
নন্দিনী (Nandini) আর রাজবীরের মধ্যে ঠিক কী চলছে বিগ বসের ঘরে? একদিকে গেম জেতার লড়াই, অন্যদিকে আবেগের বিস্ফোরণ। বিগ বস বাংলার (Bigg Boss Bangla) ঘরে সম্প্রতি এমন এক কাণ্ড ঘটল, যা দেখে দর্শকদের রীতিমতো চোখ কপালে উঠেছে।
‘আমাকে ছোঁবে না!’— বলে চিৎকার করে ওঠেন নন্দিনী। রাজবীর দে (Rajveer Dey) কাছে আসতেই রেগে আগুন নন্দিনী। এমনিতেই ঘরে পা রাখার পর থেকে নিজের চালে সবাইকে চমকে দিয়েছেন রাজবীর। কখনও ফ্লার্ট, কখনও আবার মাইন্ডগেম। কিন্তু এবার পরিস্থিতি একেবারে হাতের বাইরে চলে গিয়েছে। ঘরের এক কোণে বসে অঝোরে কাঁদছিলেন নন্দিনী। তিনি অভিমানী গলায় রাজবীরকে বলছিলেন, “বিছানায় বসে যখন কথা বলছিলাম, তখন তো আমি কোনও গেম খেলছিলাম না!” কথা শেষ হওয়ার আগেই রাজবীর তাঁর চোখের জল মুছিয়ে দিতে যান। আর তখনই এক ঝটকায় তাঁর হাত সরিয়ে দেন নন্দিনী। ক্ষোভে ফেটে পড়ে তিনি বলেন যে, রাজবীর তাঁর সঙ্গে চরম মাইন্ডগেম খেলেছে। সৃজলা, জয়িতা বা তনুশ্রী, সবার কাছে গিয়েই নাকি একই কথা বলছেন রাজবীর! তখন রাজবীর মুখের ওপর স্বীকার করে নেন যে তিনি নিজের গেম জেতার জন্যই এসব করছেন। নিজের সরলতার সুযোগ নিয়ে রাজবীরের এই ছলনা এবং সবার সঙ্গে একইরকম মিথ্যে কথা বলার বিষয়টি ধরতে পেরেই নন্দিনী কষ্ট পান। সেই রাগ ও অভিমান থেকেই তিনি রাজবীরের সামনে কেঁদে ফেলেন। এই ঘটনার পর নন্দিনী সাফ জানিয়ে দেন, এই শো চলাকালীন রাজবীর যেন তাঁর সঙ্গে আর কথা না বলেন।
এই তো গেল আবেগের কথা। কিন্তু ক্যাপ্টেন হওয়ার টাস্কে যা হল, তা রীতিমতো হাতাহাতির পর্যায়ে পৌঁছে যায়। বিগ বসের ঘরে ‘শিলাবৃষ্টি’ নামের একটি নতুন টাস্ক চলছিল। এই খেলায় প্রতিযোগীদের আকাশ থেকে পড়া সাদা বল নিজেদের পাত্রে জমা করতে হত। ক্যাপ্টেন হওয়ার দৌড়ে ছিলেন নন্দিনী, সৃজলা, অ্যালেক্স, সোহিনী এবং তনুশ্রী।
এই খেলায় নন্দিনী ও সৃজলাকে জেতাতে গিয়ে গোটা ঘরের বিপক্ষে চলে যান রাজবীর। বল সংগ্রহ করতে গিয়ে জোর করে অ্যালেক্সের পাত্র ভেঙে ফেলেন তিনি। ধাক্কাধাক্কির জেরে ভেঙে যায় খোদ নন্দিনীর পাত্রও। পরিস্থিতি এতটাই গরম হয়ে ওঠে যে, রাজবীরকে আটকাতে তাঁকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরেন দুর্নিবার সাহা। ভরত কল থেকে শুরু করে মনামী, সবার সঙ্গেই তুমুল তর্ক জুড়ে দেন রাজবীর। এই ঘটনায় সৃজলা কার্যত ফেটে পড়েন। তাঁকে জড়িয়ে গরে শান্ত করা চেষ্টা করেন নিরঞ্জন। সোনামণিও রাজবীরের এই আচরণের কড়া নিন্দা করে বলেন, কাউকে সমর্থন করার অর্থ এই নয় যে অন্যের পাত্র ভেঙে দিতে হবে। দীপেন্দুও এই ঘটনার কড়া প্রতিবাদ করেন। শেষে পরিস্থিতি সামাল দিতে সঞ্চালক জয়িতা রাজবীরকে খেলা থেকে দূরে সরিয়ে দেন। একদিকে নন্দিনীর চোখের জল, অন্যদিকে টাস্ক নিয়ে ধুন্ধুমার। রাজবীরের এই আগ্রাসী গেমপ্ল্যান তাঁকে ট্রফির দিকে নিয়ে যাবে, নাকি গোটা ঘর তাঁর বিরুদ্ধে একজোট হবে? সেটাই এখন দেখার।