
গত বছরের ২৪ নভেম্বর ৮৯ বছর বয়সে মুম্বইয়ের বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন বলিউডের ‘হিম্যান’ ধর্মেন্দ্র। তাঁর প্রয়াণের পর প্রায় মাস ছয়েক পার হতে চললেও শোক এখনও টাটকা দেওল পরিবারে। তবে এই ব্যক্তিগত ক্ষতিই এক করেছে ধর্মেন্দ্রর দুই পরিবারকে। অভিনেতা ববি দেওল জানিয়েছেন, শোকের এই পাহাড়প্রমাণ ভারই তাঁকে এষা এবং অহনা দেওলের সঙ্গে নতুন করে ভাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করেছে।
এক সাক্ষাৎকারে ৫৭ বছর বয়সী ববি জানান, তিনি এখনও বাবার প্রয়াণ মেনে নিতে পারছেন না। মাঝেমধ্যেই ইনস্টাগ্রামে বাবার পুরনো ভিডিও বা ‘রিলস’ দেখেন তিনি। ববির কথায়, “বাবা এতই সাবলীল ছিলেন যে ওই ভিডিওগুলো দেখলে মনে হয় বাবা সরাসরি আমার সাথেই কথা বলছেন। অনেক সময় আক্ষেপ হয়, কেন বাবার সাথে আরও বেশি সময় কাটালাম না, কেন আরও অনেক কিছু জিজ্ঞেস করলাম না!”
বাবার মৃত্যু ববির দুই ছেলের মধ্যেও এক ধরণের পরিপক্বতা এনেছে। জীবনের নশ্বরতা বুঝতে পেরে এখন তাঁরা পরিবারের সাথে অনেক বেশি সময় কাটান। এষা ও অহনার সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে ববি বলেন, “শোকের সময় একেকজন একেকভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায়। অনেক সময় একে অপরকে ভুল বোঝে, কারণ প্রত্যেকেরই মনে হয় তাঁর কষ্ট অন্যের চেয়ে বেশি। কিন্তু সময় সব ক্ষত সারিয়ে দেয়। এই ক্ষতিই আমাদের পরিবারকে আগের চেয়ে অনেক বেশি কাছাকাছি এনে দিয়েছে।”
বক্স অফিসের নম্বর বা ছবির সাফল্য এখন ববির কাছে গৌণ। তাঁর মতে, আসল সাফল্য হলো প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানো। ববি প্রশ্ন তোলেন, “যদি ভাগ করে নেওয়ার মতো আপন মানুষই পাশে না থাকে, তবে এই খ্যাতি বা প্রতিপত্তির কী মূল্য?” এখন তিনি নিজের স্ত্রী, সন্তান এবং পরিবারের প্রতিটি মুহূর্তকে আগলে রাখার চেষ্টা করেন।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি মুক্তি পেয়েছে ধর্মেন্দ্র অভিনীত শেষ ছবি ‘ইক্কিস’। শ্রীরাম রাঘবন পরিচালিত এই ছবিটি দর্শক ও সমালোচক উভয়েরই প্রশংসা কুড়িয়েছে। অভিনয়ের দীর্ঘ যাত্রার স্বীকৃতিস্বরূপ চলতি বছর মরণোত্তর ‘পদ্মবিভূষণ’ সম্মানে ভূষিত করা হয়েছে কিংবদন্তি এই অভিনেতাকে।