও পণ্যবাহী জাহাজকে আমেরিকায় প্রবেশের জন্য একটি প্রবেশমূল্য প্রদান করতে হয়। এই মূল্যের উপরেই পণ্য ও দেশ ভিত্তিতে শুল্ক চাপিয়েছিলেন ট্রাম্প। এবার সেই শুল্ককে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালত। বিচারকের সাফ পর্যবেক্ষণ, “কাস্টম জানে, তাদের কী করতে হবে!” পাশাপাশি, এতদিন ‘অবৈধ’ পথে হাতানো শুল্ক ফিরিয়ে দেওয়ার কাজ শুরু করতে হবে বলেও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
বিভিন্ন মার্কিন সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ‘অবৈধ শুল্কের’ মাধ্যমে এখনও পর্যন্ত মোট ১৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১২ লক্ষ কোটি টাকা আয় করেছে ট্রাম্প সরকার। মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের এই শুল্ককে অবৈধ বললেও, তা ফিরিয়ে দেওয়ার কোনও প্রসঙ্গ তোলেনি। যা এবার উঠে এল অন্য একটি মামলার সূত্র ধরে। একটি পণ্যবাহী সংস্থার করা মামলার ব্যাকফুটে পড়লেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কোনও দেশ নয়, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পণ্য়বাহী সংস্থা, যারা এতদিন এই শুল্কের মাশুন গুনেছেন, তাদেরকেই প্রাপ্য টাকা ফিরিয়ে দিতে হবে কাস্টমসকে।
প্রসঙ্গত, গত মাসের শেষের দিকে আমেরিকার কাস্টম অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন দফতর এই শুল্ক নিয়েই একটি নির্দেশিকা জারি করেছিল। তাতে তারা জানিয়েছিল, ১৯৭৭ সালের ইন্টারন্যাশনার এমার্জেন্সি ইকনোমিক পাওয়ার অ্যাক্ট-এর অধীনে শুল্ক আমদানি বন্ধ করা হচ্ছে। তবে এই নিষ্ক্রিয়করণের সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র একটি আইনের ক্ষেত্রেই বলবৎ করেছে হোয়াইট হাউস। তাই বলা যেতে পারে, সম্পূর্ণ নয়, আংশিক ভাবে শুল্ক চাপানো বন্ধ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।