AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

‘চাঁদের পাহাড়’ নিয়ে সিনেমা করার কথা ছিল পরিচালক তরুণ মজুমদারের, কেন হল না?

সেই সময় একটা চল ছিল, সিনেমার মুক্তির সঙ্গে থাকত একটি বুকলেট। সাধারণত ছবির বিষয়ে কিছু তথ্য দেওয়া থাকত। সেই বুকলেটের পিছন পাতায় একটি ছবি ছাপা ছিল, যেখানে ঘন জঙ্গলে বাঘ, সিংহ , হরিণ সহ বিষধর সাপের ছবির সঙ্গে লেখা ছিল, বাংলা সিনেমার ইতিহাসে প্রথমবার আফ্রিকার জঙ্গলের গল্প নিয়ে তৈরি হবে ছবি নাম 'চাঁদের পাহার'।

'চাঁদের পাহাড়' নিয়ে সিনেমা করার কথা ছিল পরিচালক তরুণ মজুমদারের, কেন হল না?
| Edited By: | Updated on: Apr 25, 2026 | 11:39 PM
Share

চাঁদের পাহাড়’ ছবিটা ছোট থেকে বড় সবাই দেখেছে, হল ভরিয়ে দেখেছে। ২০১৩ সালে ছবিটি মুক্তি পায়। ছবির বুনিপকে নিয়ে অবশ্য একাধিক মিম রয়েছে। তবে গল্পটা একদম অন্য। এই ছবি যখন আফ্রিকার জঙ্গলে গিয়ে শুট হয়, ততদিনে বাংলা ছবির ইন্ডাস্ট্রির সেই পরিবেশ ও স্বচ্ছলতা হয়েছে। তবে অনেকেই হয়তো জানেন না পঞ্চাশ বছর আগেই বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালজয়ী উপন্যাস চাঁদের পাহাড়ের গল্পকে পর্দায় ফুটিয়ে তোলার প্রয়াস হয়েছিল। পরিচালক তরুণ সেই দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন। কেন হলনা সেই ছবি ? সমস্যা কী হয়েছিল? সেই গল্পের আগে অবশ্যই জেনে নিতে হবে লেখক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় কোনও দিন আফ্রিকা না গিয়েই সেই গল্প লিখেছিলেন। তেমন কিছু পত্রপত্রিকার লেখা পড়ে, সঙ্গে অবশ্যই ছিল অসম্ভব কল্পনা শক্তি। সেই গল্পে বহু কিশোর বুঁদ হয়ে থাকেন। সেই গল্প নিয়েই চিত্রনাট্য লিখে ফেলেছিলেন পরিচালক তরুণ মজুমদার।

১৯৭৫ সালে সেই সময় পরিচালকের ‘সংসার সীমান্তে’ মুক্তি পায়। সেই সময় একটা চল ছিল, সিনেমার মুক্তির সঙ্গে থাকত একটি বুকলেট। সাধারণত ছবির বিষয়ে কিছু তথ্য দেওয়া থাকত। সেই বুকলেটের পিছন পাতায় একটি ছবি ছাপা ছিল, যেখানে ঘন জঙ্গলে বাঘ, সিংহ , হরিণ সহ বিষধর সাপের ছবির সঙ্গে লেখা ছিল, বাংলা সিনেমার ইতিহাসে প্রথমবার আফ্রিকার জঙ্গলের গল্প নিয়ে তৈরি হবে ছবি নাম ‘চাঁদের পাহার’। ব্র্যাকেটে লেখাছিল, ‘সম্পূর্ণ রঙিন ছবি’। ছবিটি যে বেশ বড় বাজেটের ছিল , সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না।

Tarun Majumder (1)

বুকলেটের পিছন পাতায় একটি ছবি ছাপা ছিল, যেখানে ঘন জঙ্গলে বাঘ, সিংহ , হরিণ সহ বিষধর সাপের ছবির সঙ্গে লেখা ছিল, বাংলা সিনেমার ইতিহাসে প্রথমবার আফ্রিকার জঙ্গলের গল্প নিয়ে তৈরি হবে ছবি নাম ‘চাঁদের পাহার’।

বাঙালি দর্শকদের মনে উৎসাহ তৈরি করেছিল এই বিজ্ঞাপন। লেখকের কল্পনাকে পর্দায় হাজির করবেন পরিচালক তরুণ মজুমদার । অচেনা অজানা আফ্রিকার জঙ্গলে এক বাঙালি যুবক শঙ্কর অ্যাডভেঞ্চারে যাবেন। ছবির সেই ডাকাবুকো বাঙালি যুবকের চরিত্রে কে অভিনয় করত? সেটা এখন জানা সম্ভব নয়। কারণ ছবিটা তৈরি হতে পারেনি। কারণ এই ছবির প্রযোজক সুবির ঘোষের হঠাৎই জীবনাবসান হয়। শোনা যায়, এর পর আবারও অন্য প্রযোজককে নিয়ে এই ছবি তৈরির প্রয়াস করেন পরিচালক তবে তা বাস্তবায়িত হয়নি। তবে তরুণ মজুমদারের লেখা থেকেই জানা যায়, তিনি এই সিনেমার সম্পূর্ণ চিত্রনাট্য করে ফেলেছিলেন। তবে এই ছবির শুটিং করতে তিনি সুদূর আফ্রিকা পাড়ি দিতেন নাকি ভারতবর্ষের কোনও জঙ্গলকে বেছে নিতেন সেটা অজানাই থাকে। তবে এই ছবি যদি তৈরি হত তা অবশ্যই বাংলা সিনেমার ইতিহাসে মাইল ফলক হয়ে থাকতো সেকথা বলার অপেক্ষা রাখে না।

Follow Us