
দেশের সবথেকে বড় নিউজ নেটওয়ার্ক TV9-এর মুখোমুখি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। লোকসভা নির্বাচন চলছে। তারই মধ্যে টিভি৯ নেটওয়ার্কের ছয় সম্পাদককে একান্ত সাক্ষাৎকার দিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। নির্বাচন সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মুখ খুললেন তিনি। TV9 নেটওয়ার্কের ‘রাউন্ড টেবিলে’ উপস্থিত থাকছেন TV9 ভারতবর্ষ-এর সিনিয়র এক্সিকিউটিভ এডিটর নিশান্ত চতুর্বেদী, TV9 মারাঠি-র ম্যানেজিং এডিটর উমেশ কুমাওয়াত, TV9 তেলেগু-র ম্যানেজিং এডিটর ভেল্লালাচেরুভু রজনীকান্ত, TV9 বাংলার ম্যানেজিং এডিটর অমৃতাংশু ভট্টাচার্য, TV9-গুজরাটির চ্যানেল হেড কল্পক কেকরে এবং TV9 কন্নড়-এর চিফ প্রোডিউসর রঙ্গনাথ এস ভরদ্বাজ। ভোটের মধ্যে TV9 নিউজ নেটওয়ার্ককে কী বললেন প্রধানমন্ত্রী? জানতে চোখ রাখুন এখানে –
টিভি৯-এর পুরো দলকে অভিনন্দন। আপনাদের নেটওয়ার্ক খুব বড়, অনেক দর্শক আছে। আমি বিদেশে গেলে যদি কোনও তথ্য দরকার হয়, টিভি৯ ডিজিটালের সাহায্য নিই। কিন্তু আপনাদের বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত কোনও দুরভিসন্ধির অভিযোগ ওঠেনি। দেশে এই ধরনের সংবাদমাধ্যমের অত্যন্ত প্রয়োজন।
আমরা তো দলকে বাড়াতচেই চাইব। কেউ যদি আমাদের আদর্শে চলতে চায়, তাদের কেন দলে নেব না? পারিবারিক ও গণতান্ত্রিক দলে অনেক ফারাক। যে নেতারা আসছেন তাদের থেকেও আমি ভাল কিছু গ্রহণ করি। বিজেপিতে যারা আসতে চান, সকলকে স্বাগত।
গুজরাটে কংগ্রেসে মধ্যে খুব দলাদলি ছিল। সেংখানকার নেতারা আরামপ্রিয় হয়ে গিয়েছিলেন। আমি তাদের দায়িত্বশীল বিরোধী দল হওয়ার জন্য উৎসাহিত করতাম। ওরা বিধানসভায় যা নিয়ে অভিযোগ করত, সব কাজ আমি করে দিতাম। ফলে, তাদের কনও কাজই ছিল না। তার উপর তাদের দিল্লির নেতাদের খুশি করার দায় ছিল।
কোনও মুখ্যমন্ত্রীকে আমি ফোন করি না। আমি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে দেশের কাজে ডুবে গিয়েছি। গুজরাটে আমাদের যে দল রয়েছে তারা ভাল কাজ করছে বলে আমার বিশ্বাস। আমার থেকেও বেশি আসন জিতেছে ভূপেন্দ্র। আগামী ২৫ বছর গুজরাতের সামনে বড় সুযোগ রয়েছে। গুজরাট এই সুযোগ ছাড়বে না, সব ব্যবসায়ী লোক। হিসেব করেই পদক্ষেপ করবে।
গুজরাটে রাজ্যের সব কোনায় কোনায় বিজেপি রয়েছে। বিজেপির সংগঠনে সমাজের সব অংশের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। আমরা ক্ষমতায় এসে সংগঠনে ঢিলে দিইনি। গুজরাটে একসময় জলের ব্যাপক সমস্যা ছিল। বাজেটের অধিকাংশ জলের পিছনে যেত। আমরা এই বিষয়ে এত কাজ করেছি, যে আজ গুজরাটে জলের সমস্যা মিটে গিয়েছে। নুন ছাড়া, গুজরাটে কোনও শিল্প ছিল না। বস্ত্র শিল্প শেষ হয়ে গিয়েছিল। সেখান থেকে আজ গুজরাট ব্যাবসায়িক হাবে পরিণত হয়েছে। ১৯১৭ সাল থেকে বারে বারে গুজরাটে সাম্প্রদায়িক হিংসা হয়েছে। ২০০২ সালের পর আর এই ধরনের হিংসা হয়নি। এই শান্তি ও সম্প্রীতির পরিবেশ মানুষের মন জিতেছে।
লাভের কথা মাথায় রেখে আমরা জোট গড়ি না। আমরা আঞ্চলিক উচ্চাকাঙ্খাকে প্রাধান্য দিতে চাই। সম্প্রতি চন্দ্রবাবু এবং পবন কল্যাণের সঙ্গে এক জনসভা করেছি আমি। তাতে মানুষের যে সাড়া পেয়েছি, তাতে আমি পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছি।
আমি মনে করি, আঞ্চলিক উচ্চাকাঙ্খাকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। এত বড় দেশ চালাতে গেলে আঞ্চলিক উচ্চাকাঙ্খাকে গুরুত্ব দিতেই হবে। যারা আঞ্চলিক দল হয়, তারা স্বাভাবিকভাবেই রাজ্য নিয়ে ভাবে, রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্য করে। আমরা সেই সকল দলকে আমাদের সঙ্গে রাখতে চাইছি। সকলকে সম্মান দিতেই জোটে জায়গা দিয়েছি।
বিজেপিতকে যতই গালি দিক, নোটের তাড়া কোথায় লুকোবে? সকলের চোখের সামনে বেরিয়েছে। খাটের তলা থেকে নোট বেরিয়েছে। গোটা দেশে ঘৃণা তৈরি হয়েছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে পুরো শক্তি নিয়ে লড়াই করছে মোদী সরকার।
আমার পূন্যের ভাগ নেওয়ার জন্য আমায় রেবন্থ বড়ভাই বলে। কিন্তু, যদি নিজেকে ভাই মনে করে, তাহলে তাঁর আমার থেকে দেশ চালানো শেখা উচিত। মুখ্যমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি সবথেকে বেশিদিন সরকার চালাচ্ছি। সতভাবেও সরকার চালানো যায় আমি দেখিয়ে দিয়েছি।
কেসিআর নিজেই এনডিএ-তে সামিল হতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আমি বলেছিলাম, পুরসভা নির্বাচনে আমরা একসঙ্গে লড়তে পারব না। তখন কেসিআর ঠিক করেছিলেন, বিজেপিকে আসতে দেব না।
বিআরএস আর কংগ্রেসের দুর্নীতির যোগ রয়েছে। লোকসভা নির্বাচন এখন রাজ্যের থেকে আলাদা হয়ে গিয়েছে। রাজ্যের সমস্যা নিয়ে মানুষ লোকসভা নির্বাচনে ভোট দিচ্ছে না। কে প্রদানমন্ত্রী হবে, দেশের কী হবে, তা মাথায় রেখে মানুষ ভোট দিচ্ছে। এতেই সমস্যা হয়ে গিয়েছে ইন্ডি জোটের। কে প্রধানমন্ত্রী হবে, তারা বলতে পারছে না। বিজেপি ছাড়া একটাও দল ২৭২ আসনে লড়ছে না। তো জিতবে কীকরে? তাই তাদের ফর্মুলা এক বছর এক প্রধানমন্ত্রী। এভাবে দেশ চলবে? ওরা ক্ষমতা দখলের বিষয়ে গুরুত্ব দেয়, দেশের উন্নতিকে গুরুত্ব দেয় না।
কর্নাটকে আমরা আগের থেকেও বেশি ভোট পেয়েছি। আসন কম এসেছে। কর্নাটকে মুখ্যমন্ত্রী-উপমুখ্যম্ন্ত্রীর ঝগড়া চলছে। যার ফল ভোগ করছেন মানুষ। তারা যা গ্যারান্টি দিয়েছিল, তার একটাও পূরণ করতে পারেনি। কর্নাটক এবং তেলঙ্গানা এখন কংগ্রেসের এটিএম হয়ে গিয়েছে। ছত্তিসগঢ়ের যে অবস্থা হয়েছে, এই দুই রাজ্যরও একই অবস্থা হবে। যে রাজ্য প্রযুক্তির হাব ছিল, সেখানে আজ জল পাওয়া যাচ্ছে না।
এটা ওরা ২০১৪তেও বলত, ২০১৯ সালেও বলত। এবারও বলছে। এটা আমাদের বিরোধীদের দৈনতার পরিচয়। আজকের ভারতে এক টিভি চ্যানেল, এর মধ্যে কোনও একনায়ক আসতেই পারে না। সাতের দশকে ভারত সহ্য করেছিল। আর করব না।
বালাসাহেবের ছেলে তো উনি বটেই। উনি অসুস্থ থাকাকালীন আমি ফোন করেছিলাম। কিন্তু, বালাসাহেবের আদর্শকে আমি মানি। তার জন্য তিনি আমায় খুব ভালবাসতেন। আমাদের হাতে বেশি বিধায়ক ছিল। তা সত্ত্বেও বালাসাহেবকে সম্মান জানাতেই শিবসেনা থেকে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছে।
আমার মতে এই আবেগ বিজেপির সঙ্গে আছে। কারণ, আমাদের সঙ্গে আসল শিবসেনা আসল এনসিপি আছে। বালাসাহেব শিবসৈনিকদের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। তার তৈরি শিবসেনা তো আমাদের সঙ্গে আছে। যারা বীর সাভাকরকে অপমান করে, তার সঙ্গে এক মঞ্চে বসছেন উদ্ধব ঠাকরে। লোকে দেখছে। আর শরদ পওয়ারের তো ঘরের ঝগড়া। এটা রাজনৈতিক বিষয় নয়। শরদ পওয়ারের পর দলের দায়িত্ব মেয়ে পাবে না ভাইপো, এই ঝগড়া চলছে। লোকে বলছে, এই বয়সে পরিবার সামলাতে পারছে না, মহারাষ্ট্র কীভাবে সামলাবে?
দেশের জনসংখ্যার ৫০ শতাংশ মহিলা। গুজরাটে মুখ্যমন্ত্রী থাকার সময়ও আমি মহিলাদের গুরুত্ব দিতাম। আমূল কিংবা লিজ্জত পাপড় যে কোনও বড় ব্র্যান্ডের সঙ্গে পাল্লা দেয়। দুটি সংস্থাই মহিলারা চালায়। এতদিন পর্যন্ত আমরা মনে করতাম, মহিলারা ছোটখাট কাজ করলেই তাদের ক্ষমতায়ন হয়ে যায়। আমি বলেছি না। সাইকোলজিক্যাল বাধা দূর করতে হবে। আমি এই জন্য়ই ড্রোন দিদির প্রকল্প নিয়েছি। গ্রামে যখন মানুষ দেখবে মহিলারা ড্রোন পাইলট, তাদের মহলাদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যাবে।
সন্দেশখালির ঘটনা শুনে চোখে জল এসে গিয়েছিল। আমরা ওখানে একেবারে সাধারণ ঘরের মানুষ রেখা পাত্রকে প্রার্থী করেছি। আমি রেখা দিদিকে ফোন করে বলেছিলাম, আপনার কাছে নিশ্চয়ই টাকা নেই। আমরা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করতে পারি। কিন্তু রেখা আমায় বলেন, তাঁর টাকা চাই না। তিনি হাতজোড় করে শুধু ভোট চাইবেন। এটাই বাংলার নারীশক্তি। আমি অপেক্ষা করছি, বাংলায় বড় পরিবর্তন হতে চলেছে।
ভারতকে বিশ্বে প্রতিষ্ঠা দিয়েছে বাংলা। ভারতকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য বাংলার বিশাল অবদান আছে। কিন্তু, এই মহান পরম্পরাকে প্রথমে বামেরা, পরে তৃণমূল নষ্ট করে দিয়েছে। ভারতের অগ্রগতির জন্য বাংলার পুনর্জাগরন দরকার। আর তা হচ্ছেও। যে অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে সংসদে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঝড় তুলেছিলেন, আজ সেই অনুপ্রবেশকারীরাই তার কাছে সোনার ডিম। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কল্যানমূলক প্রকল্পগুলি সবকা সথ সবকা বিকাশের কথা বলে না। শুধুমাত্র ভোটব্যাঙ্ককে তুষ্ট করতেই এই প্রকল্পগুলি তৈরি করা হয়েছে। আমাদের বাংলায় ২-৩ জন বিধায়ক ছিলেন। আজ তা ৭০-৮০-তে পরিণত হয়েছে। বাংলা বিজেপিকে গ্রহণ করছে। সারা ভারতে শান্তিপূর্ণ ভোট হচ্ছে। শুধুমাত্র বাংলা এবং কেরল থেকে অশআন্তির খবর আসছে। ত্রিপুরায় যতদিন বামেরা ছিল, ততদিন সেখানেও অশান্তি হত। এখন আর হয় না। বাংলা দিদি আসার পরও এটা চলছে।
প্রভু রাম এত বড় ব্যক্তিত্ব। তার সামনে বিজেপি এক ছোট্ট পার্টি। কাজেই তারা কীভাবে ভাবতে পারেন, বিজেপি রামকে দখল করে নিয়েছে? ওরা আসলে নিজেদের ভোট ব্যাঙ্ক সামলানোর জন্য এই সব করছে। ওরা জানে, প্রাণ প্রতিষ্ঠায় গেলে তাদের ভোট ব্যাঙ্ক গেল। রাজীব গান্ধী একবার অযোধ্যা থেকে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছিলেন। পরে তাদের ভোট ব্যাঙ্ক বলেছিল, বিজেপি এই কাজ করে, তুমিও এটা করলে মুশকিল আছে। তিনি পালিয়ে গিয়েছিলেন। গতবারও ওরা অনেক মন্দিরে ঘুরছিল। এবার কোথাও যাচ্ছে?
এতদিন পরে এই প্রশ্ন উঠছে কেন, তাতে আমি বিস্মিত। সংবিধানে যেখানে বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্ট বারবার বলেছে। এতদিন ক্ষমতায় থেকেও কংগ্রেস তা করেনি কেন? গোয়ায় তো স্বাধীনতার সময় থেকে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি রয়েছে। সেখানে সবথেকে বেশি সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থাকে। সেখানে কোনও অসুবিধা হয়নি। সংবিধানের চিন্তা মাথা নিয়েই আমরা এই দিকে এগোচ্ছি।
সম্প্রতি কংগ্রেসের প্রচুর যুব নেতা দল ছেড়েছে। তাদের বক্তব্য মাওবাদীরা কংগ্রেস পার্টি দখল করে নিয়েছে। নরসীমা রাওকে লাইসেন্স রাজ খতম করেছিলেন বলেই গান্ধী পরিবার তাঁকে পছন্দ করে না। কংগ্রেস ফের লাইসেন্স রাজ ফেরানোর চেষ্টা করছে।
কংগ্রেসের ইস্তেহারে মুসলিম লিগের ছাপ রয়েছে। কংগ্রেসের লুকোনো এজেন্ডা স্পষ্ট।
আজ আমাদের কাছে ৩০০ আসন আছে। এনডিএ-র বাইরেও বিজেডির মতো দল আছে, যারা আমাদর সমর্থন করে। কাজেই গত ৫ বছর ধরে আমাদের কাছে প্রায় ৪০০ আসন ছিল। এই পাপ করতে চাইলে আগেই করতে পারতাম। কংগ্রেস দলের নিজেদের সংবিধানের পবিত্রতাই নষ্ট করেছে গান্ধী পরিবার। তারা দেশের সংবিধানের সম্মান করবে কী করে? প্রথমবার সংবিধান বদলানোর চেষ্টা করেছিলেন জওহরলাল নেহরু। সংরক্ষণ তুলে দিতে চেয়েছিলেন। আমি মনে করি আমাদের সংবিধান অত্যন্ত জ্ঞানী ব্যক্তিরা বসে তৈরি করেছিলেন। এটা একটা সামাজিক দলিল। সংবিধানের প্রয়োগ স্রেফ নিজেদের ক্ষমতা পাকা করতে ব্যবহার করেছে কংগ্রেস। এছাড়া ব্যবহার করেছে ভোট ব্যাঙ্ক রাজনীতির জন্য। আমার মনে তো প্রশ্ন আছে, ওয়ানারে কোনও সওদা হয়েছে কিনা। হয়তো বলা হয়েছে, মুসলমানদের সংরক্ষণ দেওয়া হবে, বদলে কংগ্রেসকে ভোট দিয়ে জেতাতে হবে। সংবিধানে এসসি-এসটিদের সংরক্ষণ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কংগ্রেস তা সরিয়ে ধর্মের ভিত্তিতে সংরক্ষণ দিতে চাইছে। সংবিধান রচনার সময়ও এই প্রশ্ন উঠেছিল। সকলে একমত হয়েছিলেন, এটা করা যায় না। কর্নাটকে তো কংগ্রেস মুসলিমদের ওবিসি বানিয়ে দিয়েছে। এর ফলে সংরক্ষণে ওবিসিদের ভাগিদারী কমে গিয়েছে। সংবিধান রক্ষা করাই যদি তাদের কাছে এত গুরুত্বপূর্ণ হয়, তাহলে জম্মু ও কাশ্মীরে কেন ৩৭০ ধারা সরানো হয়নি? কেন সংবিধানের প্রয়োগ করা হয়নি?
সংবিধানের ১০০ বছরে আমি হাতির উপর সংবিধান চাপিয়ে পুজো করেছিলাম। মুখ্যমন্ত্রী তার পাশে পাশে হেঁটেছিলেন। আমি ক্ষমতায় আসার পর সংবিধান দিবস ঘোষণার প্রস্তাব দিয়েছিলাম। কংগ্রেস বিরোধিতা করে বলেছিল, প্রজাতন্ত্র দিবস তো আছে, তাহলে সংবিধান দিবসের কী দরকার? তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসলে, আমি এক বছর ধরে সংবিধানকে উদযাপন করব।
যা ১০ দিনে করার গ্যারান্টি দিয়েছিল, তা ৫ বছরেও করতে পারেনি। যতই গ্যারান্টি দিক, লোকে ওদের কথা বিশ্বাস করবে না। আজ রাজনীতিবিদদের কথার দাম কমে গিয়েছে। আমি সেই দলে পড়ি না।
গ্যারান্টি শব্দের উপর আমার কোনও কপিরাইট নেই। ভুয়ো মাল বিক্রির জন্য, নামী সংস্থার নকল করতেই হয়। গ্যারান্টি একদিনে তৈরি হয় না। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরই আমি বুঝেছিলাম, আমার কথার একট গুরুত্ব আছে। আমায় একটা কথা বলুন, তার বাবা, ঠাকুমা সকলে বলেছেন গরিবি হঠাও। এবার তিনিও যদি বলেন গরিবি হটাবো। তাহলে কে তার কথা বিশ্বাস করবে? আমি দি কোনও কাজ করব বলি, লোকে বিশ্বাস করে। লম্বা তপস্যার পরই মানুষের কথা গ্যারান্টিতে পরিণত হয়। আমি যখন গরিবদের ঘর তৈরি করে দেব বলেছিলাম, সবাই বলেছিল কী করে হবে? এখন ৪ লক্ষ ঘর তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। আমার দীবন, বাণী, গ্যারান্টি সবই এক সূত্রে বাঁধা।
আমার তো মনে হয়, ডিকশনারি ফুরিয়ে গিয়েছে। আমায় যা গালাগালি দেওয়া হয়েছে। তাতে বিরোধীদের রিসৈার্চ টিম তৈরি করতে হবে, নতুন শব্দ খোঁজার জন্য। আমি তো পরমাত্মায় বিশ্বাসী। শিব তো আমাদের শিখিয়েছেন, অমৃত রক্ষা করতে গেলে, বিষপান করতেই হবে।
সরকারি ব্যবস্থায় চলাফেরা করাটা আমার পক্ষে কঠিন। আগে যখন মুখ্যমন্ত্রী ছিলাম, যেখানে খুশি নামতে পারতাম। ছোট বিমান বা হেলিকপ্টার যেখানে খুশি নামতে পারত। আজ এসপিজির জন্য সব জায়গায় বিমান নামতে পারে না। আগে যেখানে দিনে ৫-৬টা বৈঠক করতে পারতাম, এখন ৩-৪টের বেশি পারি না।
২০১৪ সালে সব থেকে মুশকিল হয়েছিল। তখন আমায় গোটা দেশে প্রচার করতে হত, তার মধ্যেই গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রীর কাজও করতে হত। প্রচার সেড়ে ফিরে, স্নান করে আমি গুজরাটের বাজেট করতে বসতাম।
এখনও যকন বিদেশে যাই, বা অন্য কোথাও যাই, প্রয়োজনীয় ফাইল বিমানেই দেখে নিই। আর আজ আমি একসঙ্গে অনেক কাজ করায় দক্ষ হয়ে গিয়েছি। আমি সব কাজেই সমানভাবে সময় দিই। এই ভারসাম্য রাখাটা বোধহয় আমায় শিখিয়েছে যোগাভ্যাস।
নির্বাচন আমার কাছে নতুন বিষয় নয়। গত দুইবার যা মানুষের মনে আশা ছিল, তা এবার গ্যারান্টিতে পরিণত হয়েছে। ২০১৯ সালে আমি ৫ বছরের রিপোর্ট কার্ড নিয়ে গিয়েছিলাম। লোকের মনে বিশ্বাস জেগেছিল। তারা বুঝেছিল এই সরকার যা বলে তা করে। এবার আমি তাদের উচ্চাকাঙ্খা পূরণ করব।
৭ লোকমার্গ ক্ষমতার কেন্দ্র নয়, লোক কল্যান এবং লোকসেবার কেন্দ্র
আর কিছুক্ষণের অপেক্ষা। তারপরই টিভি৯ নেটওয়ার্কের ৬ সম্পাদকের মুখোমুখি হতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী।