
বলি-তারকা অনিল কাপুর এবং তাঁর স্ত্রী সুনীতা কাপুরের দাম্পত্যের বয়স চার দশক পেরিয়ে গিয়েছে। কিন্তু আজও তাঁদের জীবনের প্রথম দিনগুলো নিয়ে কথা উঠলেই সামনে আসে একের পর এক চমকপ্রদ তথ্য। একটি মজার প্র্যাঙ্ক কল দিয়ে প্রেম শুরু, পকেটে টাকাপয়সার অভাব থেকে শুরু করে কেরিয়ারের কঠিন সংগ্রামের দিনে সুনীতার পাশে থাকা—সব মিলিয়ে অনিল-সুনীতার প্রেমকাহিনী যেকোনও রুপোলি পর্দার সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানায়। তবে সম্প্রতি জানা গেল, তাঁদের মধুচন্দ্রিমা বা হনিমুনও নাকি সাধারণ দম্পতিদের মতো একেবারেই কাটেনি!
বর্তমানে একটি জনপ্রিয় শো ‘ইন্ডিয়া কে টপ ১%: দ্য অনিল কাপুর শো’-এর সঞ্চালনা করছেন অভিনেতা। সাম্প্রতিক এক পর্বে কঙ্গনা রানাওয়াত অভিনীত বিখ্যাত সিনেমা ‘কুইন’ নিয়ে আলোচনা করার সময় হঠাৎ করেই অনিল কাপুরের মনে পড়ে যায় তাঁর বাস্তব জীবনের ‘কুইন’ অর্থাৎ স্ত্রী সুনীতার কথা। আর তখনই তিনি ফাঁস করেন এক অবিশ্বাস্য তথ্য—বিয়ের পর নাকি অনিলকে ছাড়াই একা একা হনিমুনে গিয়েছিলেন সুনীতা!
সেই মজার ও বিচিত্র ঘটনার স্মৃতিচারণ করে অনিল কাপুর হেসে বলেন, “সুনীতা একা একা হনিমুনে গিয়েছিল, আমি ওর সঙ্গে যাইনি!” কেননা, একদম শেষ মুহূর্তে অনিলের নতুন ছবির কাজ চলে আসে। আর সেই কারণেই মধুচন্দ্রিমা বাতিল না করে, একাই চলে যান সুনীতা। মধুচন্দ্রিমা মিস করলেও নিজের মনের রানির আসনে যে শুধুই সুনীতা বসে আছেন, তা নিয়ে বিন্দুমাত্র দ্বিধা নেই ‘ঝাকাস’ অভিনেতার। পত্নীপ্রেমী অনিলের মন্তব্য, “সুনীতাই আমার আসল রানি এবং ও সারাজীবন তাই থাকবে।”
তবে শুধু একা একা হনিমুনই নয়, বিয়ের আগে অনিল কাপুরের সামনে আরও একটি বেশ শক্ত শর্ত রেখেছিলেন সুনীতা। শর্তটি ছিল বেশ স্পষ্ট—বিয়ের পর কখনওই রান্নাঘরে ঢুকবেন না তিনি!
অনিল জানান, স্ত্রীর এই আবদারে তিনি রাগ তো করেনইনি, বরং বিষয়টিকে নিজের কেরিয়ারের মূল অনুপ্রেরণা বানিয়ে নিয়েছিলেন। সেই সময় তিনি ভেবেছিলেন, এত পরিশ্রম করবেন এবং জীবনে এতটাই সফল হবেন যে সুনীতাকে যেন কোনওদিনই রান্নাঘরের দোরগোড়ায় পা রাখতে না হয়!
অনিল কাপুরের কথায়, “আমার স্ত্রী সুনীতা শর্ত দিয়েছিল যে, যদি ওকে কখনও রান্নাঘরে না ঢুকতে হয়, তবেই সে আমায় বিয়ে করবে। ওর এই শর্ত শুনে আমি ঠিক করেছিলাম যে, আমাকে এত কঠোর পরিশ্রম করতে হবে এবং সফল হতে হবে যাতে ওর রান্নাঘরে যাওয়ার দরকারই না পড়ে। আমি সেই দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলাম এবং সত্যি বলতে আজ পর্যন্ত সুনীতা একদিনের জন্যও রান্নাঘরে ঢোকেনি।”
‘হিউম্যানস অফ বোম্বে’-কে দেওয়া এক পুরনো সাক্ষাৎকারেও অনিল নিজের প্রেমের প্রাথমিক দিনগুলোর স্মৃতি ভাগ করে নিয়েছিলেন। সেই সময়ে অভিনয়জগতে নিজের পায়ের তলার জমি পাওয়ার জন্য হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন অনিল, অন্যদিকে সুনীতা ছিলেন এক নামজাদা ব্যাংক কর্মকর্তার কন্যা এবং সফল মডেল। এক বন্ধুর মাধ্যমে অনিলের নম্বর জোগাড় করে প্রথমে তাঁকে নিছক মজা করতেই ফোন করেছিলেন সুনীতা, আর সেই প্র্যাঙ্ক কল থেকেই সূচনা হয়েছিল বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় এই সফল প্রেমকাহিনীর।