
অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক মৃত্যু টলিপাড়াকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। তবে নেটিজেনদের অনেকেই প্রশ্ন করেছেন এই ধারাবাহিকে রাহুলের সহ অভিনেতা অম্বরীশ ভট্টাচার্যকে দেখা যায়নি তাঁর শেষ যাত্রা থেকে মৌন মিছিলে! রাহুলের সঙ্গেই অভিনয় করতেন অভিনেতা অম্বরীশ ভট্টাচার্য। কেন তিনি চুপ করে আছেন, কেন তিনি একবারও যাননি? এর উত্তরের আশায় টিভিনাইন বাংলা যোগাযোগ করে অভিনেতা অম্বরীশ ভট্টাচার্যের সঙ্গে। রাহুলের আকস্মিক মৃত্যুর বেশ কিছুদিন পর মুখ খুললেন অভিনেতা অম্বরীশ। তিনি বললেন, ‘ যে দিন এই দুর্ঘটনা ঘটে আমি শুটিংয়ের পর রওনা হয়ে যাই। দুপুর তিনটের মধ্যে আমার কাজ শেষ হয়, আমি তখন ওই জায়গাতেই ছিলাম না। যখন এই দুর্ঘটনার খবর পাই, আমি শোকগ্রস্ত হয়েছিলাম। তাই আমি চেষ্টা করেও রাহুলের শেষ যাত্রা বা মিছিলে যেতে পারিনি।
দর্শকদের মধ্যে অনেকের মনেই নানা প্রশ্ন উঠেছে। আমি সেটা বুঝতে পেরেছি। তবে আমার কোনও উপায় ছিল না। গত দু’ মাস ধরে তো আমি ওঁর সঙ্গে এক রুম শেয়ার করেছি। বহু মুহুর্ত ভিড় করছিল মনের মধ্যে। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলাম। তবে আমি যেটা করেছি, ওখান থেকে ফেরার দু’ দিনের মাথায় ম্যাজিক মোমন্টস-এ ফোন করে জানিয়ে দিয়েছি যে, আমি ওদের যে দুটো ধারাবাহিকে কাজ করছিলাম, সেগুলো আর করতে পারব না। ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ও ‘চিরসখা ‘ থেকে রিজাইন করেছি। আমি মনে করিনি এটা ফলাও করে বলার মত কিছু না। বা সমাজ মাধ্যমে লেখার বিষয় নয়। তবে দর্শকদের অনেকের মনেই প্রশ্ন আসছে আমি কেন চুপ? আমি কেন কিছু মন্তব্য করছি না! তাই তাদের বলতে চাই, আমার যা করার দু’ দিনের মধ্যেই করে ফেলেছি। রিজাইন করেছি। ”
তিনি আরও বলেন, “ওই মুভিটোন স্টুডিওতে এক ঘর শেয়ার করতাম। আমার পক্ষে ওখানে গিয়ে এই মুহূর্তে কাজ করা সম্ভব নয়। ওই পরিবেশেই আর যেতে পারব না। তাই যা পদক্ষেপ করার করে ফেলেছিলাম। তবে আমার পক্ষে ওর শেষ যাত্রায় যাওয়া কোনভাবেই সম্ভব ছিল না। মানসিক অবস্থাই ছিল না। ”
আগামী মঙ্গলবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতিতে যাচ্ছে টলিপাড়া এই নিয়ে অম্বরীশ ভট্টাচার্য বলেন, ‘ অবশ্যই এই এসওপি তৈরি হওয়া উচিত, এটা হোক। আমার সঙ্গে বুম্বাদার দীর্ঘক্ষণ কথা হয়েছে রবিবার। আমি কী কী পদক্ষেপ নিয়েছি জানিয়েছি। আর এই এসওপি তৈরি হোক, শুধু অভিনেতা নয়, টেকনিশিয়ানদের জন্যও এই নিরাপত্তা ব্যবস্থার নিয়ম হোক। সেটা সব পক্ষ এক জোট হয়ে কর্মবিরতির মধ্যে দিয়ে একটা সমাধান করে ফেললে, সকলের জন্য ভালো হবে। সত্যি কোনও নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেই আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে। আজ রাহুল তাঁর প্রাণ দিয়ে আমাদের জন্য এই কাজটা করে গেল।”
অম্বরীশ বাংলার বাইরেও নানা প্রজেক্টে কাজ করে থাকেন? বাইরে কি সুরক্ষা ব্যবস্থা ভালো? তিনি বললেন, “আমাদের থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাইরে অনেক বেশি উন্নত। আমাদের সুরক্ষার কোনও ঠিক-ঠিকানা নেই। এই আগুনের দৃশ্য, ঝাঁপ দেওয়া এসব করতে গিয়ে কোনও সুরক্ষা থাকে না। আমি ভয় পাই বলে করি না। অনেকেই ইমোশনাল হয়ে করে বিপদও হয়। তাই সুরক্ষার ব্যবস্থা থাকতেই হবে।”