
পর্দার ‘খিলাড়ি’ তিনি, কিন্তু বাস্তবের ডিজিটাল দুনিয়ায় তাঁর পরিবারও রেহাই পায়নি সাইবার অপরাধীদের হাত থেকে। সম্প্রতি মুম্বইয়ের আর.ডি. ন্যাশনাল কলেজে একটি সাইবার সচেতনতা শিবিরে যোগ দিয়ে মহারাষ্ট্র সাইবার বিভাগের অ্যাডিশনাল ডিরেক্টর জেনারেল যশস্বী যাদব এই চাঞ্চল্যকর খবরের সত্যতা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, অক্ষয় কুমারের কন্যা নিতারাকে অনলাইনে হেনস্থা করার দায়ে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কী ঘটেছিল নিতারার সঙ্গে?
মহারাষ্ট্র পুলিশের এই পদস্থ কর্তা জানান, অক্ষয় কুমার নিজেই পুলিশের কাছে এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছিলেন। অনলাইন গেম খেলার সময় এক অচেনা ব্যক্তি নিতারার সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলে। প্রথমে সৌজন্যমূলক বার্তার আড়ালে পরিচয় ঘনিষ্ঠ করার চেষ্টা করা হয় এবং পরে কুপ্রস্তাব দেওয়া হয়। যশস্বী যাদব বলেন, “মেয়েটি অত্যন্ত সাহসী। সে ভয় না পেয়ে দ্রুত তার বাবা-মায়ের কাছে বিষয়টি জানায়। তাদের মাধ্যমেই আমরা তথ্য পাই এবং দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করি।”
২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে এই ঘটনা নিয়ে একটি ভিডিও ক্লিপে অক্ষয় কুমার বিস্তারিত জানিয়েছিলেন, যা এদিন সচেতনতা শিবিরে পুনরায় দেখানো হয়। অক্ষয় বলেন, “কয়েক মাস আগে আমার মেয়ে একটি ভিডিও গেম খেলছিল যেখানে অচেনা প্রতিপক্ষের সঙ্গে চ্যাট করার সুযোগ থাকে। শুরুতে সেই ব্যক্তি খুব ভদ্রভাবে কথা বলছিল। কিন্তু পরিচয় পাওয়ার পরেই সে আচমকা আমার মেয়ের কাছে ‘নগ্ন ছবি’ চেয়ে বসে।”
অক্ষয় আরও যোগ করেন, “ছবি চাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমার মেয়ে গেমটি বন্ধ করে দেয় এবং তাঁর মায়ের (টুইঙ্কল খান্না) কাছে সবটা খুলে বলে। এটা খুব বড় একটা গুণ যে সে চেপে না রেখে আমাদের জানিয়েছে। এভাবেই সাইবার অপরাধ শুরু হয়, যা পরে আত্মহত্যা বা বিপুল টাকা আদায়ের দিকে মোড় নেয়।”
নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতার পর অক্ষয় কুমার মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশের কাছে বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, প্রতিটি স্কুলে বাধ্যতামূলকভাবে ‘সাইবার ক্রাইম ক্লাস’ চালু করা হোক যাতে শিশুদের ডিজিটাল জগতের বিপদ সম্পর্কে আগেভাগেই সচেতন করা যায়।
এদিনের শিবিরে যশস্বী যাদব পড়ুয়াদের সতর্ক করে জানান, ডিজিটাল জগতে ফিশিং, সাইবার বুলিং এবং আর্থিক প্রতারণা দিন দিন বাড়ছে। তাই অচেনা কাউকে ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়া বা বিপদে পড়লে চুপ থাকা যে চরম ঝুঁকি হতে পারে, নিতারার এই ঘটনা তারই জলজ্যান্ত প্রমাণ।