
টলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় ও সফল অনস্ক্রিন জুটির কথা উঠলে একসময় সবার আগে উঠে আসত অঙ্কুশ হাজরা ও নুসরত জাহানের নাম। ‘জামাই ৪২০’, ‘কেলোর কীর্তি’, ‘আমি যে কে তোমার’, ‘খিলাড়ি’ কিংবা ‘হরিপদ ব্যান্ডওয়ালা’—একাধিক সুপারহিট ছবিতে একসঙ্গে কাজ করেছেন তাঁরা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাংলা সিনেমার পর্দা থেকে এই জনপ্রিয় জুটি আচমকাই উধাও হয়ে যায়! টলিপাড়ায় কানাঘুষো শোনা যেত, নুসরতের সঙ্গে নাকি প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন অঙ্কুশ! এমনকী, এ-ও রটেছিল যে, ঐন্দ্রিলার সঙ্গে সম্পর্কের সূত্রপাতের পরেই নাকি নুসরত ও অঙ্কুশের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। অবশেষে টিভি নাইন বাংলার পডকাস্ট ‘অপ্রকাশিত’-এ এসে এই প্রথমবার সমস্ত জল্পনা ও গুঞ্জন নিয়ে একেবারে খুল্লমখুল্লা কথা বললেন অঙ্কুশ।
নুসরতের সঙ্গে কি সত্যিই প্রেম ছিল?
সম্পর্কের গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে অঙ্কুশ পরিষ্কার জানান, তাঁদের মধ্যে প্রেমের মতো কোনও ব্যাপার ছিল না। অভিনেতা বলেন, “নাহ, আমি আর নুসরত ৬-৭টা ছবি করেছি একসঙ্গে। যে কোনও কো-স্টারের সঙ্গে একটা বন্ডিং বা সখ্য তৈরি হয়, আমাদের ক্ষেত্রেও ঠিক তেমনই ছিল। তবে এর বাইরে কোনও প্রেম বা সম্পর্কের ব্যাপার ছিল না।”
কেন একসঙ্গে কাজ বন্ধ করে দিলেন অঙ্কুশ-নুসরত?
কেন দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের একসঙ্গে বড়পর্দায় দেখা যাচ্ছে না, তার নেপথ্যের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অঙ্কুশ জানান, তাঁদের দুজনের মধ্যে বর্তমানে একটি ‘আনকমফোর্টেবল জোন’ বা অস্বস্তিকর দূরত্ব রয়েছে। অনেকেই হয়তো এটাকে প্রেমঘটিত কোনও বিষয় বলে ভুল ভাবতে পারেন, কারণ ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে এমনটা প্রায়ই শোনা যায়। তবে অঙ্কুশ স্পষ্ট করে দেন যে, এই দূরত্বের কারণ মোটেও কোনও রোম্যান্টিক সম্পর্ক নয়। ঠিক কী কারণে তাঁরা একে অপরকে এড়িয়ে চলেন, তা পুরোপুরি ভাঙতে না চাইলেও অভিনেতা জানান, সঙ্গীর সম্মান তাঁর কাছে সর্বাগ্রে।
অঙ্কুশ এই প্রসঙ্গে আরও বলেন, “আমার হেডলাইনে থাকতে ভালো লাগে, কিন্তু নিজের সঙ্গীকে অসম্মান করে নয়। সোশ্যাল মিডিয়ার এই যুগটা অত্যন্ত অমানবিক। আমি জানি, আমি কিছু বললেই সেটা নিয়ে ট্রোলিং শুরু হবে, বিশেষ করে ঐন্দ্রিলাকে টেনে আনা হবে। তাই আমার কাছে আমার সঙ্গীর সম্মান সবথেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাতে আমার সঙ্গে নুসরতের ছবি হচ্ছে কি হচ্ছে না, তাতে আমার কিচ্ছু যায় আসে না। ঐন্দ্রিলার সম্মান ও মানসিক শান্তি আমার কাছে অনেক বেশি দামি।”