
তিনি অভিনেতা হারাধন বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুত্র। তাঁর নাম কৌশিক বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিনেতা বাবার পুত্র হওয়া সত্ত্বেও কোনওদিনই সেই পরিচয় ভাঙিয়ে কাজ পাওয়ার চেষ্টা করেননি কৌশিক। যতটুকু হয়েছে নিজের চেষ্টাতেই। নাট্যব্যক্তিত্ব এবং অভিনেতা উৎপল দত্ত তাঁকে বাড়িতে নিজে ডেকে এনে কাজ দিয়েছিলেন ছবিতে। এই কৌশিক ৯০ দশকের পর থেকে বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে চলেছেন। মূলত সিনেমার পর্দাতেই তাঁকে দেখা গিয়েছে শুরু থেকে। যাত্রাতেও তিনি জনপ্রিয়। কৌশিক অধিকাংশই অভিনয় করেছেন খলনায়কের চরিত্রে। এবং সেইসব চরিত্রে অভিনয় করে দারুণ সাফল্য পেয়েছেন তিনি। পর্দায় দুর্দান্ত ভিলেন বাস্তব জীবনে আবার এক্কেবারে মাটির মানুষ। কৌশিকের মতো ভাল মানুষ নাকি ইন্ডাস্ট্রিতে আর দুটো নেই। সমস্বরে সকলেই বলেন সেই কথা। তাঁর স্ত্রী অভিনেত্রী লাবণী সরকার সকলের সামনে স্বীকার করে নিয়েছিলেন কৌশিক একজন ভগবান তুল্য মানুষ। নিজের স্ত্রীর থেকে বাহবা পাওয়া, এর থেকে বড় কমপ্লিমেন্ট আর কী হতে পারে একজন মানুষের জীবনে!
কেবল লাবণী নন, ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই কৌশিকের সঙ্গে মুম্বই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির অভিনেতা প্রাণের তুলনা করেন। প্রাণ যেমন পর্দায় দুঁদে ভিলেন হওয়া সত্ত্বেও খুব ভাল মানুষ ছিলেন, তেমনটাই নাকি কৌশিক। কৌশিককে আবার অনেকে ভীতুও মনে করেন।
কৌশিক ভাগ্যে বিশ্বাস করেন। তাঁকে একবার এক সাক্ষাৎকারে জিজ্ঞেস করা হয়, ইন্ডাস্ট্রিতে কৌশিকের সহ-অভিনেতা অভিষেক চট্টোপাধ্যায় অভিযোগ তুলেছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় এবং ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত নাকি লবি চালাতেন। একই অভিযোগ কি কৌশিকও তুলবেন? উত্তর দিয়েছিলেন কৌশিক। জানিয়েছিলেন, একেবারেই সত্যি নয়। প্রসেনজিৎ এবং ঋতুপর্ণা তাঁর অত্যন্ত ভাল বন্ধু। তাঁর কোনওদিনও মনে হয়নি তাঁরা ইন্ডাস্ট্রিতে লবি চালান। অন্যদিকে অভিষেকও তাঁর ভাল বন্ধু। বলেছিলেন, “একটা কথা আমি বলতে পারি–মানুষ পৃথিবীতে নিজের ভাগ্য নিজে নিয়ে আসে। সেই ভাগ্য কেউ বদলাতে পারবে না। তাই কেউ কারও হয়ে লবিবাজি করতে পারে না।”