
বলিউডের শান্ত স্বভাবের অভিনেতা হিসেবেই পরিচিত অক্ষয় খান্না (Akshaye Khanna)। সেটে খুব একটা কথা বলেন না, নিজের চরিত্র আর কাজ নিয়েই মগ্ন থাকেন সারাক্ষণ। কিন্তু সেই শান্ত মানুষটাই একদিন সেটে এমন রুদ্রমূর্তি ধারণ করেছিলেন যে উপস্থিত সকলের রক্ত হিম হয়ে গিয়েছিল। শুধু তাই নয়, এক জুনিয়র বা স্বল্প পরিচিত অভিনেতার আত্মসম্মান রক্ষা করতে গিয়ে রীতিমতো ‘আগ্নেয়গিরি’র মতো ফেটে পড়েছিলেন তিনি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই অজানা গল্প শুনিয়েছেন অভিনেতা অমিত বহেল।
ঠিক কী ঘটেছিল সেদিন?
ঘটনাটি ঘটেছিল একটি সিনেমার শ্যুটিং চলাকালীন। শ্যুটিং ইউনিটের মূল তারকাদের জন্য যে হোটেলে দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা ছিল, সেখানে ভুল করে চলে এসেছিলেন এক স্বল্প পরিচিত অভিনেতা। তিনি অন্য একটি সাধারণ হোটেলে ছিলেন। খিদের মুখে সেই অভিনেতা যখন বুফে থেকে প্রথম গ্রাসটি মুখে তুলতে যাবেন, ঠিক তখনই বাধা দেন প্রযোজকের এক আত্মীয়। সবার সামনেই তাঁকে অপমান করে বলা হয়, “আপনি এখানে খেতে পারবেন না।” অপমানে মাথা নিচু করে খাবারের প্লেটটি সরিয়ে রেখে একপাশে গিয়ে বসেন সেই অভিনেতা।
পুরো ঘটনাটি অক্ষয় খান্না দূর থেকে লক্ষ্য করছিলেন। সাধারণত তিনি সেটে কারও সঙ্গে খুব একটা কথা বলেন না, কিন্তু সহকর্মীর এই অপমান তিনি মুখ বুজে সহ্য করতে পারেননি। অমিত বহেল জানান, সেই মুহূর্তে অক্ষয় যা বলেছিলেন তা সারা জীবন মনে রাখার মতো। তিনি প্রযোজক এবং উপস্থিত কর্মকর্তাদের সটান জানিয়ে দেন, “খিদের কোনও জাত হয় না, আর মানুষের সম্মানের চেয়ে বড় কিছু নেই।”
অক্ষয় সেদিন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছিলেন যে, শ্যুটিং সেটে কেবল নামী তারকারাই সব নন, প্রতিটি শিল্পীই সমান সম্মানের দাবিদার। তিনি চিৎকার করে বলেছিলেন, “কটা প্লেট খাবার নষ্ট হল বা কত খরচ হল, তা দিয়ে সিনেমা হিট হয় না; সিনেমা তৈরি হয় মানুষের আশীর্বাদে।” এক শান্ত মানুষের এমন রণংদেহী রূপ দেখে সেদিন সেটে উপস্থিত প্রত্যেকেই স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিলেন।
বর্তমানে অক্ষয় খান্না তাঁর কেরিয়ারের সেরা সময় পার করছেন। ২০২৫ সালে ‘ছাবা’ এবং ‘ধুরন্ধর’ ছবিতে তাঁর অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। বিশেষ করে ‘ধুরন্ধর’ ছবিতে গ্যাংস্টার রেহমান ডাকাইত হিসেবে তাঁর লুক এবং পারফরম্যান্স সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রীতিমতো ভাইরাল। খুব শীঘ্রই তেলুগু ছবি ‘মহাকালী’ এবং নেটফ্লিক্সের ‘ইক্কা’ ছবিতে সানি দেওলের বিপরীতে খলনায়কের চরিত্রে দেখা যাবে তাঁকে। তবে পর্দার ভিলেন হলেও বাস্তবের হিরো যে তিনিই, তা অমিত বহেলের এই স্মৃতিচারণেই স্পষ্ট।