
বিগ বস বাংলার ঘরে এখন টানটান উত্তেজনা। নিয়ম ভাঙার অপরাধে গোটা বাড়িকেই শাস্তির মুখে পড়তে হয়েছে। তবে এর মাঝেই দ্বিতীয় ওয়াইল্ড কার্ড এন্ট্রি হিসেবে প্রবেশ করে গোটা খেলাটাই ঘুরিয়ে দিলেন অভিনেতা জীতু কামাল। বাড়িতে পা রাখতেই তাঁর হাতে এল এক বিশেষ ক্ষমতা, আর সেই ক্ষমতার জোরেই তিনি এমন একজনকে নমিনেশনের হাত থেকে বাঁচালেন, যা দেখে চোখ কপালে বাকি প্রতিযোগীদের।
কী ঘটেছে?
উইকেন্ডের পর্বে দেখা গিয়েছে, প্রতিযোগীদের ওপর বেজায় ক্ষুব্ধ স্বয়ং বিগ বস। কারণ, কেউই নাকি নিয়মকানুন ঠিকমতো মানছেন না। মাইক না পরা, ফিসফিস করে কথা বলা, অপরিষ্কার রান্নাঘর ও বাথরুম, সব মিলিয়ে চরম বিশৃঙ্খলা। এমনকি অনবরত হিন্দি বা ইংরেজি ভাষাতেও কথা বলে চলেছেন প্রতিযোগীরা। এই লাগাতার নিয়ম লঙ্ঘনের শাস্তি হিসেবে ক্যাপ্টেন সোহিনী পাল এবং নতুন সদস্য জীতু কমল ছাড়া সকলকেই নমিনেট করেন বিগ বস।
তবে আসল চমকটা এল এরপরই। বিগ বস জীতুকে বিশেষ ক্ষমতা দিলেন যে, তিনি এই নমিনেটেড সদস্যদের মধ্যে থেকে যে কোনও একজনকে বাঁচাতে পারবেন। অনেকেই ভেবেছিলেন, হয়তো মনামী ঘোষ বা ভরত কলের মতো কাউকে বেছে নেবেন তিনি। কিন্তু সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে জীতু সরাসরি রাজবীর দে-কে সেফ করে দিলেন! কারণ হিসেবে বিগ বসকে তিনি জানান, “রাজবীর অনেক ভুল করে। মেয়েদের সঙ্গে খারাপভাবে কথা বলে, জামা ছুড়ে ফেলে দেয়। কিন্তু আপনি যেমন সুযোগ দিলেন, আমি তেমন সুযোগ ওকে দিতে চাই।”
অথচ বিগ বসের বাড়িতে জীতু পা রাখতেই শুরু হয়েছিল তুমুল হইচই। প্রথম দিনেই জীতুর সঙ্গে রাজবীরের জোর গোল বাধে। রাজবীরের হাত ধরে টানটানিতে মেজাজ হারান তিনি। জীতু তখন স্পষ্টই বলেছিলেন, “তুমি অতিরিক্ত রিঅ্যাক্ট করো।” নন্দিনী দত্তও জীতুকে আক্রমণ করে বলেছিলেন যে মাত্র একটা এপিসোড দেখেই তিনি রাজবীরের মাথা গরম বুঝে গিয়েছেন! অথচ সেই তিক্ততার পরেই রাজবীরকে বাঁচিয়ে জীতু বুঝিয়ে দিলেন, এই খেলায় কখন কী হয়, তা আগে থেকে বলা মুশকিল।
রাজবীরকে বাঁচানোর পর খেলার মোড় আরও ঘোরান বিগ বস। প্রতিযোগীদের দু’জন দু’জন করে গ্রুপে ভাগ করে দেওয়া হয়। জানিয়ে দেওয়া হয়, জীতুর তত্ত্বাবধানে ওই দু’জনের মধ্যে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে কে নমিনেটেড থাকবেন এবং কে থাকবেন না। এই হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের শেষে চলতি সপ্তাহে নমিনেশনের তালিকায় নাম উঠল সায়ক চক্রবর্তী, দীপেন্দু বিশ্বাস, মনামী ঘোষ, দুর্নিবার সাহা এবং নিরঞ্জন মণ্ডলের। আগামীতে এই সমীকরণ কোন দিকে যায়, এখন সেটাই দেখার।