‘লতাদি যাওয়ার পর যে শূন্যতা তৈরি হয়েছিল, তা উনিই তো আগলে রেখেছিলেন’ আশার মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ আরতি মুখোপাধ্যায়

আশা ভোঁসলের কণ্ঠের বহুমুখিতা নিয়ে আরতি মুখোপাধ্যায় আরও জানান যে, অত্যন্ত কঠিন সব রাগাশ্রয়ী গান তিনি অবলীলায় গেয়ে ফেলতেন। তাঁর কথায়, "একটা সময়কালের অবসান হল আশার মৃত্যুতে। উনি যেভাবে কোনও জিনিস শেখাতেন, জানি না আর কেউ কোনওদিন তা পারবেন কি না।"

‘লতাদি যাওয়ার পর যে শূন্যতা তৈরি হয়েছিল, তা উনিই তো আগলে রেখেছিলেন’ আশার মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ আরতি মুখোপাধ্যায়

Apr 12, 2026 | 2:24 PM

সুরের জগতের এক সোনালি অধ্যায়ের অবসান হল। আজ মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোঁসলে। তাঁর প্রয়াণে শোকস্তব্ধ গোটা সঙ্গীত মহল। এই প্রয়াণ শুধু এক গায়িকার বিদায় নয়, বরং ভারতীয় সংগীতের একটি যুগের যবনিকা পতন। শোকবিহ্বল হয়ে প্রখ্যাত গায়িকা আরতি মুখোপাধ্যায় স্মৃতিচারণ করলেন তাঁর ‘আশা দি’-র।

আরতি মুখোপাধ্যায় বলেন, “আমি শুধু ওনার সঙ্গে গানই গাইনি, আমি ওনার থেকে অনেক কিছু শিখেছি। লতাদি চলে যাওয়ার পর মনে হয়েছিল জায়গাটা একদম ফাঁকা হয়ে গেল। কিন্তু আশা দি সেই জায়গাটা পরম মমতায় ভরিয়ে রেখেছিলেন।” অতীতের কথা টেনে তিনি জানান, এই প্রতিভা ছিল বংশানুক্রমিক। তাঁদের বাবা পণ্ডিত দীননাথ মঙ্গেশকর ছিলেন অত্যন্ত উচ্চমানের পণ্ডিত মানুষ। আরতি দেবী বলেন, “ওনাদের পরিবার কোলাপুরে থাকতেন। তারপর আমারই এক পরিচিতর সঙ্গে বম্বে আসেন। সেখানে এক নাট্য কোম্পানিতে দীননাথ সুর দিতেন। বাবার সঙ্গে স্টেজে অনেক গান গেয়েছেন আশা জি।”

আশা ভোঁসলের কণ্ঠের বহুমুখিতা নিয়ে আরতি মুখোপাধ্যায় আরও জানান যে, অত্যন্ত কঠিন সব রাগাশ্রয়ী গান তিনি অবলীলায় গেয়ে ফেলতেন। তাঁর কথায়, “একটা সময়কালের অবসান হল আশার মৃত্যুতে। উনি যেভাবে কোনও জিনিস শেখাতেন, জানি না আর কেউ কোনওদিন তা পারবেন কি না।”

৯২ বছর বয়সে মাল্টিপল অর্গান ফেলিওরের কারণে এই মহাজাগতিক সুরের বিদায় ঘটল। আট দশকের দীর্ঘ কেরিয়ারে ২০টিরও বেশি ভাষায় ১১ হাজারেরও বেশি গান উপহার দিয়েছেন তিনি। ‘ও হাসিনা জুলফোঁয়ালে’ থেকে শুরু করে ‘দিল চিজ ক্যায়া হ্যায়’—তাঁর গায়কীর বিস্তার ছিল অবাক করার মতো। আগামীকাল মুম্বইয়ের শিবাজি পার্কে এই সুর-সম্রাজ্ঞীর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us