
কলকাতা: সমসাময়িক বাংলা সঙ্গীতে ‘হুলিগানইজম’-র একটি স্বতন্ত্র স্থান রয়েছে। যেখানে শহুরে বাংলা ভাষার সঙ্গে মিলেমিশে যায় লোকগানের সুর। বাংলার সঙ্গে মিশে যায় ইংরেজি। কখনও সে হয়ে যায় স্থানিক, কখনও আন্তর্জাতিক। সেই ‘হুলিগানইজম’-ই শুক্রবার সন্ধেয় কলামন্দিরে ঝড় তুলবে।
প্রায় অর্ধ শতাব্দীর বেশি সময় জুড়ে বাংলা ব্যান্ডের যাত্রাপথের নতুন এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সংযোজন ‘হুলিগানইজম’। বিভিন্ন কর্মক্ষেত্র থেকে আসা বিভিন্ন শিল্পীরা একত্রিত হয়ে গড়ে তুলেছে এই ব্যান্ড। বিগত এক বছরের বেশি সময় ধরে কলকাতা, বাংলা এবং আন্তর্জাতিক স্তরে বাংলা গানকে পৌঁছে দিচ্ছে ‘হুলিগানইজম।’ তাদের গানে যেমন থাকছে বিষ বৈচিত্র, তেমন থাকছে মানুষকে টেনে রাখার ক্ষমতা। তাদের ‘মেলার গান’ আপাতভাবে একটি আনন্দের গান হলেও আলোর বাহার যে পাঁচ দিনেরই, সেই কথা মনে করিয়ে দেয় এই গান। পূজার গান ইংরেজির সঙ্গে মিশে যায় সিধু, কানু। আঞ্চলিক ভাষা মিশে যায় সামগ্রিকতার সঙ্গে। হুলিগানইজমের গানে আদৌ গতিপথ বদলাবে কি না জানা না গেলেও, বদল আনার একটা ভয়ঙ্কর চেষ্টা যে এই ব্যান্ডের আছে, সে কথা বলাই বাহুল্য।
হুলিগানইজম আর কী শেখায়? হুলিগানইজম শেখায়, এই পৃথিবী যতই ভালো লোকেদের না হোক, এই পৃথিবীতে ভালোবাসতে হয়, এই পৃথিবীকে ভালোবাসতে হয়। তাই অন্যান্য গানের সঙ্গে এই ব্যান্ড আমাদের উপহার দেয় ‘চুমুর গান’। আমরা এই ব্যান্ডের অনেক গান শুনেছি। অনেক গান এখনও শোনা বাকি। সেই নতুন গান নতুনভাবে শোনার জন্য আমরা দিন গুনছি প্রতিনিয়ত।
শুধুমাত্র গানে বা কথায় নয়, যন্ত্রনুসঙ্গে, আলোয়, ছবিতে, পোশাকে সবকিছুতেই বারেবারে আমাদের চমক দিয়েছে হুলিগানইজম। রচনা করেছে ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধন। গানকে কেবল গান নয়, একটি দৃশ্য শ্রাব্য মাধ্য হিসাবে তুলে ধরতে চাইছে এই ব্যান্ড। সেই বিরল অভিজ্ঞতার সাক্ষী থাকতে আপনারাও চলে আসুন কলামন্দিরে। ৬ মার্চ, সন্ধে ৭টায়। অনুষ্ঠান ‘অন্ধকারই চেনায় সঠিক যাতায়াত।’