
শমিতা সাহা, সেবি শংসায়িত বিশেষজ্ঞ
মুদ্রাস্ফীতি বা ইনফ্লেশনের সাধারণ অর্থ হল জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়া। মুদ্রাস্ফীতি আমাদের সাধারণ জীবন যাপনে কীভাবে প্রভাব ফেলে আর তার প্রতিকার কী?
যে কোনও জিনিসের দাম বাড়তে পারে দুটি কারণে, চাহিদা বেড়ে গেলে অথবা সরবরাহ কমে গেলে। আর যদি সব জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যায় তাহলে অর্থনৈতিক দিক দিয়ে দেশ জুড়ে মুদ্রাস্ফীতির সমস্যা দেখা দেয়।
ধরুন একটি সাইকেলের চাকায় ঠিক মতো হাওয়া ভরা থাকলে সাইকেলটা দিব্যি চলবে। যদি হাওয়া অনেকটা কমে যায়, তাহলে চাকা ঘষে টায়ার ফেটে যাবে। আবার যদি অতিরিক্ত হাওয়া ভরা হয়, তাহলেও সাইকেলের টায়ার ফেটে যাবে। ইনফ্লেশন এই হাওয়ার মতো, যদি খুব কমে যায় তাহলে অর্থনৈতিক মন্দা (ইকোনমিক রিসেশন) হতে পারে আর যদি খুব বেড়ে যায় অর্থনৈতিক উন্নয়নে ধাক্কা লাগে। আর সঠিক মাত্রার ইনফ্লেশন অর্থনৈতিক উন্নয়নে সাহায্য করে। ইরান-ইজরায়েল-মার্কিন যুদ্ধের পরিণামস্বরূপ তেলের ঘাটতিতে বেড়ে গিয়েছে দাম, যা মুদ্রাস্ফীতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে চলেছে।
হঠাৎ করে যুদ্ধের ফলে বেড়ে যাওয়া তেলের দাম আমাদের জীবনের সবকিছুর সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে, যেমন পেট্রল, ডিজেল, এলপিজি গ্যাস, এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের জিনিসপত্রের দাম। অন্যদিকে যারা ব্যবসায়ী, জিনিস বিক্রি করে মুনাফালাভ করে, তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার ফলে জিনিসের দাম বাড়িয়ে দিতে বাধ্য হয় তারা। সেইসঙ্গে কমিয়ে দেওয়া হয় প্রোডাকশন। আর ছাঁটাই করা হয় কর্মী। সাধারণ মানুষের আর্থিক সমস্যার সৃষ্টি হয়, কমে যায় খরচ করার ক্ষমতা, কমে যায় সঞ্চয়ের মূল্য।
অর্থর্নৈতিক সামঞ্জস্য আর মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে দায়িত্বে থাকে প্রতিটি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক-যেমন ভারতের রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া, মার্কিনদের ফেডারেল রিজার্ভ। যখন মুদ্রাস্ফীতি অনেক বেশি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, তখন কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক রেপো রেট বাড়িয়ে দেয় (রেপো রেট- অর্থাৎ যে হারে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলিকে ঋণ দেয়)। বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলি সেটি পাস করে। প্রভাবিত হয় ব্যবসা, হোম লোন এবং সব ঋণগ্রস্ত মানুষ।
হালেই মার্কিন ফেডারেল রিসার্ভ সঙ্কেত দিয়েছেন যে ভবিষ্যতে রেপো রেট বাড়তে পারে। তার জের ভারত সহ বিশ্বের বাকি দেশের উপরেও পড়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।
মুদ্রাস্ফীতি যে কারণেই হোক না কেন তার ফলাফল সর্বদাই প্রতিকূল। মোকাবিলা করার জন্য রইল কিছু টিপস:
১.খরচের উপরে নিয়ন্ত্রণ রাখুন এবং অপ্রয়োজনীয় খরচ কমিয়ে ফেলুন।
২.আর্থিক পরিকল্পনা করুন যাতে আপনার বিনিয়োগের লগ্নির হার মুদ্রাস্ফীতির থেকে বেশি হয়।
৩.পার্সোনাল লোন, ক্রেডিট কার্ড লোন বা এমন ঋণ, যার সুদের হার বেশি, সেই ঋণ দ্রুত শোধ করে দিন আর পারলে এড়িয়ে চলুন।
৪.নতুন কিছু শিখে বাড়তি আয় করার চেষ্টা করুন।
৫. যে কোনও এক ধরনের সম্পদে সর্বস্ব নিবেশ না করে নানা ধরণের সম্পদে বিনিয়োগ করুন।