গানের মঞ্চে মহিলাদের নিয়ে অশালীন মন্তব্য! আইনি বিপাকে গায়ক মাসুম শর্মা

উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুস্কর সিং ধামির উপস্থিতিতে শুরু হওয়া সেই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর চলে যাওয়ার পরেই সুর কাটল গায়ক মাসুম শর্মার আচরণে। অভিযোগ, মঞ্চ থেকে মহিলাদের উদ্দেশে অত্যন্ত কুরুচিকর ও অপমানজনক মন্তব্য করেন তিনি।

গানের মঞ্চে মহিলাদের নিয়ে অশালীন মন্তব্য! আইনি বিপাকে গায়ক মাসুম শর্মা

|

Apr 13, 2026 | 1:24 PM

কলেজের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত ছিলেন শিল্পী। গানে গানে মঞ্চ মাতানোর কথা ছিল তাঁর। কিন্তু গানের বদলে গায়কের মুখ থেকে বেরলো এমন কিছু মন্তব্য, যা মুহূর্তে কলঙ্কিত করল অনুষ্ঠানের পরিবেশকে। উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুস্কর সিং ধামির উপস্থিতিতে শুরু হওয়া সেই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর চলে যাওয়ার পরেই সুর কাটল গায়ক মাসুম শর্মার আচরণে। অভিযোগ, মঞ্চ থেকে মহিলাদের উদ্দেশে অত্যন্ত কুরুচিকর ও অপমানজনক মন্তব্য করেন তিনি।

ঘটনার গুরুত্ব বুঝে দেরাদুন পুলিশ ইতিমধ্যেই ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর একগুচ্ছ কড়া ধারায় মামলা রুজু করেছে। দালানওয়ালা থানায় দায়ের হওয়া এই মামলায় যুক্ত করা হয়েছে। ২৯৬ ধারা জনসমক্ষে অশ্লীল কাজ ও গান। ৭৯ ধারা: নারীজাতির মর্যাদাহানি ও অপমানজনক অঙ্গভঙ্গি। ৩৫২ ধারা: শান্তিভঙ্গের উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃত অপমান। ৩৫১(৩) ধারা: ফৌজদারি ভয়ভীতি প্রদর্শন।

ডিএভি কলেজের ছাত্র সংসদের বার্ষিক উৎসবে অজয় হুডার সঙ্গে পারফর্ম করছিলেন মাসুম। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, অনুষ্ঠানের শুরুতে মুখ্যমন্ত্রী উপস্থিত থাকলেও তিনি চলে যাওয়ার পরেই মাসুমের আচরণে আমূল বদল আসে। উপস্থিত পুলিশকর্মী, কলেজের অশিক্ষক কর্মী এবং বিশেষ করে ছাত্রীদের লক্ষ্য করে তিনি একের পর এক আপত্তিকর মন্তব্য করতে থাকেন। খানপুরের বিধায়ক উমেশ কুমার তাঁকে বারবার থামানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। গোটা ঘটনায় স্তম্ভিত ছাত্রছাত্রী ও কলেজ কর্তৃপক্ষ।

ঘটনার আঁচ পৌঁছেছে শিল্পীর নিজের রাজ্য হরিয়ানাতেও। হরিয়ানা রাজ্য মহিলা কমিশন এই বিষয়টি স্বতঃপ্রণোদিতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। ২০১২ সালের কমিশন আইন অনুযায়ী, মাসুম শর্মাকে আগামী ১৮ এপ্রিল সকাল ১১টায় পঞ্চকুলার দফতরে সশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেখানে তাঁকে নিজের আচরণের সপক্ষে বিস্তারিত ব্যাখ্যা জমা দিতে হবে। কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, নির্দেশ অমান্য করলে বা অপরাধ প্রমাণিত হলে কড়া শাস্তির মুখে পড়তে হবে এই গায়ককে।

বিতর্ক চরম আকার ধারণ করতেই পিছু হটেছেন মাসুম। একটি ভিডিও বার্তায় তিনি দাবি করেছেন, সে সময় তিনি চরম ‘মানসিক চাপে’ ছিলেন। কাউকে ব্যক্তিগতভাবে আঘাত করা বা কারও অনুভূতি ক্ষুণ্ণ করা তাঁর উদ্দেশ্য ছিল না বলে জানিয়ে তিনি নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন। যদিও দেরাদুন পুলিশ জানিয়েছে, স্রেফ ক্ষমাপ্রার্থনায় কাজ হবে না। ভিডিও ও অডিও রেকর্ডিং পরীক্ষা করে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। সুরের মঞ্চে একজন শিল্পীর এমন পদস্খলন নিয়ে এখন নিন্দার ঝড় সোশ্যাল মিডিয়ায়। ডিএভি কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্তে তাঁরা পুলিশকে সবরকম সহযোগিতা করবেন।

 

Follow Us