
রাজবীর (Rajveer), ‘বিগ বস বাংলা’-র অন্দরে পা রাখা মাত্রই যেন ওলটপালট হয়ে গিয়েছে গোটা ঘরের সমীকরণ। সকালের মনোরম পরিবেশ যে নিমেষের মধ্যে বারুদ ঠাসা রণক্ষেত্রে বদলে যাবে, তা কেউ ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারেননি। সৌজন্যে নতুন ওয়াইল্ড কার্ড প্রতিযোগী রাজবীর।
ঘরে ঢুকেই রাজবীর প্রথমে সোনামণি, জয়িতা, নন্দিনী এবং পরে বাকিদের কাছে গিয়ে দাবি করেন, তিনি ক্যাপ্টেন হতে চান। শুধু তা-ই নয়, শুরু থেকেই তাঁকে কখনও আলেক্সজেন্দ্রা আবার কখনও সৃজলার সঙ্গে ফ্লার্ট করতেও দেখা গিয়েছে। ফলে দর্শকদের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, এগুলো কি স্রেফ তাঁর গেম প্ল্যান, নাকি বাস্তবেও তিনি এমনই মেজাজের মানুষ?
তবে এবার বিবাদের সূত্রপাত শোওয়ার জায়গা নিয়ে। ঘরে লোক বাড়লেও খাটের সংখ্যা তো বাড়েনি। সবাই মিলে যখন হিসেব করছিলেন যে কিংসাইজ বা ডাবল বেডে কীভাবে অ্যাডজাস্ট করে রাজবীরকে জায়গা দেওয়া যায়, তখনই বেঁকে বসেন জয়িতা। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, নিজের খাট কিছুতেই ছাড়বেন না।
এর মাঝেই পরিস্থিতি আরও গরম করে তোলেন স্বয়ং রাজবীর। সৃজলার দিকে আঙুল তুলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে চেঁচিয়ে বলেন, “কেন আমাকে বারবার একটা মেয়ের সঙ্গে একই খাটে শোওয়ার জন্য জোর করছ? মনামীদি তো নিজেই বললেন যে আমি ওঁর সিঙ্গল খাটে শুলে ওঁর কোনো সমস্যা নেই।” কিন্তু রাজবীরের ব্যবহারে চরম অসন্তুষ্ট হয়ে মেজাজ হারান মনামী ঘোষ। ক্ষুব্ধ মনামী সঙ্গে সঙ্গে বলে ওঠেন, “আমার বিছানা ছাড়ো! তোমার আর আমার খাটে থাকার দরকার নেই।”
রাজবীরও ছাড়ার পাত্র নন! তিনি পালটা হুংকার দিয়ে বলেন, “এটা তোমার খাট? নাম লেখা আছে নাকি? আমি এখান থেকে সরব না। সিঙ্গল বেডে পা ছড়িয়ে শোওয়া আমার সুবিধা, আমি কেন ছাড়ব?” মনামী তখন স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি রাজবীরকে দেওয়া নিজের জায়গা ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব ফিরিয়ে নিচ্ছেন। মনামী বলে ওঠেন, “সই করেছি নাকি কোনও শংসাপত্রে?”
এই কথাতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন বাকি প্রতিযোগীরা। সোহিনী সরাসরি অভিযোগ করেন, “ও তো প্রথম থেকেই এটাই চাইছিল! আমাদের সঙ্গে নাটক করে সিঙ্গল বেডটা বাগিয়ে নিয়ে এখন শুয়ে শুয়ে হাসছে!” উত্তেজনার পারদ যখন চরমে, তখন রাজবীর বাকিদের উদ্দেশ্যে অহংকারের সুরে বলে বসেন, “কান ধরে সরি বলো সবাই!”
ব্যস, আগুনে ঘি পড়ল যেন! সৃজলা, লাফটার সেন আর নন্দিনী রেগে লাল হয়ে ওঠেন। সৃজলা চিৎকার করে বলেন, “এইসব ব্যবহার করলে জীবনে কোনও দিন বন্ধু পাবে না!” রাজবীরের জবাব, “আমার কোনো বন্ধুর দরকার নেই।” এরপরেই নন্দিনী ক্ষোভ উগরে দিয়ে রাজবীরের পৌরুষ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, “মেয়েদের সম্মান করতে জানো না? সম্মান করতে কি পৌরুষে আঘাত লাগে?” পাশ থেকে কে যেন বলে ওঠে, “ঠ্যাঁটা ছেলে!” পরিস্থিতি এতটাই জটিল হল যে সব মিলিয়ে গোটা ঘরে কার্যত যুদ্ধ শুরু হয়ে গেল। রাজবীরের এই রূপ নিছক নাটক না রণকৌশল, তা নিয়ে বিগ বসের অন্দরে জল এখন কতদূর গড়ায়, সেটাই দেখার।