
মুখটা ফ্যাকাসে হয়ে গিয়েছিল তাঁর। তাঁকে দেখে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও পর্যন্ত বলে উঠেছিলেন, "জয়িতা এত ছোট যে এই শোক..."। জয়িতা (সোমা) বসু, সম্পর্কে সদ্য প্রয়াত সঙ্গীতকার রশিদ খানের স্ত্রী।

জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত স্বামীকে আগলে রেখেছিলেন তিনি। এক দুই বছরের সম্পর্ক তো আর নয়। বহু দিনের সম্পর্ক তাঁদের। সেই কোন ছোটবেলায় বিয়ে।

২ ডিসেম্বর বিয়ের ৩২ বছর পূর্ণ করেছিলেন ওঁরা। তার মাত্র ২০ দিন পরেই যে ঘটে যাবে মর্মান্তিক ঘটনা, তা কী তাঁরা জানতেন? ২২ ডিসেম্বর ব্রেনস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন রশিদ খান।

খবরটা কাউকে জানতে দেননি জয়িতা। রোষের মুখেও পড়েন। অনেকেরই অভিযোগ ছিল কেন চুপ পরিবার? আজ জয়িতা একা। পাশে সকলে থাকলেও রশিদ নেই। যে মানুষটাকে ভালবেসে মাত্র ২০-২১ বছর বয়সেই নতুন পথচলা শুরু করেছিলেন তিনি।

স্ত্রীকে নিয়ে বরাবরই গর্বিত ছিলেন রশিদ। বছর দুয়েক আগে তাঁদের বিবাহবার্ষিকীতে হাজির ছিল প্রায় গোটা টলিউড। জিৎ গঙ্গোপাধ্যায় থেকে শুরু করে বাবুল সুপ্রিয়, রাজ চক্রবর্তী থেকে শুভশ্রী, কে ছিলেন না সেই আড্ডায়?

কিশোর কুমারের ‘হামে তুমসে প্যায়ার কিতনা’-র সঙ্গে ‘জ্যাম’, জয় সরকারের গিটার, বাবুল-অভিজিৎ-রশিদের গান... সে যুগলবন্দী আজও ভোলেননি কেউই।

সেবার স্ত্রীকে নিয়ে জিজ্ঞাসা করতেই সল্লজ্জ হেসে রশিদ বলেছিলেন, " ডিসেম্বর আমাদের বিয়ের তারিখ। একসঙ্গে ৩০টা বছর কাটিয়ে ফেলেছি আমি ও আমার স্ত্রী সোমা। দিনটা উদযাপন করতে অনেকেই এসেছিলেন আমার বাড়িতে। সকলেই খুব গুণী শিল্পী। অনেক গানবাজনা হয়েছে। মজা করেছি। খাওয়াদাওয়া হয়েছে।”

যোগ করেছিলেন,“অনেক তাড়াতাড়ি বিয়ে করে নিয়েছিলাম আমরা। ২২-২৩ বছর বয়স ছিল তখন। আমাদের অ্যারেঞ্জ-লাভ ম্যারেজ ছিল। ওঁকে একটাই কথা বলতে চাই, কাটিয়ে দিলাম ভাল করে।”

তবে ওই যে, জীবন সততা সুখের হয় না। রশিদ চলে গেলেন। জয়িতার আজ সম্বল স্মৃতি। থেকে গেলো তাঁর সুর। থেকে গেলো এত দিনের দাম্পত্য জীবনের নানা মুহূর্ত।