
জম্মু ও কাশ্মীরের বান্দিপোরার গুরেজ উপত্যকার প্রত্যন্ত সীমান্ত এলাকায় অবস্থিত সরকারি মিডল স্কুল নেরু তুলেইল এল এক যুগান্তকারী পরিবর্তন। ২০২১ সালে বলিউড অভিনেতা অক্ষয় কুমারের ১ কোটি টাকা অনুদানের পর স্কুলটির ভোল একেবারে পাল্টে গিয়েছে। এই অনুদানের অর্থে স্কুলের একটি নতুন ব্লক তৈরি করা হয়েছে, যা স্থানীয় শিশুদের জন্য প্রতিষ্ঠানের পরিকাঠামোর ব্যাপক উন্নতি সাধন করেছে।
অভিনেতার প্রয়াত পিতার স্মৃতিতে নতুন এই ভবনটির নাম রাখা হয়েছে ‘শ্রী হরি ওম ভাটিয়া এডুকেশন ব্লক’। বর্তমানে এখানে আধুনিক শ্রেণিকক্ষ, একটি কম্পিউটার ল্যাবরেটরি, একটি লাইব্রেরি এবং শিক্ষকদের জন্য প্রশস্ত অফিস ঘরের ব্যবস্থা রয়েছে। পাশাপাশি, স্বাস্থ্যকর ও উন্নত পরিবেশে শিক্ষার্থীরা এখন সরকারি মিড-ডে মিল প্রকল্পের সুবিধাও পাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) আমন্ত্রণে ওই সীমান্তবর্তী অঞ্চলে কর্তব্যরত জওয়ানদের সঙ্গে দেখা করতে ২০২১ সালে এলাকাটি পরিদর্শন করেন অক্ষয় কুমার। উত্তর কাশ্মীরের বান্দিপোরা জেলায় নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলওসি) বরাবর তুলেইল ওই গ্রামে সফরের সময় তিনি স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন। তাদের শিক্ষার চরম প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করার পরই তিনি এই বিপুল অঙ্কের আর্থিক অনুদান দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন।
সেই সফরের সময় অক্ষয় কুমার বিএসএফ জওয়ানদের সঙ্গেও দেখা করেন, তাদের সঙ্গে ছবি তোলেন এবং আনন্দে পা মেলাতেও দেখা যায় তাঁকে। ওয়ার মেমোরিয়ালে (যুদ্ধ স্মারক) পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে কর্তব্যরত অবস্থায় শহীদ হওয়া সেনাদের প্রতি তিনি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সফরের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টে অভিনেতা জানিয়েছিলেন যে, সীমান্তে পাহারারত বিএসএফ জওয়ানদের সঙ্গে সময় কাটানো তাঁর কাছে একটি অত্যন্ত স্মরণীয় এবং বিনম্র অভিজ্ঞতা।
নতুন ভবনটির নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর, ছাত্রছাত্রীরা এখন একটি উন্নত ও অনুকূল পরিবেশে পড়াশোনা করতে পারছে। স্থানীয় বাসিন্দা এবং স্কুলপড়ুয়ারা জানিয়েছেন যে, অত্যাধুনিক এই পরিকাঠামো স্কুলে পঠনপাঠনের অভিজ্ঞতাকে অনেক উন্নত করেছে এবং প্রত্যন্ত এই সীমান্ত গ্রামের শিশুদের শিক্ষার ভবিষ্যৎকে আরও সুদৃঢ় করতে সাহায্য করেছে।
‘শ্রী হরি ওম ভাটিয়া এডুকেশন ব্লক’-এর সফল নির্মাণ ২০২১ সালে অক্ষয় কুমারের ঘোষণা করা সেই অনুদানেরই একটি বাস্তব রূপ। এই নতুন পরিকাঠামো এখন সরকারি মিডল স্কুল নেরু তুলাইলের শিক্ষাদান, পঠনপাঠন এবং দৈনন্দিন স্কুল কার্যক্রমে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।