
২০০৭ সালের ২০ এপ্রিল সাত পাকে বাঁধা পড়েছিলেন অভিষেক ও ঐশ্বর্য। দুই দশক ছুঁইছুঁই দাম্পত্যের পর আজও তাঁদের রসায়ন অটুট। সম্প্রতি ‘ডেকান ক্রনিকল’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অভিষেক ফিরে গিয়েছেন ফেলে আসা দিনগুলোতে। তিনি জানিয়েছেন, ২০০০ সালে রাজ কানওয়ারের ‘ঢাই অক্ষর প্রেম কে’ ছবির সেটে প্রথম আলাপ হয় তাঁদের। অভিষেক হাসতে হাসতে বলেন, “তখনও জানতাম না ভবিষ্যতে কী হতে চলেছে। আমাদের মধ্যে খুব ভালো বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছিল ঠিকই, কিন্তু সে সময় ঐশ্বর্যই যে আমার সোলমেট হবে, এমন কোনও আঁচ আমি পাইনি।”
বন্ধুত্ব থেকে প্রেমের শুরুটা হয়েছিল জেপি দত্ত-র ‘উমরাও জান’ ছবির শুটিং চলাকালীন। এরপর মণি রত্নমের ‘গুরু’ মুক্তির কয়েক মাস পরেই বিয়ের পিঁড়িতে বসেন তাঁরা। অভিষেক আজও মণি রত্নমকে তাঁদের দু’জনের প্রিয় বন্ধু এবং অভিভাবক বলে মনে করেন। ১৯ বছরের এই দীর্ঘ যাত্রাপথকে ‘স্বপ্ন’ বলে অভিহিত করে অভিনেতা বলেন, “আরাধ্যাকে সঠিক মূল্যবোধ দিয়ে বড় করে তোলার পুরো কৃতিত্ব ঐশ্বর্যের। ও শুধু আমার মেয়ের মা নয়, ও আমার আত্মার আত্মীয়। আমাদের ২০তম বিবাহবার্ষিকী নিয়ে আমার বড় পরিকল্পনা আছে, তবে সেটা এখনই ফাঁস করছি না। তবে এটা বলতে পারি, যেটা করব, সেটা গোটা দুনিয়া দেখবে।”
সাক্ষাৎকারে মজাদার ছলে সফল বিয়ের একটি গোপন মন্ত্রও শিখিয়ে দিয়েছেন অভিষেক। তিনি বলেন, “প্রতি রাতে ঘুমানোর আগে স্ত্রীকে কোনও কারণ ছাড়াই অন্তত তিনবার ‘সরি’ বলুন!” বচ্চন পরিবারের বাংলো ‘প্রতীক্ষা’-তে হওয়া সেই স্বপ্নের বিয়ের পর থেকে আজ পর্যন্ত এই নীতিতেই হয়তো তাঁদের সুখের সংসার টিকে রয়েছে।
লিলি সিং-এর সঙ্গে এক কথোপকথনে অভিষেক জানিয়েছিলেন, তাঁদের পরিবারে কাজ বা দায়িত্বের ক্ষেত্রে কোনও লিঙ্গবৈষম্য নেই। তিনি বলেন, “আমরা আরাধ্যাকে মুখে নীতিবাক্য শেখানোর চেয়ে নিজেরা কাজ করে উদাহরণ তৈরি করতে বেশি বিশ্বাসী। আমি কখনোই এমনটা ভাবি না যে, আমি ওকে আত্মরক্ষা শেখাব আর ঐশ্বর্য শেখাবে সহানুভূতি। আমার স্ত্রীকে দেখলেই বোঝা যায় যে ও নিজের যত্ন নিতে নিজেই সক্ষম। তাই আমাদের মধ্যে দায়িত্বের কোনও ধরাবাঁধা ভাগ নেই।” ঐশ্বর্য-অভিষেকের এই পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বোঝাপড়াই তাঁদের বলিউডের অন্যতম আদর্শ দম্পতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।