
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে টলিপাড়ার প্রতিটি বিভাগে প্রভাব পড়ছে। আগের রাজ্য সরকার টলিপাড়াকে বাইরে থেকে নিয়ন্ত্রণ করত এমনই অভিযোগ তুলছে প্রযোজক পরিবেশক থেকে অভিনেতারা। রাজনৈতিক পালা বদলের সঙ্গে সঙ্গেই টলি তারকা থেকে টেকনিশিয়ানেররা রাতারাতি ডিগবাজি খাচ্ছেন। যদিও নব নির্বাচিত বিজেপি সরকারের থেকে বারবার বার্তা দেওয়া হচ্ছে ভয় আউট ভরসা ইন। যেকোনও দলের বা মতাদর্শের মানুষ নির্ভয়ে কাজ করতে পারবে, টলিপাড়াকে রাজনীতি মুক্ত করতে হবে।
এই মর্মে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী টলিপাড়ার থেকে চার তারক যাঁরা নির্বাচিত হয়েছেন সেই বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ, রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, পাপিয়া অধিকারী ও হিরণ চট্টোপাধ্যায়কে নির্দেশ দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ তথ্য সংস্কৃতি দফতরের সচিবের সঙ্গে বসে সব কাজ যাতে সুষ্ঠ ভাবে হয় সেদিকে নজর দিতে। ইতিমধ্যেই ফেডারেশন, ইমপাতে নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে । সম্প্রতি ইমপার অফিসে ক্ষুব্ধ প্রযোজকরা চাইছে বর্তমান ইসি কমিটি ভেঙে নতুন কমিটি নির্বাচন করতে, সেই বিষয়ে আগামী ২২ মে হতে চলেছে ইমপার বৈঠক। ইতিমধ্যেই বৃহস্পতিবার ইমপার অফিসে হাজির হন পরিচালক গৌতম ঘোষ। তিনি বর্তমানে কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের চেয়ারম্যান। সঙ্গে কলকাতা শহরের নব নির্বাচিত শরিফ।
তিনি ইমপার অফিস এসে সাংবাদিকের জানালেন, ” আমি বহু বছর পর আবার ইমপার অফিসে এলাম। আগে পরিবেশ এতটাই খারাপ হয়ে গিয়েছিল, আসতে ইচ্ছা করত না। এই সংস্থা বহু পুরোনো ঐতিহ্য রয়েছে। কিছুদিন আগেই অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় বলেছিলেন, সিনেমার বাজেট জানতে চাইছে ফেডারেশন। এতো হওয়ার কথা নয়, এতদিনের অভিনেতা তাঁকে বলা হয়েছে। আমি চাই সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি নিজের মত চলুক। প্রযোজক, পরিবেশক, প্রদর্শকদের উপর কোনও চাপ যেন না দেওয়া হয়, বিপাকে ফেলা যেন না হয়। বাইরে থেকে লগ্নি না এলে প্রযোজক পরিবেশকদের ভবিপাকে ফেললে আমাদের ইন্ডাস্ট্রি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বাংলা সিনেমার অবস্থা এমনিতেই খারাপ। নতুন সরকারের কাছে অনুরোধ থাকবে বাংলা ইন্ডাস্ট্রি যেন ভালভাবে কাজ করতে পারে।”