
স্বর্ণযুগের বহু গান প্রজন্মের পর প্রজন্ম আজও বুঁদ হয়ে শোনে। লতা মঙ্গেশকর, আশা ভোঁসলের গান ছাড়াও বাঙালির একান্ত আপন মধুর মত স্বর কিংবদন্তি শিল্পী আরতি মুখোপাধ্যায়ের। তাঁর গাওয়া গান ‘এই মোম জোছনায় ‘ গানটি আজও শ্রোতাদের মনে রাজ করছে। সব গানের একটা ইতিহাস থাকে, সেই সকল গান তৈরির গল্প নিয়ে আড্ডায় বসেছিলেন গায়িকা আরতি মুখোপাধ্যায়। টিভিনাইন বাংলার সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে সংগীত শিল্পী আরতি মুখোপাধ্যায় বলেন, ” আমাদের সময় গান আমাদের কাছে কম আসত। বরং আমরা নিজেরাই গান খুঁজতাম। ‘এই মোম জোছনায়..’ যে গানটি সেটা প্রথম শুনেছিলাম উত্তম কুমারের গলায়। সেই সময় উত্তম বাবুর শিল্পী সংসদের একটি বৈশাখী অনুষ্ঠানে গিয়েছি, সেখানেই উত্তম কুমার হারমোনিয়াম বাজিয়ে গানটি গাইছে, পাশে বসে আছেন সুপ্রিয়া। ও মাঝে মাঝে যোগ করছেন ‘এসো না গল্প করি’। আমার তো শুনে এতো পছন্দ হয়েছে, ভাবছি কি করে গানটা পাওয়া যায়। এই গানের সুর দিয়েছিলেন নচিকেতা ঘোষ, আমি বললাম গানটা খুব সুন্দর, এটা যদি গাওয়া যেত। সঙ্গে সঙ্গে দাদা বললেন নিশ্চয়ই গাইবে। থাকবে তোমার জন্য। এরপর আমি মুম্বই চলে যাই, কিছুদিন পর নচিকেতা ঘোষের মৃত্যু হয়। আবার শুনলাম এই গান উত্তম কুমার হারমোনিয়াম বাজিয়ে রেকর্ড করেছে। ভাবলাম এই গান আর গাওয়া হল না।
এরপর পুজোর গান খুঁজছি, তখন কলকাতায় এসে খোকা মানে সুবর্ণ কান্তি ঘোষের সঙ্গে যোগাযোগ করি। খোকা বলল অবশ্যই দেব। গৌরিপ্রসন্ন মজুমদারের লেখা আসাধারন। আমি মুম্বইতে মিউজিক কম্পানিকে বললাম, দারুণ রোমান্টিক একটা গান রয়েছে, ওরাও রাজি হয়ে গেল। এর পর ‘এই মোম জোছনায়’ গানটি আমি রেকর্ড করলাম। পুজোয় রেকর্ড বেরোতেই সুপারহিট। অসাধারণ সুর ও কথা। আমি সব সময় মনে করি, গানটা আমার কপালে ছিল। না হলে এতকিছু হওয়ার পরও গানটা গাওয়ার সুযোগ পেয়েছি। ” তিনি আরও বলেন, “উত্তম বাবুও আপত্তি করেননি , ওর রেকর্ড করা গান এখন স্যোশাল মিডিয়ায় এখন শোনা যায়। “