Asha Bhosle: মৃত্যুর ঠিক একদিন আগে চিৎকার করে উঠেছিলেন আশা ভোঁসলে! কোন সত্য সামনে আনলেন নাতি?

Asha Bhosle before her death: সেখানে উপস্থিত দর্শকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখা কেন জরুরি। অনেকটা শাসনের সুরে তিনি দর্শকদের মনে করিয়ে দেন তাঁদের সাংস্কৃতিক দায়বদ্ধতার কথা। চিন্টু জানান, শিল্পের প্রতি এই যে অধিকার ও ভালোবাসা, তা তিনি আমৃত্যু বয়ে বেড়িয়েছেন। ১২ এপ্রিল ঘুমের মাঝেই শান্তিতে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন এই কিংবদন্তি শিল্পী।

Asha Bhosle: মৃত্যুর ঠিক একদিন আগে চিৎকার করে উঠেছিলেন আশা ভোঁসলে! কোন সত্য সামনে আনলেন নাতি?
আশা ভোঁসলে ও তাঁর নাতি চৈতন্য ভোঁসলে।

|

Apr 28, 2026 | 4:29 PM

চিরঘুমের দেশে পাড়ি দেওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেও তাঁর কণ্ঠে ছিল তেজ এবং অন্তরে ছিল শিল্পের প্রতি টান।  ‘স্ক্রিন’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে চিন্টু ভোঁসলে জানিয়েছেন, গত ১১ এপ্রিল— অর্থাৎ প্রয়াণের ঠিক এক দিন আগে মুম্বইয়ের একটি প্রেক্ষাগৃহে তিন ঘণ্টার একটি মারাঠি নাটক দেখতে গিয়েছিলেন আশা ভোঁসলে (Asha Bhosle)। আর সেখানেই এমন কাণ্ড ঘটিয়েছিলেন আশা ভোঁসলে, যা কিনা হতবাক করে দিয়েছিল অনুরাগীরা।

কী ঘটেছিল আশার মৃত্যুর আগের দিন?

নাটক চলাকালীন এক পর্যায়ে মঞ্চে উঠে আসেন সুরসম্রাজ্ঞী। সেখানে উপস্থিত দর্শকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখা কেন জরুরি। অনেকটা শাসনের সুরে তিনি দর্শকদের মনে করিয়ে দেন তাঁদের সাংস্কৃতিক দায়বদ্ধতার কথা। চিন্টু জানান, শিল্পের প্রতি এই যে অধিকার ও ভালোবাসা, তা তিনি আমৃত্যু বয়ে বেড়িয়েছেন। ১২ এপ্রিল ঘুমের মাঝেই শান্তিতে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন এই কিংবদন্তি শিল্পী।

চিন্টু স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, দিদিমার সঙ্গে তাঁর শেষ কথা হয়েছিল মৃত্যুর ৩-৪ দিন আগে। সেই সন্ধ্যায় তাঁরা একসঙ্গে বসে আম খেয়েছিলেন এবং গল্প করেছিলেন ইরান-আমেরিকা-ইসরায়েল যুদ্ধ নিয়ে। চিন্টু বলেন, “তিনি খুব শান্তিতে চলে গিয়েছেন। কোনও যন্ত্রণা ছিল না তাঁর। আমরা হাসপাতালে যাব বললেও তিনি আমাদের বারণ করে বলেছিলেন, ‘আমাকে একটু ঘুমোতে দাও’। তিনি সারাজীবন নিজের শর্তে বেঁচেছিলেন, বিদায়ও নিলেন নিজের শর্তেই।”

আশাজির প্রয়াণে তাঁর ছেলে আনন্দ ভোঁসলে এবং দুই নাতি-নাতনি জানাই ও চিন্টু এখন গভীর শোকের ছায়া। চিন্টু জানান, তাঁর বোন জানাই পুরোপুরি ভেঙে পড়েছেন। জানাই ও আশা ভোঁসলে একসঙ্গে অনেক অনুষ্ঠান করেছেন এবং তাঁরা একে অপরের খুব কাছের ছিলেন। শোকাতুর হলেও ভোঁসলে পরিবার এই মুহূর্তটিকে দেখছে আশা ভোঁসলের বর্ণময় জীবনের উদযাপন হিসেবে। চিন্টু বলেন, “আমরা সবাই এখন একসঙ্গে বসছি, খাওয়াদাওয়া করছি, কথা বলছি এবং হাসছি। এই হাসি-মজাই এখন আমাদের শোক ভোলার রসদ। দিদিমাও হয়তো এটাই চাইতেন।”

সুরের জাদুতে সাত দশক ধরে মাতিয়ে রাখা ‘আশা’ চিরতরে স্তব্ধ হলেও, তাঁর তেজস্বী ব্যক্তিত্ব এবং শিল্পের প্রতি নিষ্ঠা প্রজন্মের পর প্রজন্মকে পথ দেখাবে।

Follow Us