
নয়ের দশকে ‘বাদশাহ ও বাদশাহ’ কিংবা ‘ম্যায় কোয়ি অ্যায়সা গীত’— শাহরুখ খানের ঠোঁটে অভিজিৎ ভট্টাচার্যের কণ্ঠ ছিল যেন সাফল্যের গ্যারান্টি। একটা সময় ছিল যখন অভিজিৎ ঠিক করেছিলেন তিনি কেবল শাহরুখের জন্যই গাইবেন। কিন্তু সেই গর্ব আর ভালোবাসা আজ তিক্ততায় রূপান্তরিত। গায়কের মতে, শাহরুখের চরম অহঙ্কার এবং তাঁকে প্রাপ্য সম্মান না দেওয়ার কারণেই এই বন্ধুত্বের অবসান ঘটেছে।
অভিজিতের দাবি অনুযায়ী, তাঁদের সম্পর্কের তিক্ততার সূত্রপাত শাহরুখের নিজস্ব প্রোডাকশনের ছবি ‘ম্যায় হুঁ না’ থেকে। ছবিতে গান গেয়েও গায়ক হিসেবে যথাযথ কৃতিত্ব না পাওয়ায় তিনি নিজেকে অপমানিত বোধ করেছিলেন। গায়কের আক্ষেপ, “শাহরুখের জন্য প্রাণ দিয়ে গাইতাম, কিন্তু ওঁর আচরণ খুব আঘাত করেছিল।” সেই যে দূরত্ব তৈরি হল, তা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কেবল বেড়েছে।
অভিজিৎ স্মৃতিচারণ করে জানান, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে শাহরুখ বাকিদের সস্নেহে জড়িয়ে ধরলেও তাঁকে এড়িয়ে যেতেন। অভিজিতের কথায়, “শাহরুখ যদি একবার এগিয়ে এসে আমায় জড়িয়ে ধরতেন এবং সব ভুলে যেতে বলতেন, আমি মুহূর্তের মধ্যে সব অভিমান ভুলে যেতাম। কিন্তু সেই সৌজন্যটুকু দেখাতে পারেননি তিনি।”
সাক্ষাৎকারে অভিজিৎ টেনে এনেছেন আমির খান ও ফারহা খানের প্রসঙ্গও। তাঁর দাবি, আমির খান নাকি এক সময় শাহরুখের নামে কুকুর পুষেছিলেন এবং ফারহা খানের স্বামীর থেকেও অপমান সইতে হয়েছিল শাহরুখকে। অথচ তাঁদের সঙ্গে শাহরুখের ‘বন্ধুত্ব’ অটুট। গায়কের প্রশ্ন যাঁরা জনসমক্ষে তাঁকে অপমান করলেন, তাঁদের তিনি আপন করে নিতে পারলেন, অথচ তাঁর বেলায় কেন এত অহংবোধ?
অভিমানী গায়ক আরও বলেন, তাঁর বিশ্বাস একদিন শাহরুখও নিজের প্রযোজনা সংস্থা থেকে একই রকম আচরণের শিকার হবেন। আত্মসম্মান বিসর্জন দিয়ে শাহরুখের কাছে মাথা নোয়াতে তিনি নারাজ, তাই এই মনোমালিন্য মেটার সম্ভাবনাও বর্তমানে ক্ষীণ।