
বয়স ৮৩ ছুঁইছুঁই, কিন্তু কাজের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা হার মানাবে যেকোনও তরুণকেও। তিনি অমিতাভ বচ্চন। একের পর এক কাজের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে গিয়ে ইদানীং রাতের পর রাত জেগে কাটছে তাঁর। সম্প্রতি নিজের ব্লগে এই দীর্ঘ কর্মব্যস্ততা এবং তার ফলে ঘুমের অভাব নিয়ে মনের কথা ভাগ করে নিয়েছেন বিগ বি।
চিকিৎসকরা তাঁকে দিনে অন্তত সাত ঘণ্টা ঘুমানোর পরামর্শ দিলেও, শাহেনশাহর কাছে বিশ্রামের চেয়ে কর্মযোগই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ব্লগে তিনি লিখেছেন, “রাত পেরিয়ে সকাল হয়ে যায়, তবুও ঘুমের দেখা নেই। কেন? কারণ আমার কাছে ঘুমের চেয়ে কাজ বেশি জরুরি। চিকিৎসা বিজ্ঞান বলে এটা ঠিক নয়… অন্তত ৭ ঘণ্টা ঘুম আবশ্যিক। ঘুমের মধ্যেই শরীরের বৃদ্ধি ঘটে এবং ক্ষয়পূরণ হয়। কিন্তু উপায় কী?”
তবে এই নির্ঘুম কর্মব্যস্ততার মাঝেও অমিতাভ খুঁজে পেয়েছেন এক অনন্য সঙ্গী— সঙ্গীত। গভীর রাতে যখন চারপাশ নিস্তব্ধ থাকে, তখন সুরের মূর্ছনাই তাঁর ক্লান্তি দূর করে। গিটার এবং সেতারের ধ্রুপদী সুর তাঁকে মানসিক প্রশান্তি দেয়। তিনি আরও জানান, ব্লগ লেখার সময় বা কাজ করার সময় এই নেপথ্য সঙ্গীতই তাঁর আত্মার খোরাক।
সঙ্গীতের মাহাত্ম্য বর্ণনা করতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন এই কিংবদন্তি অভিনেতা। তাঁর মতে, সঙ্গীত হল স্রষ্টার সঙ্গে আত্মার সংযোগকারী এক অদৃশ্য সুতো। অমিতাভ লিখেছেন, “সঙ্গীত হল সেই অদৃশ্য তার যা আত্মাকে পরমেশ্বরের সঙ্গে বেঁধে রাখে। এটি অনুভব করা যায়। সারেগামার এই সাতটি সুর বিশ্বের যেকোনও প্রান্তের মানুষের কাছেই এক চিরন্তন ভাষা। একে সম্মান দিলে, সুরও আপনাকে শান্তিতে ভরিয়ে দেবে।”
বার্ধক্যকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে অমিতাভ বচ্চন যেভাবে নিজের কাজ এবং দর্শনের মেলবন্ধন ঘটাচ্ছেন, তা ফের একবার প্রমাণ করল কেন তিনি ভারতীয় চলচ্চিত্রের অবিসংবাদিত নায়ক। দিনশেষে সুরের মায়া আর কাজের নেশাই তাঁর দীর্ঘ পথচলার জ্বালানি।