
দিওয়ালি ও কালীপুজোয় রাজপথে বাজি পোড়ানো বন্ধের বার্তা দেওয়ায় বিজেপির কয়েকজন নেতার কটাক্ষের মুখে পড়েছিলেন বলিউড অভিনেত্রী দিয়া মির্জা। এমনকী, বেশ কয়েকজন বিজেপি নেতা তাঁকে ‘হিন্দু-বিরোধী’ তকমাও দিয়েছিল। এবার সেই বিজেপি নেতাদের মন্তব্যে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বম্বে হাইকোর্ট। দিয়া মির্জার পাশে দাঁড়িয়ে হাইকোর্টের বিচারপতি নেতাদের মনে করিয়ে দিয়েছেন, “ভারত একটি ধর্মনিরপেক্ষ দেশ।”
বিচারপতি গিরিশ কুলকার্নি এবং বিচারপতি ডঃ নীলা গোখলের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছেন, পরিবেশ সুরক্ষা ও দূষণ নিয়ন্ত্রণের এই উদ্যোগকে কোনও বিশেষ ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখা অনুচিত।
কী ঘটেছে?
ঘটনার সূত্রপাত বৃহন্মুম্বাই মিউনিসিপাল কর্পোরেশনের (BMC) একটি জনসচেতনতামূলক ভিডিয়ো ঘিরে। আদালতের নির্দেশ মেনেই প্রকাশ্যে বাজি না ফাটানোর আবেদন জানিয়ে বিএমসি-র অনুরোধে ওই ভিডিয়োটিতে বার্তা দিয়েছিলেন দিয়া মির্জা। কিন্তু বিজেপি নেতাদের একাংশের আপত্তির মুখে পড়ে সেই ভিডিয়োটি নিজেদের সোশাল মিডিয়া হ্যান্ডেল থেকে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয় পুরসভা। দিয়া মির্জাকে “হিন্দু-বিরোধী” বলেও আক্রমণ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে বিজেপি নেতাদের একাংশের বিরুদ্ধে।
এই আচরণের কড়া সমালোচনা করে বিচারপতি কুলকার্নি বলেন, “আদালতের পূর্ববর্তী নির্দেশ না জেনেই এই ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করা হয়েছে। পরিবেশ দূষণ রোধে আদালত যে রায় দিয়েছিল, দিয়া মির্জা সেই বার্তাটিই খুব সুন্দরভাবে তুলে ধরেছিলেন। তাই তাঁর বিরুদ্ধে এই আপত্তি সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক।” তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন, দেশের সর্বোচ্চ আদালত ইতিমধ্যেই বলেছে যে দিওয়ালি উৎসব জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সবাই উদযাপন করেন। তাই ধর্মীয় কারণে এই সচেতনায় বাধা দেওয়া ভুল।
বিচাপতি নীলা গোখলে বলেন, “বিষয়টি সম্পূর্ণ পরিবেশ ও স্বাস্থ্য সম্পর্কিত। সবাই একই বাতাসে শ্বাস নেন, তাই বাজি পোড়ানো নিয়ন্ত্রণ করার মানে কারও উৎসব পালনের অধিকার কেড়ে নেওয়া নয়।”
আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, মুম্বইয়ের মতো শহর সব সম্প্রদায়কে একসঙ্গে নিয়ে চলতে বিশ্বাসী। সেখানে কিছু মানুষের মন্তব্যের কারণে এই ভারসাম্য নষ্ট হওয়া উচিত নয়। শেষমেশ বিএমসি-কে দিয়ার সেই ভিডিয়োটি পুনরায় আপলোড করার নির্দেশ দিয়েছে বম্বে হাইকোর্ট, যাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আদালতের প্রতি বিশ্বাস বজায় থাকে।