
বলিউডের গ্ল্যামার কুইন করিনা কাপুর খান—যাঁর এক ঝলক দেখতে আজও উন্মুখ হয়ে থাকেন লাখ লাখ অনুরাগী। কিন্তু জানেন কি, বলিপাড়ায় রাজত্ব করা এই নায়িকার আসল নাম কিন্তু আদতে ‘করিনা’ নয়! গণেশ চতুর্থীর বিশেষ দিনে জন্মানো বলিউডের ‘বেবো’র জন্য তাঁর দাদু, অর্থাৎ হিন্দি সিনেমার মহীরুহ রাজ কাপুর পছন্দ করেছিলেন এক আধ্যাত্মিক নাম। কিন্তু পরবর্তীতে সেই নাম পরিবর্তন করে দেন করিনার মা ববিতা। সম্প্রতি নেটপাড়ায় প্রকাশ্যে এসেছে কাপুর পরিবারের এই রোমাঞ্চকর অজানা তথ্য।
১৯৮০ সালের ২১ সেপ্টেম্বর, শুভ গণেশ চতুর্থীর দিন জন্ম হয় করিনা কাপুরের। আর তার ঠিক দিন ছয়েক আগেই কাপুর পরিবারে আলো করে এসেছিলেন ঋষি কাপুর ও নীতু কাপুরের কন্যাসন্তান—ঋদ্ধিমা কাপুর সাহনি। হিন্দু ধর্মে গণেশ পুজোর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে ‘ঋদ্ধি’ ও ‘সিদ্ধি’—এই দুই পবিত্র নাম। নাতনিদের জন্মের পর ঠাকুরদা রাজ কাপুর মূলত এই ধর্মীয় ঐতিহ্য থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই ঋষি-তনয়ার নাম রাখেন ‘ঋদ্ধিমা’ এবং রণধীর-তনয়ার নাম রাখেন ‘সিদ্ধিমা’।
নীতু কাপুর তাঁর মেয়ের নাম হিসেবে রাজ কাপুরের দেওয়া ‘ঋদ্ধিমা’ নামটিই বজায় রাখলেও, বেঁকে বসেন করিনার মা ববিতা। রণধীর কাপুরের প্রেগন্যান্ট স্ত্রী ববিতা তখন প্রখ্যাত রুশ সাহিত্যিক লিও টলস্তয়ের অমর উপন্যাস ‘আনা কারেনিনা’ (Anna Karenina) পড়তে খুব ভালোবাসতেন। উপন্যাসটি তাঁর মনে এতটাই প্রভাব ফেলেছিল যে, গর্ভস্থ সন্তানের জন্য সেখান থেকেই নামটি বেছে নেন তিনি। দাদুর দেওয়া ‘সিদ্ধিমা’ সরিয়ে রেখে ‘আনা কারেনিনা’র অনুকরণে ববিতা তাঁর ছোট মেয়ের নাম রাখেন ‘করিনা’ (Kareena)।
শুধু আসল নামই নয়, করিনার মিষ্টি ডাকনাম ‘বেবো’ কীভাবে এল, তা নিয়েও এক সাক্ষাৎকারে মুখ খুলেছিলেন অভিনেত্রী নিজেই। তিনি জানান, তাঁর বাবা রণধীর কাপুর বড় মেয়ে করিশ্মা কাপুরের ডাকনাম রেখেছিলেন ‘লোলো’। ছন্দের মিল রেখে ছোট মেয়ের আদুরে ডাকনাম দেওয়া হয় ‘বেবো’।
ব্যক্তিগত জীবনের এই পুরোনো গল্পের পাশাপাশি বর্তমানে নিজের কাজের জগতেও নতুন চমক নিয়ে আসছেন করিনা কাপুর খান। মেঘনা গুলজারের পরবর্তী ছবি ‘দায়রা’-য় অভিনয় করছেন তিনি। রুপোলি পর্দায় এবার এক ডাকাবুকো পুলিশ অফিসারের চরিত্রে দেখা মিলবে বি-টাউনের বেবোর, যা নিয়ে ইতোমধ্যেই ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে সিনেপ্রেমীদের মধ্যে।