Exclusive: ‘নয় তুমি কারও সন্তান, নয় তুমি কারও স্ত্রী’, নারীদের পরিচয় নিয়ে আক্ষেপ কিরণের
Kiran Rao: নারী দিবসের প্রাক্কালে TV9 নেটওয়ার্কের এমডি ও সিইও বরুণ দাসের মুখোমুখি হলেন তিনিও। Duologue With Barun Das S3-র বিশেষ অতিথি ছিলেন কিরণ রাও। আর সেখানেই কথা প্রসঙ্গে তুললেন এক প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন।

তিনি কিরণ রাও। সুপারস্টার আমির খানের স্ত্রীর পরিচয় তাঁর কাছে এখন অতীত। কাজ, অধ্যবসায় দিয়ে তিনি নিজের পরিচিতি পাকা করেছেন। নারী হিসেবে তিনিও সাধারণের কাছে অনুপ্রেরণা। তাই নারী দিবসের প্রাক্কালে TV9 নেটওয়ার্কের এমডি ও সিইও বরুণ দাসের মুখোমুখি হলেন তিনিও। Duologue With Barun Das S3-র বিশেষ অতিথি ছিলেন কিরণ রাও। আর সেখানেই কথা প্রসঙ্গে তুললেন এক প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন।
এক নারীর পরিচয় কী? বিয়ের পর পাল্টে যায় তাঁর নিজের পদবীও। নয় সে কারও সন্তান, নয় কারও স্ত্রী, পরিচয় যেন সেখানেই বাঁধা। বরুণ দাসের মুখোমুখি হয়ে সেই যন্ত্রণার কথা শোনালেন কিরণ। বললেন, “সম্প্রতি আমি আমার লাইসেন্স পাল্টাতে চেয়েছিলাম। আমার লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে। সেখানে আমার পরিচয়ে লেখা ছিল W/O আমির খান। অর্থাৎ আমির খানের স্ত্রী। এখন আমার বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে গিয়েছে। তাই আমি নতুন করে আবেদন পত্র জমা দিয়েছি। এখন আবার আমায় লিখতে হবে আমার বাবার নাম। D/O…। আপনার পরিচয় সবসময় আপনার জীবনে থাকা পুরুষদ্বারা নির্ধারিত। অধিকাংশ নারীর ক্ষেত্রেই হয় তুমি কারও মেয়ে, নয় তুমি কারও স্ত্রী, নয় তুমি কারও সন্তানের মা। ফলে নারীদের পরিচয় কখনওই প্রথমধাপে আসে না। সেখান থেকেই যে কোনও আলোচনার সূত্রপাত ঘটে। আমরা তাঁদের সেই অধিকারটা দিয়েছি এই স্থানে বসার।”
সবটা শুনে বরুণ দাস বলেন, “সমাজ পাল্টাচ্ছে, একটা সময় ছিল পুরুষরা শক্তিশালী তাই তাঁরা শিকারে যাবে, নারীরা নয়। তবে এখন আর শারীরিক শক্তির বিচারে সমাজ চলে না। তবে সেই পরিবর্তনটা সম্পূর্ণভাবে এখনও ঘটেনি। তবে গোটা বিশ্ব যদি এই চিন্তাভাবনা থেকে পথচলা শুরু করে, তবে আমার বিশ্বাস পরিবর্তন ঘটবে।” উত্তরে কিরণের মত, “আমি সত্যি জানি না কবে এটা বদলাবে। মহিলারা নিজেরাই এমনটা মনে করেন, আমি কাজ করছি, পাশাপাশি সংসারও সামলাচ্ছি, আমি সুপারওম্যান। তাঁরা কখনই মনে করেন না যে তাঁরা ‘মিসইউস্ড’ হচ্ছেন। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন কেন প্রতিটা মহিলা কর্মক্ষেত্রে যোগ দিচ্ছেন না, পিছিয়ে যাচ্ছেন, আমি মনে করি– কীভাবে সম্ভব? তাহলে এই যে সমাজের রং, সংসার সেটা কোথায় যাবে? যেটা সবচেয়ে বড় অবৈতনিক কাজ। বিশেষ করে আমাদের দেশে। আপনাদের মতো মানুষেরা তো মেয়েদের জন্য কথা বলছেন, মেয়েদের সঙ্গে কথা বলছেন।”
