জানেন কেন বিদ্যা বালানকে দেখে ভয়ে ৬ বছর সামনে আসেননি অক্ষয় পুত্র?
অক্ষয়ের কথায়, "সম্প্রতি ছেলের সঙ্গে কথা বলছিলাম। ও জানাল, ভুলভুলাইয়া দেখার পর প্রায় ছয় বছর ও বিদ্যার সঙ্গে কথা বলেনি। ও বিদ্যাকে মারাত্মক ভয় পেত। বিদ্যা যখন আমাদের বাড়িতে আসত, আরভ ওর চোখের দিকে তাকাতে পারত না। ওকে একবার দেখা করতে বললেও ও রাজি হত না।" অভিনেতা হাসতে হাসতে আরও যোগ করেন, "আমাকে টানা ৬ বছর ওকে বোঝাতে হয়েছিল যে, ‘ও বিদ্যা বালান, ও খুব ভালো মানুষ’।

‘আমি মঞ্জুলিকা…’— ২০০৭ সালে বড়পর্দায় যখন এই সংলাপ আর সঙ্গে সেই হাড়হিম করা হাসিটা ছড়িয়ে পড়েছিল, তখন তিলধারণের জায়গা ছিল না প্রেক্ষাগৃহে। বিদ্যা বালানের সেই ‘ভুলভুলাইয়া’ রূপ আজও সিনেমা প্রেমীদের মনে শিহরণ জাগায়। সাধারণ মানুষ তো বটেই, খোদ অক্ষয় কুমারের বাড়ির অন্দরেও এই ছবি এক বিচিত্র কাণ্ড ঘটিয়েছিল। অক্ষয়ের নিজের ছেলেই নাকি দীর্ঘ ৬ বছর বিদ্যার ভয়ে সিঁটিয়ে ছিলেন!
সম্প্রতি নিজের আসন্ন ছবি ‘ভূত বাংলা’র প্রচারে এসে এই মজার তথ্য ফাঁস করেছেন অক্ষয় কুমার। অক্ষয় জানিয়েছেন, ‘ভুলভুলাইয়া’ দেখার পর তাঁর ছেলে আরভ এতটাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন যে, বাস্তবের বিদ্যা বালানকে দেখতেও ভয় পেতেন। এমনকি বিদ্যা যখন অক্ষয়ের বাড়িতে আসতেন, আরভ তাঁর মুখোমুখি হওয়ার সাহসটুকু জোগাড় করতে পারতেন না।
অক্ষয়ের কথায়, “সম্প্রতি ছেলের সঙ্গে কথা বলছিলাম। ও জানাল, ভুলভুলাইয়া দেখার পর প্রায় ছয় বছর ও বিদ্যার সঙ্গে কথা বলেনি। ও বিদ্যাকে মারাত্মক ভয় পেত। বিদ্যা যখন আমাদের বাড়িতে আসত, আরভ ওর চোখের দিকে তাকাতে পারত না। ওকে একবার দেখা করতে বললেও ও রাজি হত না।” অভিনেতা হাসতে হাসতে আরও যোগ করেন, “আমাকে টানা ৬ বছর ওকে বোঝাতে হয়েছিল যে, ‘ও বিদ্যা বালান, ও খুব ভালো মানুষ’। কিন্তু আরভ শুনত না। ওর মনে ওই ভয়টা একেবারে গেঁথে গিয়েছিল।”
প্রিয়দর্শনের পরিচালনায় ‘ভুলভুলাইয়া’ ছবিতে ‘অবনী’ এবং ‘মঞ্জুলিকা’র দ্বৈত চরিত্রে বিদ্যা যে অভিনয় করেছিলেন, তা বলিউডের ইতিহাসে অন্যতম সেরা সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার হিসেবে গণ্য হয়। বিশেষ করে ক্লাইম্যাক্সে বিদ্যার সেই রুদ্রমূর্তি বড়দেরও রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছিল, আর আরভ তো তখন নিতান্তই শিশু। পর্দার সেই আতঙ্ক যে বাস্তব জীবনের সম্পর্কেও এমন প্রভাব ফেলবে, তা বোধহয় খোদ অক্ষয়ও ভাবতে পারেননি।
দীর্ঘ ১৪ বছর পর পরিচালক প্রিয়দর্শনের সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন তিনি ‘ভূত বাংলা’ ছবিতে। আগামী ১৬ এপ্রিল প্রেক্ষাগৃহে আসতে চলেছে এই সিনেমা। যেখানে অক্ষয়ের সঙ্গে দেখা যাবে টাবু, পরেশ রাওয়াল, ওয়ামিকা গাব্বি এবং রাজপাল যাদবকে। আরভের সেই পুরনো স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়ে অক্ষয় যেন বুঝিয়ে দিলেন, প্রিয়দর্শন এবং তাঁর রসায়ন পর্দায় কতটা গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।
